জাতীয় সংসদ ভবন দক্ষিণ প্লাজায় এমপি ও মন্ত্রিসভার শপথে বর্ণাঢ্য আয়োজন
- আপডেট সময় : ০৯:৫৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৭৮ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু
আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রারুয়ারি) জধানীর জাতীয় সংসদ ভবন-এর দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে অনুষ্ঠিত হবে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। বিকেল ৪টায় প্রথমে প্রধানমন্ত্রী এবং পরে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা শপথ নেবেন। এর আগে সকাল ১০টায় একই প্রাঙ্গণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে।
পরে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের কর্মসূচি রয়েছে। দুপুর ১২টায় সরকারি দলের সভাকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সংসদীয় সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দলনেতা নির্বাচন করা হবে।
প্রচলিত রীতি ভেঙে বঙ্গভবনের বাইরে দক্ষিণ প্লাজায় শপথ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির মতে, জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু।
ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ, গণঅভ্যুত্থান, জুলাই সনদ স্বাক্ষর ও ঘোষণাপত্র পাঠসহ নানা ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি বহন করে দক্ষিণ প্লাজা। এখানেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে প্রস্তুতির বিষয়ে সোমবার বিকেলে ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে যান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি জানান, মঙ্গলবার সকালে দুই দফায় সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ এবং বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে।
মন্ত্রীদের জন্য গাড়ি, দেহরক্ষী, বাসস্থান, দপ্তর প্রস্তুত ও প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগসহ প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
নতুন সরকারের সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ২০০ দেশি-বিদেশি অতিথির উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে।
বিদেশি অতিথিদের মধ্যে থাকছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল এবং যুক্তরাজ্যের ইন্দো-প্যাসিফিকবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রাসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা।
তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে কিছু সাংবিধানিক প্রশ্ন উঠেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিদ্যমান সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে সংসদ সদস্যদের শপথের বিধান রয়েছে, তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের উল্লেখ নেই। তিনি জানান, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএসএম নাসির উদ্দীন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াতে পারেন।
সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, শপথের সার্বিক আয়োজন প্রটোকল, নিরাপত্তা, অতিথি আপ্যায়ন ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাসহ সম্পন্ন হয়েছে। ভবনের ভেতরে-বাইরে পরিচ্ছন্নতা ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতিও শেষ।
শপথ উপলক্ষে কড়াকড়ি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও লেক রোড এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দিয়েছে। খেজুরবাগান ক্রসিং থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং জুলাই স্মৃতি জাদুঘর (গণভবন ক্রসিং) থেকে উড়োজাহাজ ক্রসিং পর্যন্ত যান চলাচল সীমিত থাকবে।
নির্বাচন কমিশন ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফল গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। এতে বিএনপি ২০৯ আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে বসতে যাচ্ছে।




















