ইরানে হামলার সুযোগ খুঁজছে ইসরায়েল: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১২:৪৭:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর সুযোগ খুঁজছে। তিনি এ বিষয়ে নিজের গভীর উদ্বেগ ইতোমধ্যে তেহরানের নেতৃত্বকে জানিয়ে দিয়েছেন।
শুক্রবার তুরস্কের সংবাদমাধ্যম এনটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, গত বছরের ৩০ নভেম্বর তেহরানে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনেই তিনি এই সতর্কবার্তা দেন। তার মতে, ইসরায়েল যদি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে আরও ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
ফিদান বলেন, আমি আশা করি তারা অন্য কোনো পথ বেছে নেবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ইসরায়েল বিশেষভাবে ইরানের ওপর হামলা চালানোর সুযোগ খুঁজছে।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক তেহরান সফরের সময় ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে বন্ধু হিসেবে নিজের উদ্বেগ স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। ফিদানের ভাষায়, বন্ধুরা সব সময় তিতা সত্যটাই বলে।
এর আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। ওই আলোচনায় এরদোয়ান জানান, তুরস্ক ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধী এবং প্রতিবেশী দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।
এদিকে ইরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরানের ওপর যেকোনো ধরনের হামলাকে তারা ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করবেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে, তবে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। আমাদের সেনাবাহিনী যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত এবং দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে শক্তিশালী নৌবহর পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীসহ সহযোগী যুদ্ধজাহাজগুলো দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, হামলা সীমিত হোক বা ব্যাপক, যেকোনো আক্রমণকেই তারা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হিসেবে দেখবেন এবং চূড়ান্তভাবে এর মোকাবিলা করবেন।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে বড় পরিসরে নৌবাহিনীর শক্তি জড়ো করেছিল। ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাতের সময় ইসরায়েলকে সহায়তা দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই ওই নৌশক্তি বৃদ্ধি করা হয়েছিল।



















