ঢাকা ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইউএপির দুই শিক্ষককে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ইস্যুতে আজ কী সিদ্ধান্ত নেবে আইসিসি? ২২ জানুয়ারী মওলানা ভাসানীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৫৪তম বার্ষিকী বাংলাদেশে ১০ থেকে ১৫টি ব্যাংক থাকলেই যথেষ্ট: কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর মব সৃষ্টি করে জনমত প্রভাবিত করার দিন আর নেই: জামায়াত আমির বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাসহ বেনাপোলে এক বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাত্রী আটক বস্তিবাসীদের উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার আশ্বাস তারেক রহমানের চাপ তৈরি করে ভারতে খেলাতে বাধ্য করা যাবে না চানখাঁরপুল মামলার রায় ২৬ জানুয়ারি: মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার অপেক্ষায় দেশ ইরানে হামলা নিয়ে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর

পাখি মানবজন্ম 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৩:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৩ ২৬২ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস

কান্নাও লজ্জা পেয়ে গেলো। গালভরা গল্পের পাশে কিছুক্ষণ থমকে থাকলো।তার ওপর বিদায়ী শ্রাবণের আমের আচার শুকানো রোদে জল, খটখটে হয়ে নিজের আসনে বসলে গল্প শুরু হোলো।

তা কত্তা, আপনি কবে থেকে তরল দশা থেকে কঠিন দশায় এসে ডেরা বাঁধলেন?

রামবাবু বল্লেন, সে এক হাজার হাজার বছরের বছর আগের কথা।

গ্রামের নিঃসন্তান জমিদার গিন্নী যাচ্ছেন নাইওর। বোনপো’র মুখে ভাত। গরুর গাড়ি টোপরপানা ঝালরের জামা গায়ে লেপ্টে নিয়েছে। লাল লাল ঝালর বাতাসে উড়ছে। কোথা থেকে একটা বয়স্ক ফিঙে এসে গাড়ির একটা বলদের লিঙ্গের উপরে ঝড় তুলে বসতেই, বলদের লিঙ্গের উত্থাপন দেখা গেলো। ঝালরের চিকের আড়ালে হরিণ চোখের তারায় গিন্নি সব দেখলেন।

জমিদার ঠাকুরদালান থেকে হুঙ্কার ছাড়লেন – গাড়ি হাঁকাও ৃ.
এই, হ্যাট হ্যাট হ্যাট! ডাঁহে ডাঁহে.. বাঁহে….

বর্ষার জল পাওয়া টইটুম্বুর নয়নজুলির দিকে তাকিয়ে চোখ ফেরাতে পারছেনা অকৃতদার গাড়োয়ান গফুর। বলদ জোড়া তো হা হতভম্ব! কোথায় নৃসিংহবাটি গ্রাম! এযে বংশীবাদনপুরের নয়নজুলির জলে ডুবে মরণ!

গিন্নিমা প্রথমে তার সোনার রুলিবালা পড়া হাত এগিয়ে দিলেন গফুরের দিকে।গফুরও যেমনি তার হাতটা দিয়ে আস্তে আস্তে গিন্নি মাকে মাটিতে নামাবেন, অমনি নথবালি দুলানো ঝুমকোলতা দুল পরিহিতা গিন্নি, গফুরের বক্ষবন্ধনে আবৃত হয়ে গেলো।

ফুঁপানো কান্নায় দশদিক কাঁপিয়ে বৃষ্টি এলো। বৃষ্টি ভেজা কদমগাছ হাসছে। মুখ টিপে টিপে সলজ্জভাবে বলদ জোড়া কাম ভাবে লেজের আগা দিয়ে তলপেটে সুরসুরি খাচ্ছে।

পেছনে, জমিদারের সন্দেহের উৎপত্তিস্থল থেকে পিছু নেওয়া আরও এক মহা ক্রোধের নপুংসক ক্লীব তস্কর বাঘের ডাকের গাড়ি।
মেঘ ডাকলো গর্জন করে। আকাশ ফালাফালা করা বজ্রপাতের চমক –
সপাং সপাং সপাং..
যে রাম সেই রহিম।সেই হরি, সেই আবার গফুর।
জমিদারের কাচারি ঘরের বিচার সভায়, বামুন হয়ে চাঁদে হাত!
চোখের বাঁধভাঙা জল জমাট বাঁধতে শুরু করলো তখন থেকে।

প্রতিজ্ঞাবাক্য –
আমার / আমাদের মতো খেটে-খাওয়া কামলাদের জন্য এই জমাট জল থেকে একদিন নাকের নথবালি হবে। রুলি বালা হবে। ঝুমকোলতা দুল হবে। চক দালান হবে। আর হুঙ্কার হবে – বেড়িয়ে আসুন গিন্নিমা! আপনাকে আর আমার দেওয়া নয়নজলের সন্তানসহ নিয়ে যাবো আপনাকে আমি বহুদূর ভবিষ্যতের দিকে।

এসব কথা শুনে গালভরা গল্পের পেছনে দাঁড়িয়ে কদমগাছ হাসছে সবুজ রং ঢেলে দিয়ে পাতায় পাতায়।

পাখিদের মধ্যে বিচিত্র টানাপোড়েনে কখনো পাখিরা শুন্যে ভেসে যায়। তখন তারা শুধুই পাখি। কখনও তারা আবার যোগী সাজা ব্যাধের চক্ষুমুদিত ধ্যানমগ্ন শরীরে একজন দুজন করে বসতে বসতে, তারা পাখি মানব। এই যেমন কদমগাছটা যেদিন বংশীবাদনপুরের একমাত্র বাঁশি বাজিয়ে ছিলো, তখন গাছ, বাঁশির সুরে পাখিদের বশ করতো। পাখিরাও বশ্যতা স্বীকারের মানদণ্ড দিয়ে বিচার করে নিতো, এই কদম গাছটা সত্যিকারেরই বৃন্দাদূত। আর পাখিরাও..
( ক্রমশঃ)

শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পাখি মানবজন্ম 

আপডেট সময় : ০২:২৩:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৩
শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস

কান্নাও লজ্জা পেয়ে গেলো। গালভরা গল্পের পাশে কিছুক্ষণ থমকে থাকলো।তার ওপর বিদায়ী শ্রাবণের আমের আচার শুকানো রোদে জল, খটখটে হয়ে নিজের আসনে বসলে গল্প শুরু হোলো।

তা কত্তা, আপনি কবে থেকে তরল দশা থেকে কঠিন দশায় এসে ডেরা বাঁধলেন?

রামবাবু বল্লেন, সে এক হাজার হাজার বছরের বছর আগের কথা।

গ্রামের নিঃসন্তান জমিদার গিন্নী যাচ্ছেন নাইওর। বোনপো’র মুখে ভাত। গরুর গাড়ি টোপরপানা ঝালরের জামা গায়ে লেপ্টে নিয়েছে। লাল লাল ঝালর বাতাসে উড়ছে। কোথা থেকে একটা বয়স্ক ফিঙে এসে গাড়ির একটা বলদের লিঙ্গের উপরে ঝড় তুলে বসতেই, বলদের লিঙ্গের উত্থাপন দেখা গেলো। ঝালরের চিকের আড়ালে হরিণ চোখের তারায় গিন্নি সব দেখলেন।

জমিদার ঠাকুরদালান থেকে হুঙ্কার ছাড়লেন – গাড়ি হাঁকাও ৃ.
এই, হ্যাট হ্যাট হ্যাট! ডাঁহে ডাঁহে.. বাঁহে….

বর্ষার জল পাওয়া টইটুম্বুর নয়নজুলির দিকে তাকিয়ে চোখ ফেরাতে পারছেনা অকৃতদার গাড়োয়ান গফুর। বলদ জোড়া তো হা হতভম্ব! কোথায় নৃসিংহবাটি গ্রাম! এযে বংশীবাদনপুরের নয়নজুলির জলে ডুবে মরণ!

গিন্নিমা প্রথমে তার সোনার রুলিবালা পড়া হাত এগিয়ে দিলেন গফুরের দিকে।গফুরও যেমনি তার হাতটা দিয়ে আস্তে আস্তে গিন্নি মাকে মাটিতে নামাবেন, অমনি নথবালি দুলানো ঝুমকোলতা দুল পরিহিতা গিন্নি, গফুরের বক্ষবন্ধনে আবৃত হয়ে গেলো।

ফুঁপানো কান্নায় দশদিক কাঁপিয়ে বৃষ্টি এলো। বৃষ্টি ভেজা কদমগাছ হাসছে। মুখ টিপে টিপে সলজ্জভাবে বলদ জোড়া কাম ভাবে লেজের আগা দিয়ে তলপেটে সুরসুরি খাচ্ছে।

পেছনে, জমিদারের সন্দেহের উৎপত্তিস্থল থেকে পিছু নেওয়া আরও এক মহা ক্রোধের নপুংসক ক্লীব তস্কর বাঘের ডাকের গাড়ি।
মেঘ ডাকলো গর্জন করে। আকাশ ফালাফালা করা বজ্রপাতের চমক –
সপাং সপাং সপাং..
যে রাম সেই রহিম।সেই হরি, সেই আবার গফুর।
জমিদারের কাচারি ঘরের বিচার সভায়, বামুন হয়ে চাঁদে হাত!
চোখের বাঁধভাঙা জল জমাট বাঁধতে শুরু করলো তখন থেকে।

প্রতিজ্ঞাবাক্য –
আমার / আমাদের মতো খেটে-খাওয়া কামলাদের জন্য এই জমাট জল থেকে একদিন নাকের নথবালি হবে। রুলি বালা হবে। ঝুমকোলতা দুল হবে। চক দালান হবে। আর হুঙ্কার হবে – বেড়িয়ে আসুন গিন্নিমা! আপনাকে আর আমার দেওয়া নয়নজলের সন্তানসহ নিয়ে যাবো আপনাকে আমি বহুদূর ভবিষ্যতের দিকে।

এসব কথা শুনে গালভরা গল্পের পেছনে দাঁড়িয়ে কদমগাছ হাসছে সবুজ রং ঢেলে দিয়ে পাতায় পাতায়।

পাখিদের মধ্যে বিচিত্র টানাপোড়েনে কখনো পাখিরা শুন্যে ভেসে যায়। তখন তারা শুধুই পাখি। কখনও তারা আবার যোগী সাজা ব্যাধের চক্ষুমুদিত ধ্যানমগ্ন শরীরে একজন দুজন করে বসতে বসতে, তারা পাখি মানব। এই যেমন কদমগাছটা যেদিন বংশীবাদনপুরের একমাত্র বাঁশি বাজিয়ে ছিলো, তখন গাছ, বাঁশির সুরে পাখিদের বশ করতো। পাখিরাও বশ্যতা স্বীকারের মানদণ্ড দিয়ে বিচার করে নিতো, এই কদম গাছটা সত্যিকারেরই বৃন্দাদূত। আর পাখিরাও..
( ক্রমশঃ)

শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস