পদ্মায় ডুবলো ৪০ যাত্রীসহ বাস, বহু হতাহতের শঙ্কা!
- আপডেট সময় : ০৭:১৩:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
পদ্মা পারে এখন শোকের মাতম। প্রায় ৪০ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকামুখো একটি বাস ফেরিতে ওঠতে গিয়ে পদ্মায় পড়ে গিয়ে ডুবে যায়। দুর্ঘটনার আকস্মিকতায় কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘটে যায় এই বিপর্যয়।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাটের এজিএম সালাহউদ্দিন জানান, সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার নাগাদ যাত্রী নিয়ে ফেরিতে ওঠছিল।
এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে যায়। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে নৌ-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এখন পর্যন্ত দুজন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাকিদের খোঁজে চলছে প্রাণপণ চেষ্টা। নদীর ঘোলা জল ও স্রোতের কারণে উদ্ধারকাজে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে বুধবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র বলছে, ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুনে ফেরিতে ওঠার সময় ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা। দুর্ঘটনার পরপরই এলাকাজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া, আর স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পদ্মা পাড়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সৌহার্দ পরিবহন-এর বাসটি যাত্রী নিয়ে পন্টুন থেকে ফেরিতে উঠছিল।
হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি পাশের দিকে হেলে পড়ে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যেই নদীতে তলিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই ঘাট এলাকায় ভিড় করেন স্থানীয় লোকজন ও নিখোঁজদের স্বজনরা। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন, প্রিয়জনের কোনো খোঁজ না পেয়ে ছুটে বেড়ান এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। কারও মোবাইল ফোন বন্ধ, কারও কোনো সাড়া নেই, অনিশ্চয়তার এই সময় যেন প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে উঠেছে অসহনীয়।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পন্টুনে ওঠার সময় ভারসাম্য হারানো বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই বাসটি নদীতে পড়ে যেতে পারে।
উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সঠিক সংখ্যা জানা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, নদীপথে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এখন অপেক্ষা আরও কতজনকে জীবিত উদ্ধার করা যায়, আর কত পরিবারকে শুনতে হবে না ফেরার বেদনার খবর।



















