তারেক রহমান: নির্বাসন থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদে
- আপডেট সময় : ০৮:১৩:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
দলের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব নেওয়ার অল্প দিনের মাথায় প্রথম নির্বাচনে বিপুল জয় অর্জন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নিজে দুটি আসনে জয়ী হওয়ার পাশাপাশি দলকে সংখ্যাগরিষ্ঠভাবে রাষ্ট্রক্ষমতায় নিয়ে গেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি সংসদ নেতা এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় শুরু হলো, যা ‘তারেক যুগ’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে মায়ের মৃত্যুর পর দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন তিনি। নির্বাচনে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সমর্থন পেয়ে তিনি ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ভবিষ্যতের রাষ্ট্রনেতা হিসেবে তার পথচলা স্পষ্ট এবং দেশের দায়িত্ব নিতে তিনি প্রস্তুত।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন সহজ ছিল না। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে আটক হন। এরপর ১৮ মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে সপরিবারে লন্ডনে চলে যান। প্রায় ১৭ বছর পর ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে আসেন। দেশে ফিরে প্রথমে মায়ের শারীরিক অবনতি এবং মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও বাবা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করেন। এরপরই শুরু করেন রাজনৈতিক কার্যক্রম।
তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিতে সক্রিয়। ২০০১ সালে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মনোনীত হন। ২০১৮ সালে মায়ের আটককালে দলটি তার নেতৃত্বে পরিচালিত হতো। নির্বাচনের আগে তার বিরুদ্ধে থাকা ৭৭টি মামলা থেকে সব খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন।
তফসিল ঘোষণার পর থেকে তিনি সার্বক্ষণিক নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন। স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জায়মা জারনাজও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। যদিও প্রধান প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ নির্বাচনে উপস্থিত ছিল না, তবু পুরোনো মিত্র জামায়াতের বিরুদ্ধে নির্বাচনী লড়াই করতে হয়েছে। সব অনিশ্চয়তা কাটিয়ে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং দেশের নেতৃত্বে আসে।



















