ঢাকা ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাউলের দাম বৃদ্ধির খবরে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রথানমন্ত্রীর নির্দেশ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ নয় জানতে চেয়ে হাই কোর্টের রুল সৌদিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা দূতাবাসের ঈদযাত্রা ঘিরে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু, টার্মিনাল ও স্টেশনে ভিড় দুবাই ছাড়তে ধনকুবেরদের হুড়োহুড়ি, প্রাইভেট জেটের ভাড়া কয়েক গুণ বৃদ্ধি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে গতি আনতে একমত ঢাকা-দিল্লি চাঁদাবাজি-ছিনতাই দমনে জিরো টলারেন্স: মাঠ পর্যায়ে কঠোর বার্তা আইজিপির কুয়েতে তিন মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, কারণ জানাল যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের ‘নাম্বার ওয়ান প্রায়োরিটি’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি জাহানারা আরজু আর নেই

আফগানিস্তানে সন্ত্রাসী তালেবানদের ক্ষমতাদখলে বাংলাদেশের জঙ্গি সন্ত্রাসীরা উল্লসিত হয়েছে

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:১৭:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৩১৭ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সিলেট জেলা শাখার ওয়েবিনার

নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি লেখক ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেছেন, ইসলামের নামে সন্ত্রাস কত ব্যাপক ও ভয়াবহ হতে পারে আমরা পঁচিশ বছর আগে আফগানিস্তানে মোল্লা উমরের তালেবানি শাসনকালে দেখেছি।

সেই সময় বাংলাদেশের জঙ্গি মৌলবাদী সন্ত্রাসীরা তথাকথিত আফগান জিহাদে অংশগ্রহণের জন্য দলে দলে সে দেশে গিয়েছিল। তারাই ফিরে এসে তারা শ্লোগান দিয়েছিল, ‘আমরা সবাই তালেবান, বাংলা হবে আফগান।’ পঁচিশ বছর পর আফগানিস্তানে সন্ত্রাসীরা তালেবানদের অবৈধ

ক্ষমতা দখলে বাংলাদেশে স্বাধীনতাবিরোধী, জঙ্গি মৌলবাদী সন্ত্রাসীরা আবারও উল্লসিত হয়েছে। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মারাত্মক ভাইরাসের মতো বিস্তার লাভ করছে। শনিবার এক সংবাদ বার্তায় এ কথা জানানো হয়।

সংবাদ বার্তায় বলা হয়, পাকিস্তান ও আমেরিকার প্রত্যক্ষ মদদ ও সার্বিক সহযোগিতা ছাড়া আফগানিস্তানে তালেবান কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে আল কায়দা, আইএসআইএস কখনও এত শক্তিশালী হতে পারত না। পশ্চিমারা বলছে অতীতের তালেবানরা খারাপ ছিল। এখনকার তালেবানরা ভাল।

সন্ত্রাসীদের যেমন কোনও ধর্ম নেই, তাদের ভেতর ‘ভালো’ খুঁজতে যাওয়ার চেষ্টা নিকৃষ্ট প্রতারণার নামান্তর।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে ‘আফগানিস্তানে ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদ: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়। নির্মূল কমিটির সিলেট জেলা

শাখার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত চক্রবর্ত্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উল্লেখ কথা বলেন শাহরিয়ার কবির।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, নির্মূল কমিটির চিকিৎসা সহায়ক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব,

নির্মূল কমিটির যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি সৈয়দ এনামুল ইসলাম, সিলেট প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক তাপস দাস, অধ্যাপক পরিমল কান্তি দে, সিলেট জেলার অতিরিক্ত পিপি

এডভোকেট কিশোর কর ও সিলেট জেলা যুবলীগের সভাপতি শামীম আহমেদসহ সংগঠনের সিলেট জেলার নেতৃবৃন্দ।

শাহরিয়ার কবির বলেন, তালেবানদের দর্শন হচ্ছে মওদুদি, হাসান বান্না, বিন ওহাবের রাজনৈতিক ইসলাম, যার নমুনা আমরা ’ ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের এদেশীয়

সহযোগী জামায়াতে ইসলামীদের নৃশংস গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে প্রত্যক্ষ করেছি।

‘ইসলামের নামে তালেবান, আলকায়দা, আইএস এবং তাদের এদেশীয় দোসরদের বিরুদ্ধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে জনমত গড়ে তুলতে হবে। তালেবানরা আফগানিস্তানে মানবতার বিরুদ্ধে

অপরাধ করছে। আফগানিস্তানে অবৈধ সন্ত্রাসী তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি প্রদান মানবতাবিরোধী অপরাধের সমতুল্য। নির্মূল কমিটি আফগানিস্তান ও অন্যান্য দেশের সমমনা

ব্যক্তি ও সংগঠনসমূহকে সঙ্গে নিয়ে তালেবানদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমত সংগঠনে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ভাষাভিত্তিক বাঙালি জাতীয়তাবাদের সূতিকাগার, মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি ও দেশীয় তালেবানিদের কারবালাখ্যাত এই সিলেটে

তালেবান গোষ্ঠী যখন প্রকাশ্যে ‘আমরা সবাই তালেবান, বাংলা হবে আফগান’ শ্লোগান দেয়, শহীদজননীর নামে হলের নামকরণ বন্ধ করতে সারা শহরকে জিম্মি করে রাখে মাসের পর মাস,

তালেবানি আমির আব্দুর রহমান সিলেটকে বেছে নেয় সেইফ হেভেন হিসাবে। গ্রেনেড হামলা করে বৃটিশ হাইকমিশনারের ওপর, বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অনন্ত বিজয়কে হত্যা করে, শিববাড়িতে সশস্ত্র আস্তানা গড়ে তোলে, তখন আমরা উদ্বিগ্ন হই।

নির্মূল কমিটির চিকিৎসা সহায়ক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. মামুন আল মাহতাব বলেন, ‘আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থানে বাংলাদেশে আপাতত ব্যাকফুটে থাকা সাম্প্রদায়িক শক্তি

যেমন উৎসাহিত হচ্ছে, তেমনি মৌলবাদের ঘাড়ে সাওয়ার হয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার দিবাস্বপ্নে যারা বিভোর, উৎসাহিত হচ্ছেন তারাও। বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের অন্য জায়গাটি হলো

আফগানিস্তানের সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে আঞ্চলিক জঙ্গিশক্তিগুলোও বাংলাদেশে আবার নতুন করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে এবং এ নিয়ে জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। এই

জটিল সমীকরণ মেলাতে হলে সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের সক্রিয়তা এবং সরকারের সাথে তাদের সহযোগিতার কোনও বিকল্প নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আফগানিস্তানে সন্ত্রাসী তালেবানদের ক্ষমতাদখলে বাংলাদেশের জঙ্গি সন্ত্রাসীরা উল্লসিত হয়েছে

আপডেট সময় : ০৯:১৭:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সিলেট জেলা শাখার ওয়েবিনার

নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি লেখক ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেছেন, ইসলামের নামে সন্ত্রাস কত ব্যাপক ও ভয়াবহ হতে পারে আমরা পঁচিশ বছর আগে আফগানিস্তানে মোল্লা উমরের তালেবানি শাসনকালে দেখেছি।

সেই সময় বাংলাদেশের জঙ্গি মৌলবাদী সন্ত্রাসীরা তথাকথিত আফগান জিহাদে অংশগ্রহণের জন্য দলে দলে সে দেশে গিয়েছিল। তারাই ফিরে এসে তারা শ্লোগান দিয়েছিল, ‘আমরা সবাই তালেবান, বাংলা হবে আফগান।’ পঁচিশ বছর পর আফগানিস্তানে সন্ত্রাসীরা তালেবানদের অবৈধ

ক্ষমতা দখলে বাংলাদেশে স্বাধীনতাবিরোধী, জঙ্গি মৌলবাদী সন্ত্রাসীরা আবারও উল্লসিত হয়েছে। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মারাত্মক ভাইরাসের মতো বিস্তার লাভ করছে। শনিবার এক সংবাদ বার্তায় এ কথা জানানো হয়।

সংবাদ বার্তায় বলা হয়, পাকিস্তান ও আমেরিকার প্রত্যক্ষ মদদ ও সার্বিক সহযোগিতা ছাড়া আফগানিস্তানে তালেবান কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে আল কায়দা, আইএসআইএস কখনও এত শক্তিশালী হতে পারত না। পশ্চিমারা বলছে অতীতের তালেবানরা খারাপ ছিল। এখনকার তালেবানরা ভাল।

সন্ত্রাসীদের যেমন কোনও ধর্ম নেই, তাদের ভেতর ‘ভালো’ খুঁজতে যাওয়ার চেষ্টা নিকৃষ্ট প্রতারণার নামান্তর।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে ‘আফগানিস্তানে ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদ: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়। নির্মূল কমিটির সিলেট জেলা

শাখার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত চক্রবর্ত্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উল্লেখ কথা বলেন শাহরিয়ার কবির।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, নির্মূল কমিটির চিকিৎসা সহায়ক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব,

নির্মূল কমিটির যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি সৈয়দ এনামুল ইসলাম, সিলেট প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক তাপস দাস, অধ্যাপক পরিমল কান্তি দে, সিলেট জেলার অতিরিক্ত পিপি

এডভোকেট কিশোর কর ও সিলেট জেলা যুবলীগের সভাপতি শামীম আহমেদসহ সংগঠনের সিলেট জেলার নেতৃবৃন্দ।

শাহরিয়ার কবির বলেন, তালেবানদের দর্শন হচ্ছে মওদুদি, হাসান বান্না, বিন ওহাবের রাজনৈতিক ইসলাম, যার নমুনা আমরা ’ ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের এদেশীয়

সহযোগী জামায়াতে ইসলামীদের নৃশংস গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে প্রত্যক্ষ করেছি।

‘ইসলামের নামে তালেবান, আলকায়দা, আইএস এবং তাদের এদেশীয় দোসরদের বিরুদ্ধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে জনমত গড়ে তুলতে হবে। তালেবানরা আফগানিস্তানে মানবতার বিরুদ্ধে

অপরাধ করছে। আফগানিস্তানে অবৈধ সন্ত্রাসী তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি প্রদান মানবতাবিরোধী অপরাধের সমতুল্য। নির্মূল কমিটি আফগানিস্তান ও অন্যান্য দেশের সমমনা

ব্যক্তি ও সংগঠনসমূহকে সঙ্গে নিয়ে তালেবানদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমত সংগঠনে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ভাষাভিত্তিক বাঙালি জাতীয়তাবাদের সূতিকাগার, মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি ও দেশীয় তালেবানিদের কারবালাখ্যাত এই সিলেটে

তালেবান গোষ্ঠী যখন প্রকাশ্যে ‘আমরা সবাই তালেবান, বাংলা হবে আফগান’ শ্লোগান দেয়, শহীদজননীর নামে হলের নামকরণ বন্ধ করতে সারা শহরকে জিম্মি করে রাখে মাসের পর মাস,

তালেবানি আমির আব্দুর রহমান সিলেটকে বেছে নেয় সেইফ হেভেন হিসাবে। গ্রেনেড হামলা করে বৃটিশ হাইকমিশনারের ওপর, বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অনন্ত বিজয়কে হত্যা করে, শিববাড়িতে সশস্ত্র আস্তানা গড়ে তোলে, তখন আমরা উদ্বিগ্ন হই।

নির্মূল কমিটির চিকিৎসা সহায়ক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. মামুন আল মাহতাব বলেন, ‘আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থানে বাংলাদেশে আপাতত ব্যাকফুটে থাকা সাম্প্রদায়িক শক্তি

যেমন উৎসাহিত হচ্ছে, তেমনি মৌলবাদের ঘাড়ে সাওয়ার হয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার দিবাস্বপ্নে যারা বিভোর, উৎসাহিত হচ্ছেন তারাও। বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের অন্য জায়গাটি হলো

আফগানিস্তানের সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে আঞ্চলিক জঙ্গিশক্তিগুলোও বাংলাদেশে আবার নতুন করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে এবং এ নিয়ে জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। এই

জটিল সমীকরণ মেলাতে হলে সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের সক্রিয়তা এবং সরকারের সাথে তাদের সহযোগিতার কোনও বিকল্প নেই।