প্রান্তিক নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে আয়বৃদ্ধিমূলক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সমাজের প্রান্তিক নারীরা। তাই তাদের আয়মূলক কর্মকাণ্ড বাড়াতে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
মঙ্গলবার রাজধানীর রায়েরবাজারে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) আয়োজিত নারীদলের প্রশিক্ষণ সমাপনী ও আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
রায়েরবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেরুননেছার সভাপতিত্বে এবং বিএনপিএসের ঢাকা পশ্চিম কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. হেলাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সমাজসেবা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এম এ মান্নান মনির, লরেল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম এবং কমিউনিটি প্রতিনিধি শাহাদাৎ হোসেন সৈকতসহ অন্যান্য অতিথিরা।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারীরা নানা ধরনের সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। তাদের দৈনন্দিন জীবনে দেখা দিচ্ছে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, স্বাস্থ্যঝুঁকি, শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ঝরে পড়া, যৌন হয়রানি ও সহিংসতার মতো বহুমাত্রিক সমস্যা। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ, নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
তারা আরও বলেন, যথাযথ প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে নারীদের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে তারা নিজেদের পরিবার ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। অতীতে বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচির অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, যেসব এলাকায় সরকারি সহায়তা কর্মসূচি এখনো পৌঁছায়নি, সেখানে নারী প্রগতি সংঘের মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এসে সহায়তা দিচ্ছে। এই মানবিক উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করতে সমাজের সব স্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়, যা তাদের ক্ষুদ্র উদ্যোগ শুরু করতে সহায়ক হবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।

















