ঢাকা ১২:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভারতের হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন, ৩ নবজাতকের মৃত্যু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদের দায়িত্ব বণ্টন ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকির জবাবে তেল রপ্তানি বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের জবানবন্দি গ্রহণে গুরুতর ত্রুটি ১৬ বছর পর উচ্চ আদালতের পদক্ষেপ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মানুষের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক দৃঢ় করাই তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব : তথ্যমন্ত্রী নৌ ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বুড়িগঙ্গায় বর্ণাঢ্য নৌকা বাইচ ঐতিহ্যের রঙে মুখর রাজধানী

পাখি মানবজন্ম 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৩:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৩ ৩০৮ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস

কান্নাও লজ্জা পেয়ে গেলো। গালভরা গল্পের পাশে কিছুক্ষণ থমকে থাকলো।তার ওপর বিদায়ী শ্রাবণের আমের আচার শুকানো রোদে জল, খটখটে হয়ে নিজের আসনে বসলে গল্প শুরু হোলো।

তা কত্তা, আপনি কবে থেকে তরল দশা থেকে কঠিন দশায় এসে ডেরা বাঁধলেন?

রামবাবু বল্লেন, সে এক হাজার হাজার বছরের বছর আগের কথা।

গ্রামের নিঃসন্তান জমিদার গিন্নী যাচ্ছেন নাইওর। বোনপো’র মুখে ভাত। গরুর গাড়ি টোপরপানা ঝালরের জামা গায়ে লেপ্টে নিয়েছে। লাল লাল ঝালর বাতাসে উড়ছে। কোথা থেকে একটা বয়স্ক ফিঙে এসে গাড়ির একটা বলদের লিঙ্গের উপরে ঝড় তুলে বসতেই, বলদের লিঙ্গের উত্থাপন দেখা গেলো। ঝালরের চিকের আড়ালে হরিণ চোখের তারায় গিন্নি সব দেখলেন।

জমিদার ঠাকুরদালান থেকে হুঙ্কার ছাড়লেন – গাড়ি হাঁকাও ৃ.
এই, হ্যাট হ্যাট হ্যাট! ডাঁহে ডাঁহে.. বাঁহে….

বর্ষার জল পাওয়া টইটুম্বুর নয়নজুলির দিকে তাকিয়ে চোখ ফেরাতে পারছেনা অকৃতদার গাড়োয়ান গফুর। বলদ জোড়া তো হা হতভম্ব! কোথায় নৃসিংহবাটি গ্রাম! এযে বংশীবাদনপুরের নয়নজুলির জলে ডুবে মরণ!

গিন্নিমা প্রথমে তার সোনার রুলিবালা পড়া হাত এগিয়ে দিলেন গফুরের দিকে।গফুরও যেমনি তার হাতটা দিয়ে আস্তে আস্তে গিন্নি মাকে মাটিতে নামাবেন, অমনি নথবালি দুলানো ঝুমকোলতা দুল পরিহিতা গিন্নি, গফুরের বক্ষবন্ধনে আবৃত হয়ে গেলো।

ফুঁপানো কান্নায় দশদিক কাঁপিয়ে বৃষ্টি এলো। বৃষ্টি ভেজা কদমগাছ হাসছে। মুখ টিপে টিপে সলজ্জভাবে বলদ জোড়া কাম ভাবে লেজের আগা দিয়ে তলপেটে সুরসুরি খাচ্ছে।

পেছনে, জমিদারের সন্দেহের উৎপত্তিস্থল থেকে পিছু নেওয়া আরও এক মহা ক্রোধের নপুংসক ক্লীব তস্কর বাঘের ডাকের গাড়ি।
মেঘ ডাকলো গর্জন করে। আকাশ ফালাফালা করা বজ্রপাতের চমক –
সপাং সপাং সপাং..
যে রাম সেই রহিম।সেই হরি, সেই আবার গফুর।
জমিদারের কাচারি ঘরের বিচার সভায়, বামুন হয়ে চাঁদে হাত!
চোখের বাঁধভাঙা জল জমাট বাঁধতে শুরু করলো তখন থেকে।

প্রতিজ্ঞাবাক্য –
আমার / আমাদের মতো খেটে-খাওয়া কামলাদের জন্য এই জমাট জল থেকে একদিন নাকের নথবালি হবে। রুলি বালা হবে। ঝুমকোলতা দুল হবে। চক দালান হবে। আর হুঙ্কার হবে – বেড়িয়ে আসুন গিন্নিমা! আপনাকে আর আমার দেওয়া নয়নজলের সন্তানসহ নিয়ে যাবো আপনাকে আমি বহুদূর ভবিষ্যতের দিকে।

এসব কথা শুনে গালভরা গল্পের পেছনে দাঁড়িয়ে কদমগাছ হাসছে সবুজ রং ঢেলে দিয়ে পাতায় পাতায়।

পাখিদের মধ্যে বিচিত্র টানাপোড়েনে কখনো পাখিরা শুন্যে ভেসে যায়। তখন তারা শুধুই পাখি। কখনও তারা আবার যোগী সাজা ব্যাধের চক্ষুমুদিত ধ্যানমগ্ন শরীরে একজন দুজন করে বসতে বসতে, তারা পাখি মানব। এই যেমন কদমগাছটা যেদিন বংশীবাদনপুরের একমাত্র বাঁশি বাজিয়ে ছিলো, তখন গাছ, বাঁশির সুরে পাখিদের বশ করতো। পাখিরাও বশ্যতা স্বীকারের মানদণ্ড দিয়ে বিচার করে নিতো, এই কদম গাছটা সত্যিকারেরই বৃন্দাদূত। আর পাখিরাও..
( ক্রমশঃ)

শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পাখি মানবজন্ম 

আপডেট সময় : ০২:২৩:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৩
শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস

কান্নাও লজ্জা পেয়ে গেলো। গালভরা গল্পের পাশে কিছুক্ষণ থমকে থাকলো।তার ওপর বিদায়ী শ্রাবণের আমের আচার শুকানো রোদে জল, খটখটে হয়ে নিজের আসনে বসলে গল্প শুরু হোলো।

তা কত্তা, আপনি কবে থেকে তরল দশা থেকে কঠিন দশায় এসে ডেরা বাঁধলেন?

রামবাবু বল্লেন, সে এক হাজার হাজার বছরের বছর আগের কথা।

গ্রামের নিঃসন্তান জমিদার গিন্নী যাচ্ছেন নাইওর। বোনপো’র মুখে ভাত। গরুর গাড়ি টোপরপানা ঝালরের জামা গায়ে লেপ্টে নিয়েছে। লাল লাল ঝালর বাতাসে উড়ছে। কোথা থেকে একটা বয়স্ক ফিঙে এসে গাড়ির একটা বলদের লিঙ্গের উপরে ঝড় তুলে বসতেই, বলদের লিঙ্গের উত্থাপন দেখা গেলো। ঝালরের চিকের আড়ালে হরিণ চোখের তারায় গিন্নি সব দেখলেন।

জমিদার ঠাকুরদালান থেকে হুঙ্কার ছাড়লেন – গাড়ি হাঁকাও ৃ.
এই, হ্যাট হ্যাট হ্যাট! ডাঁহে ডাঁহে.. বাঁহে….

বর্ষার জল পাওয়া টইটুম্বুর নয়নজুলির দিকে তাকিয়ে চোখ ফেরাতে পারছেনা অকৃতদার গাড়োয়ান গফুর। বলদ জোড়া তো হা হতভম্ব! কোথায় নৃসিংহবাটি গ্রাম! এযে বংশীবাদনপুরের নয়নজুলির জলে ডুবে মরণ!

গিন্নিমা প্রথমে তার সোনার রুলিবালা পড়া হাত এগিয়ে দিলেন গফুরের দিকে।গফুরও যেমনি তার হাতটা দিয়ে আস্তে আস্তে গিন্নি মাকে মাটিতে নামাবেন, অমনি নথবালি দুলানো ঝুমকোলতা দুল পরিহিতা গিন্নি, গফুরের বক্ষবন্ধনে আবৃত হয়ে গেলো।

ফুঁপানো কান্নায় দশদিক কাঁপিয়ে বৃষ্টি এলো। বৃষ্টি ভেজা কদমগাছ হাসছে। মুখ টিপে টিপে সলজ্জভাবে বলদ জোড়া কাম ভাবে লেজের আগা দিয়ে তলপেটে সুরসুরি খাচ্ছে।

পেছনে, জমিদারের সন্দেহের উৎপত্তিস্থল থেকে পিছু নেওয়া আরও এক মহা ক্রোধের নপুংসক ক্লীব তস্কর বাঘের ডাকের গাড়ি।
মেঘ ডাকলো গর্জন করে। আকাশ ফালাফালা করা বজ্রপাতের চমক –
সপাং সপাং সপাং..
যে রাম সেই রহিম।সেই হরি, সেই আবার গফুর।
জমিদারের কাচারি ঘরের বিচার সভায়, বামুন হয়ে চাঁদে হাত!
চোখের বাঁধভাঙা জল জমাট বাঁধতে শুরু করলো তখন থেকে।

প্রতিজ্ঞাবাক্য –
আমার / আমাদের মতো খেটে-খাওয়া কামলাদের জন্য এই জমাট জল থেকে একদিন নাকের নথবালি হবে। রুলি বালা হবে। ঝুমকোলতা দুল হবে। চক দালান হবে। আর হুঙ্কার হবে – বেড়িয়ে আসুন গিন্নিমা! আপনাকে আর আমার দেওয়া নয়নজলের সন্তানসহ নিয়ে যাবো আপনাকে আমি বহুদূর ভবিষ্যতের দিকে।

এসব কথা শুনে গালভরা গল্পের পেছনে দাঁড়িয়ে কদমগাছ হাসছে সবুজ রং ঢেলে দিয়ে পাতায় পাতায়।

পাখিদের মধ্যে বিচিত্র টানাপোড়েনে কখনো পাখিরা শুন্যে ভেসে যায়। তখন তারা শুধুই পাখি। কখনও তারা আবার যোগী সাজা ব্যাধের চক্ষুমুদিত ধ্যানমগ্ন শরীরে একজন দুজন করে বসতে বসতে, তারা পাখি মানব। এই যেমন কদমগাছটা যেদিন বংশীবাদনপুরের একমাত্র বাঁশি বাজিয়ে ছিলো, তখন গাছ, বাঁশির সুরে পাখিদের বশ করতো। পাখিরাও বশ্যতা স্বীকারের মানদণ্ড দিয়ে বিচার করে নিতো, এই কদম গাছটা সত্যিকারেরই বৃন্দাদূত। আর পাখিরাও..
( ক্রমশঃ)

শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস