ডিম-মুরগির বাজারে ধস: সিন্ডিকেট নাকি উৎপাদন বেশি
- আপডেট সময় : ০৭:৫৩:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫ ২৩২ বার পড়া হয়েছে
চাহিদা জোগানের নামে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত সরবরাহ বাড়িয়ে ক্ষুদ্র মাঝারি উদ্যোক্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ তোলেন বাংলাদেশ পোট্রিশিল্প অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদার। নিজ এবং সংগঠনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এসব কথা লিখেন।
তিনি লিখেন, বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্প বর্তমানে এক সংকটপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা প্রান্তিক খামারিদের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুরগির বাচ্চা, ফিড, ওষুধ এবং অন্যান্য উৎপাদন খরচ বহন করে ডিম ও মুরগি উৎপাদন করলেও খামারিরা বাজারে তাদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ডিম ও মুরগির বাজার এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত করছে, যেখানে তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতি, কর্পোরেট কোম্পানি এবং একাধিক সিন্ডিকেট তাদের ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করছেন। ফলে, খামারিরা বড় ধরনের লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে এবং তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে কম দামে।
তিনি আরও লিখেন, মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং চাহিদা যোগানের অজুহাত তুলে সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে এবং বাজারের সরবরাহ বাড়িয়ে পণ্যগুলোর দাম বেড়ে যাচ্ছে। দিনের বাজার ও রাতের বাজার কৌশল দিয়ে এই সিন্ডিকেট বাজারকে ম্যানিপুলেট করছে।
সুমন হাওলাদার লিখেন, তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতি এবং অন্যান্য পাইকারি সিন্ডিকেট খামারিদের কাছ থেকে কম দামে ডিম কিনে, রাতের বেলায় মূল্য নির্ধারণ করে এবং দিনে তা উচ্চ দামে বিক্রি করে, যা খামারিদের জন্য ক্ষতিকর এবং ভোক্তাদের জন্য অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি করছে।
তিনি লিখেছেন, প্রান্তিক খামারিরা সবসময় অবহেলিত থাকে, বিশেষ করে যখন মুরগির বাচ্চার দাম বাড়ানো হয়। মুরগির বাচ্চার দাম যখন ৮০-১০০ টাকা হয়, তখন খামারিরা অতিরিক্ত খরচ করে মুরগি উৎপাদন শুরু করে।
কিন্তু কয়েক মাস পর সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত বাচ্চা বাজারে সরবরাহ করে দাম কমিয়ে দেয়, ফলে খামারিরা তাদের উৎপাদিত মুরগি কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। এইভাবে কর্পোরেট কোম্পানিগুলি বাজারে নিজেদের মুনাফা নিশ্চিত করে, কিন্তু প্রান্তিক খামারিরা এই সিন্ডিকেটের শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ডিমের উৎপাদন খরচ ১০ টাকা ২৯ পয়সা থেকে ১০ টাকা ৫০ পয়সা হলেও খামারিরা তা মাত্র ৬-৮ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, যার ফলে প্রতি ডিমে ২-৩ টাকা লোকসান হচ্ছে। সিন্ডিকেট, বিশেষ করে তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতি, বাজারে রাতের বেলায় দাম নির্ধারণ করে, যা সকালে খামারিদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতি বাজারের স্বচ্ছতা নষ্ট করছে এবং ভোক্তাদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত মুনাফা আদায় করা হচ্ছে।
সরকারের ডিমের দাম নির্ধারণ করলেও তা বাজারে কার্যকর হচ্ছে না। সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজারকে অস্থিতিশীল করে, যার ফলে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতি এবং অন্যান্য সিন্ডিকেট শক্তিশালী হয়ে উঠেছে এবং বাজারের দাম তাদের ইচ্ছেমতো নির্ধারণ করছে। এর ফলে, সাধারণ ভোক্তা অতিরিক্ত দামে ডিম কিনতে বাধ্য হচ্ছে এবং খামারিরা তাদের উৎপাদিত পণ্য ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না।

সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছে। তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির স্বেচ্ছাচারী দাম নির্ধারণের ক্ষমতা বাতিল করতে হবে এবং বাজারে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু মূল্য নির্ধারণের জন্য স্বাধীন পর্যবেক্ষক সংস্থা গঠন করতে হবে।
প্রান্তিক খামারিদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ চালু করতে হবে, যাতে তারা এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে পারে এবং তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হয়।
যদি সিন্ডিকেটের কার্যক্রম বন্ধ না হলে লক্ষ লক্ষ প্রান্তিক খামারি দেউলিয়া হয়ে যাবে এবং দেশের পোল্ট্রি শিল্প ধ্বংসের দিকে চলে যাবে। তাতে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য পোল্ট্রি পণ্যের দাম আরো অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে এবং দেশের অর্থনীতি আরও সংকটাপন্ন হবে।
তাই, বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছে, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে এবং খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে।
প্রান্তিক খামারিদের রক্ষা করা গেলে, দেশের পোল্ট্রি শিল্প বাঁচবে এবং সাধারণ জনগণও ন্যায্য দামে ডিম এবং মুরগি কিনতে পারবে।




















