অমর একুশে বইমেলায় পাপেট শোতে মুখর শিশুপ্রহর
- আপডেট সময় : ০৫:৪৬:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
শুক্রবার অমর একুশে বইমেলার দ্বিতীয় দিনটি ছিল ‘শিশু প্রহর’। সকাল থেকেই বইমেলা প্রাঙ্গণ যেন ছোট ছোট রাজা-মহারাজাদের দখলে। বাবা-মা, দাদা-দাদির হাত ধরে মেলায় এসে তারা বায়না ধরেছে পছন্দের বই কিনে দেওয়ার। রঙিন মলাট, ছড়ার বই, গল্পের সংকলন, ছবি আঁকার খাতা, সবকিছু ঘিরেই ছিল তাদের উচ্ছ্বাস।
শিশুপ্রহরে ছেলেকে নিয়ে মেলায় এসেছিলেন লেখক-সাংবাদিক আবু আলী। বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে বই দেখার পর ছেলে চোখেমুখে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে একটি গল্পের বই পছন্দ করে। শেষ পর্যন্ত ৪০০ টাকা দিয়ে বইটি কিনে দিতে হয় তাকে। আবু আলী বলেন, ছেলের বই কেনার আগ্রহ দেখে ভালো লাগছে। বইয়ের প্রতি টান তৈরি হওয়াটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।
পাশে থাকা আরেক সাংবাদিক জানান, এবার ঈদে স্বজনদের পোশাক নয়, বই উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। তার ভাষায়, মানুষের মধ্যে বই নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে, শিশুদের ভিড় দেখলেই বোঝা যায়।

পবিত্র রমজান মাসের কারণে এ বছর মেলার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রতিদিন বেলা দুইটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত মেলা চললেও শুক্র ও শনিবারসহ ছুটির দিনে বেলা ১১টা থেকে শুরু হয় কার্যক্রম।
দুপুর ১টা পর্যন্ত থাকে শিশুপ্রহর, এরপর সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে মেলা প্রাঙ্গণ। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারেন।
রোদের তেজ আর রোজার আমেজ সত্ত্বেও শিশুদের উচ্ছ্বাসে ভাটা পড়েনি। প্রথম শিশুপ্রহরের মূল আকর্ষণ ছিল পাপেট শো। পুতুলনাচের মঞ্চের সামনে হঠাৎ করেই ভিড় জমে যায়। মঞ্চের আড়াল থেকে ভেসে আসে, বন্ধুরা, তোমরা সবাই কেমন আছো? মুহূর্তেই শিশুরা দৌড়ে গিয়ে পাটি বিছানো মেঝেতে বসে পড়ে।

মঞ্চে হাজির হয় দুই পুতুল বন্ধু অপু ও দিপু। গল্পের ফাঁকে তারা শোনায় মজার কাহিনি ও শিক্ষণীয় বার্তা। এরপর বেজে ওঠে পরিচিত সুর ‘বুলবুল পাখি ময়না টিয়ে…’। গানের তালে তালে বিশাল এক বাঘ পুতুল নেচে নেমে আসে শিশুদের মাঝে। বাঘকে ছুঁতে হাত বাড়ায় তারা। হাসি, হাততালি আর উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ।
পুতুলনাচ শেষ হতেই আবু আলীর ছেলে বলে ওঠে, চলো বাবা, বাসায় যাই। হাতে নতুন বই, মুখে তৃপ্তির হাসি, শিশুদের এমন আনন্দ আর বইপ্রেমীদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে বইমেলার প্রথম শিশুপ্রহর।



















