ঢাকা ০৪:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পশ্চিমবঙ্গের মুড়িগঙ্গা নদীতে ডুবে গেল বাংলাদেশি জাহাজ, উদ্ধার ১২ জন অস্ট্রেলিয়ায় হাঙরের কামড়ে আহত কিশোরের মৃত্যু বাংলাদেশ ক্রিকেট ইস্যুতে মন্তব্যের পর ভারতে মুসলিম অভিনেতা কেআরকের গ্রেফতার, বিতর্ক তুঙ্গে ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির অভিযোগ জামায়াতের ‘রাজনৈতিক অপপ্রচার’: বিএনপি বেনাপোল বন্দরে পাসপোর্টধারী যাতায়াতের তথ্য ইরানে হামলার সুযোগ খুঁজছে ইসরায়েল: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের হারে ইতিহাসের চাবিকাঠি বাংলাদেশের হাতে তরুণদের কর্মসংস্থান ও বস্তিবাসীর পুনর্বাসনে কাজ করবে বিএনপি: তারেক রহমান ঢাকায় অনুষ্ঠিত এশিয়ার সর্ববৃহৎ সরস্বতী পূজা, ‘গ্রিনেসবুকে’ নাম লিখানোর উদ্যোগ রমজানের আগে বাজারে মূল্যচাপ, নিত্যপণ্যে ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত

আফগানিস্তান ফেরত ব্যক্তিরা দেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে গ্রেপ্তার : ডিএমপি কমিশনার

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:১৮:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ অগাস্ট ২০২১ ২৪৪ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গোয়েন্দাদের কাছ থেকেই জানা যাবে বাংলাদেশ থেকে কতজন আফগানিস্তানে গিয়েছে কিংবা সেখানে কতজন অবস্থান করছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে আফগানিস্তান থেকে আমাদের বলা হয়নি কতজন বাংলাদেশি তাদের দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছে বা আটক হয়ে কারাগারে রয়েছে। এসব নিয়ে

দেশে যারা কাজ করছে তারা সতর্ক রয়েছে। আফগানিস্তানফেরতরা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলেই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। সোমবার মহানগর পুলিশের সদর (ডিএমপি) দপ্তর কার্যালয়ে

সাংবাদিককের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। হঠাৎ কারও সন্তান বা পড়ুয়াকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বা কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি

থেকে চলে গিয়েছে এবং কারোর সঙ্গে যোগাযোগ পর্যন্ত করচ্ছে না তাহলে বিষয়ে দ্রুত পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন মহানগর পুলিশ প্রধান।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, তালেবানরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নেওয়ার পরই ঘোষণা করবে তারা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র। তারা আমেরিকাকে যুদ্ধে পরাজিত করে আফগানিস্তানকে স্বাধীন

করেছে। এমন পরিস্থিতিতে যুবকদের ভেতর (যারা জিহাদ করতে চায়) একটা উৎসাহ জাগবে। এই ঢেউ উপমহাদেশসহ সব দেশেই লাগবে।

এজন্য আমাদের প্রস্তুত থাকা দরকার এবং আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যে ঢেউটা শুরু হবে তা মোকাবিলার জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

শুধু পুলিশের একার পক্ষে নয়, এজন্য প্রত্যেক অভিভাবক ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রত্যেককে সহযোগিতা করা উচিত।

শফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের যে বিষয়টি সেটি পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, যখন আফগানিস্তানে রাশিয়ান হস্তক্ষেপ হলো, ঠিক সেই সময় বিধর্মীদের পবিত্র ভূমি

থেকে বিতাড়িত করার জন্য জিহাদের ডাক দেওয়া হলো। আশির দশকে বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলমান এটাকে ইমানি দায়িত্ব মনে করে আফগানিস্তানে যুদ্ধ করতে যায়।

সেই যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার পর বাংলাদেশে ফিরে এসে অনেকেই প্রকাশ্যে মিছিল করার সাহসও দেখিয়েছে। আফগানিস্তানফেরত বাংলাদেশিরাই পরে হরকাতুল জিহাদ (হুজি) ও জেএমবিসহ

একাধিক জঙ্গিগোষ্ঠী তৈরি করেছিল। এসব জঙ্গিগোষ্ঠী তৈরির প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল তারা কাশ্মীরে গিয়ে যুদ্ধ করবে। তারা আফগানিস্তানে যুদ্ধ করে জয় লাভ করেছে তারা কাশ্মীরে গিয়ে

যুদ্ধ করেও জয়লাভ করবে বলে এমন ধারণা ছিল। এরপর নানাবিধ কারণে তারা কাশ্মীরে সফল হতে পারেনি জানাল ডিএমপি কমিশনার।

আর এসব ব্যক্তিরাই বাংলাদেশে খিলাফত কায়েমের জন্য আন্দোলন শুরু করে। ২০০৫ সালে দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ঘটনার পরে জঙ্গি সংগঠনগুলোকে মোটামুটি প্রায় নিয়ন্ত্রণে

নিয়ে এসেছে পুলিশ। হঠাৎ করে ইরাকে মার্কিন হস্তক্ষেপ হলো এবং আন্তর্জাতিকভাবে সাহায্য-সহযোগিতার মাধ্যমে আইএসের উদ্ভব হয়।

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, আইএসের উদ্ভব হওয়ার পর বাংলাদেশে দ্বিতীয় দফা জঙ্গি সংগঠন তৈরি হয়। আইএস ভাবাদর্শের নব্য জেএমবি। বাংলাদেশে জঙ্গিদের যে উত্থান হচ্ছে তা

সবসময়ই আন্তর্জাতিক কোনো ঘটনার প্রেক্ষাপটে উৎসাহ পাচ্ছে। সেই অনুযায়ী সংগঠনগুলো সেভাবে তৈরি করছে ও মানুষকে সেভাবে আহ্বান করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আফগানিস্তান ফেরত ব্যক্তিরা দেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে গ্রেপ্তার : ডিএমপি কমিশনার

আপডেট সময় : ০৭:১৮:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ অগাস্ট ২০২১

গোয়েন্দাদের কাছ থেকেই জানা যাবে বাংলাদেশ থেকে কতজন আফগানিস্তানে গিয়েছে কিংবা সেখানে কতজন অবস্থান করছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে আফগানিস্তান থেকে আমাদের বলা হয়নি কতজন বাংলাদেশি তাদের দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছে বা আটক হয়ে কারাগারে রয়েছে। এসব নিয়ে

দেশে যারা কাজ করছে তারা সতর্ক রয়েছে। আফগানিস্তানফেরতরা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলেই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। সোমবার মহানগর পুলিশের সদর (ডিএমপি) দপ্তর কার্যালয়ে

সাংবাদিককের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। হঠাৎ কারও সন্তান বা পড়ুয়াকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বা কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি

থেকে চলে গিয়েছে এবং কারোর সঙ্গে যোগাযোগ পর্যন্ত করচ্ছে না তাহলে বিষয়ে দ্রুত পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন মহানগর পুলিশ প্রধান।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, তালেবানরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নেওয়ার পরই ঘোষণা করবে তারা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র। তারা আমেরিকাকে যুদ্ধে পরাজিত করে আফগানিস্তানকে স্বাধীন

করেছে। এমন পরিস্থিতিতে যুবকদের ভেতর (যারা জিহাদ করতে চায়) একটা উৎসাহ জাগবে। এই ঢেউ উপমহাদেশসহ সব দেশেই লাগবে।

এজন্য আমাদের প্রস্তুত থাকা দরকার এবং আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যে ঢেউটা শুরু হবে তা মোকাবিলার জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

শুধু পুলিশের একার পক্ষে নয়, এজন্য প্রত্যেক অভিভাবক ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রত্যেককে সহযোগিতা করা উচিত।

শফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের যে বিষয়টি সেটি পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, যখন আফগানিস্তানে রাশিয়ান হস্তক্ষেপ হলো, ঠিক সেই সময় বিধর্মীদের পবিত্র ভূমি

থেকে বিতাড়িত করার জন্য জিহাদের ডাক দেওয়া হলো। আশির দশকে বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলমান এটাকে ইমানি দায়িত্ব মনে করে আফগানিস্তানে যুদ্ধ করতে যায়।

সেই যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার পর বাংলাদেশে ফিরে এসে অনেকেই প্রকাশ্যে মিছিল করার সাহসও দেখিয়েছে। আফগানিস্তানফেরত বাংলাদেশিরাই পরে হরকাতুল জিহাদ (হুজি) ও জেএমবিসহ

একাধিক জঙ্গিগোষ্ঠী তৈরি করেছিল। এসব জঙ্গিগোষ্ঠী তৈরির প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল তারা কাশ্মীরে গিয়ে যুদ্ধ করবে। তারা আফগানিস্তানে যুদ্ধ করে জয় লাভ করেছে তারা কাশ্মীরে গিয়ে

যুদ্ধ করেও জয়লাভ করবে বলে এমন ধারণা ছিল। এরপর নানাবিধ কারণে তারা কাশ্মীরে সফল হতে পারেনি জানাল ডিএমপি কমিশনার।

আর এসব ব্যক্তিরাই বাংলাদেশে খিলাফত কায়েমের জন্য আন্দোলন শুরু করে। ২০০৫ সালে দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ঘটনার পরে জঙ্গি সংগঠনগুলোকে মোটামুটি প্রায় নিয়ন্ত্রণে

নিয়ে এসেছে পুলিশ। হঠাৎ করে ইরাকে মার্কিন হস্তক্ষেপ হলো এবং আন্তর্জাতিকভাবে সাহায্য-সহযোগিতার মাধ্যমে আইএসের উদ্ভব হয়।

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, আইএসের উদ্ভব হওয়ার পর বাংলাদেশে দ্বিতীয় দফা জঙ্গি সংগঠন তৈরি হয়। আইএস ভাবাদর্শের নব্য জেএমবি। বাংলাদেশে জঙ্গিদের যে উত্থান হচ্ছে তা

সবসময়ই আন্তর্জাতিক কোনো ঘটনার প্রেক্ষাপটে উৎসাহ পাচ্ছে। সেই অনুযায়ী সংগঠনগুলো সেভাবে তৈরি করছে ও মানুষকে সেভাবে আহ্বান করছে।