আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটাররা দুটি ভিন্ন ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট দেবেন, তবে উভয় ভোট একই ব্যালট বক্সে জমা দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপার হবে সাদা রঙের এবং গণভোটের ব্যালট পেপার হবে গোলাপি রঙের। উভয় ব্যালটে সিল ব্যবহার করে ভোট প্রদানের পর তা নির্ধারিত একই ব্যালট বক্সে ফেলতে হবে। পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে ভোটাররা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’–এর পাশে টিক (✓) বা ক্রস (✗) চিহ্ন দিয়ে ভোট দেবেন।
ভোটগ্রহণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। ইসি সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত গণভোট পরিপত্র মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে। পরিপত্রে ভোটগ্রহণ পদ্ধতি, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নিয়োগ, ফলাফল প্রস্তুত ও প্রকাশ, এবং ফলাফল একত্রীকরণ সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গণভোটের বিষয় হলো ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’। ভোটাররা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে এ সনদ ও সংশ্লিষ্ট সংবিধান সংস্কারের প্রতি সম্মতি জানাবেন। এতে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, দুই কক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ, নারী প্রতিনিধির সংখ্যা বৃদ্ধি, বিরোধী দলের জন্য ডেপুটি স্পীকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মেয়াদসহ মোট ৩০টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গণভোট সংক্রান্ত কোনো আলাদা বিধিমালা না থাকায় ভোটগ্রহণ থেকে ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত সব কার্যক্রম একই কর্মকর্তারা পরিচালনা করবেন যারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্বে রয়েছেন। একই ভোটকেন্দ্র, একই ভোটার তালিকা ও প্রায় পৌনে ১৩ কোটি ভোটার এতে অংশগ্রহণ করবেন।
ভোটগ্রহণ শেষ হলে প্রিজাইডিং অফিসার ভোটকেন্দ্র বা পোস্টাল ভোট গণনা কেন্দ্রে উপস্থিত প্রার্থী এজেন্টদের সামনে ব্যালট বক্স খোলবেন। এরপর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট এবং গণভোটের ব্যালট আলাদা করে গণনা করা হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট প্রার্থীভিত্তিক গণনা হবে, আর গণভোটের ব্যালট ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’–এর ভিত্তিতে গণনা করা হবে। এই পদ্ধতি নিশ্চিত করবে যে দুই কার্যক্রম স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে। সূত্র: টিবিএস