প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকারের যাত্রা
- আপডেট সময় : ০১:০১:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশে প্রায় দেড় বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরতির পর আজ (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের দিন। সকালে জাতীয় সংসদে নবনির্বাচিত এমপিরা শপথ গ্রহণ করেন।
আর বিকেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও শপথ পাঠ করাবেন।
বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান। দলের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব নেওয়ার অল্প দিনের মাথায় প্রথম নির্বাচনেই বাজিমাত করলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নিজে দুইটি আসনে জয়ী হওয়ার পাশাপাশি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দলকে নিয়ে গেলেন রাষ্ট্র ক্ষমতায়। অবশেষে গ্রহণ করলেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় উন্মুক্ত পরিসরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁকে শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। প্রচলিত রীতির বাইরে বঙ্গভবনের পরিবর্তে সংসদ প্রাঙ্গণে উন্মুক্ত আকাশের নিচে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা প্রতীকী স্বচ্ছতা ও জনসম্পৃক্ততার বার্তা” হিসেবে দেখছেন। একই দিনে সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন আহম্মদ।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, যা প্রশাসনিক ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত বহন করে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফল অনুযায়ী ২৯৭টির মধ্যে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তাদের মিত্র বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। এই ফলাফল আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন ভারসাম্যের সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার ও দীর্ঘ কারাবাসের পর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানো তারেক রহমান গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন। তাঁর রাজনৈতিক উত্থানকে অনেকে ব্যক্তিগত প্রতিকূলতা অতিক্রমের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র।
নির্বাচন ও একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন নজির স্থাপন করেছে। দক্ষিণ এশীয় কূটনৈতিক মহলে এখন নজর থাকবে, নতুন সরকার দিল্লি, বেইজিং ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে কীভাবে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখে। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের মধ্যে ভারত, চীন, মালদ্বীপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ও কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই শপথ অনুষ্ঠানটি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে একটি তাৎপর্যপূর্ণ উপস্থিতির মঞ্চে পরিণত হয়, যেখানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ নতুন সরকারের প্রতি আগ্রহ ও পর্যবেক্ষণের ইঙ্গিত বহন করে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রক, ডঃ খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট) পেয়েছেন বিদেশমন্ত্রকের দায়িত্ব, একই মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীরে দায়িত্ব পেয়েছেন, বিএনপি বিদেশ পরামর্শক কমিটির অন্যতম সদস্য এবং সরাসরি ভোটে নির্াচিত শামা ওবায়েত। অর্থ মন্ত্রকের দায়িত্ব পয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রকের দায়িত্ব পেয়েছেন-প্রতিমন্ত্রী অনিদ্য ইসলাম অমিত, জলসম্পদ মন্ত্রকের দায়িত্ব মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বাণিজ্য মন্ত্রকের দায়িত্ব পেয়েছেন মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ও প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম।
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। মঙ্গলবার পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বলেছেন, চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ এবং ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদার প্রতিবেশী। দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অনেক পুরনো। কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ৫১ বছরে চীন ও বাংলাদেশ সর্বদা একে অপরকে সমানভাবে সম্মান ও আচরণ করেছে, পারস্পরিকভাবে লাভজনক সহযোগিতা এবং জয়-জয়ের ফলাফল অনুসরণ করেছে।



















