পিছিয়ে পড়া নারীকে আলোকিত পথে এগিয়ে নিতে চান তুর্ণা
- আপডেট সময় : ০৮:৩৭:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৩১৪ বার পড়া হয়েছে
আমিনুল হক
বেশ ক’ বছর আগের কথা। জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রথম দেখা। তারপর মাঝে মাঝে হাই-হ্যালো। ব্যস্তাতা বেরসিক মানুষে পরিণত হয়েছি। জাতীয় প্রেসক্লাব বা অন্যান্য স্থানে সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্য সংশ্লিষ্ট কোন অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে দেখা হয়ে যায়। সামান্য কুশল বিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। মাঝে মাঝে দুরন্ত গতিতে বাইক চালিয়ে চলে যেতে দেখা যায় তাকে। আত্মাবিশ্বাসী এই নারীর চোখে মুখে পিছিয়ে পড়া নারীদের স্বাবলম্বি করার স্বপ্ন। তার ভাষায় অর্থনৈতিকভাবে নারী সমাজকে স্বাবলম্বি করা সম্ভব না হলে নারী মুক্তি শ্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকবে। বাধাগ্রস্ত হবে অর্থ-সামাজিক উন্নয়ন। নারী সমাজের উন্নয়নের কথা কেবল সভা-সেমিনারে সীমাবদ্ধ না রেখে আর্থসামাজিক উন্নয়নে নারীর অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
ঘরে বাইরে সমান তালে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে সমাজকর্মী রাজিয়া সুলতানা তুর্ণা। যুক্ত রয়েছেন লেখালেখিতেও। বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কাজ করে চলেছেন বন্ধু বাৎসল তুর্ণা। বলেন, দিন দিন কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। আকাশ থেকে পানির তলায় চ্যালেঞ্জিং পেশায় নারীরা সমান দক্ষতা রেখে চলেছেন। তুর্ণ ভাষায়, গবেষক, শিক্ষক, বিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার, উদ্যোক্তা, শিল্পী, সংবাদমাধ্যমকর্মী, পেশাদার গাড়ি চালনা থেকে শুরু কওে ট্রেন চালানোর দক্ষতায় নারী তার সফলতার ঝান্ড উড়িয়ে চলেছেন। নারীদের অবশ্যই সম্মান করতে হবে। আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হিসেবেও আশানুরুপ স্বাক্ষর রাখছেন আমাদের নারীরা। এক জরিপে আমরা দেখতে পাই ১ কোটি ৮৭ লাখ নারী কৃষি, শিল্প ও সেবা অর্থনীতির বৃহত্তর এই তিন খাতে যুক্ত রয়েছেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সার্ভে অব ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিজ জরিপের তথ্যমতে দেশে নারীর কর্মসংস্থান বাড়ছে। শিল্প খাতে নারীর অংশগ্রহণ ৪৪ শতাংশ। সংখ্যার হিসাবে তা ২৪ লাখ ৪ হাজার ৬৭১ জন। কিন্তু আমরা যদি পোশাক ও নির্মাণ শিল্পের দিকে চোখ রাখি তা হলে বিষয়টি সহজেই অনুমান করা সম্ভব হবে জানালেন তুর্ণা।

নিজেকে যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা, নিজের স্বপ্নকে ছোঁয়ার জন্য অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া জরুরি। আমরা নারীর সমতার কথা বলি, অধিকারের কথা বলি। সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলি, এ সবকিছুর মূলে রয়েছে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। গত দুই দশক ধরে নারীর জীবনযাত্রার মান এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতিমালার প্রভাব ক্রমান্বয়ে বেশি করে অনুভূত হচ্ছে। রাজিয়া সুলতানা তুর্ণা বলেন, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতা নারীর ক্ষমতায়ন, আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি এবং সমাজে নিজস্ব অধিকার প্রতিষ্ঠা করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। এটি নারীকে স্বাধীনতা দেয়, সহিংসতা প্রতিরোধে সক্ষম করে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখে, যা টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
নারী ও পুরুষের সমঅধিকার ও ক্ষমতায়ন একটি টেকসই ও উন্নত সমাজ গঠনের পূর্বশর্ত। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী নারী দেশের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হলে নারীরা আত্মবিশ্বাসী হন এবং তাদের নিজেদের সম্মান ও মর্যাদা বাড়ে, যা তাদের সমাজে সম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করে। তুর্ণা বলেন, নারীরা এখন কেবল গৃহস্থালি বা ঐতিহ্যবাহী পেশায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তারা শিক্ষক, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা, ব্যাংকার, শিল্পীসহ বিভিন্ন পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করছেন, যা তাদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করছে।
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নারীকে যেকোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ করার শক্তি যোগায়, কারণ তিনি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন এবং অন্য কারো উপর নির্ভরশীল থাকেন না। সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীসমাজকে স্বাবলম্বি করে ‘আলোকবর্তিকার পথে এগিয়ে নিতে’ চায় তুর্ণা।




















