ঢাকা ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নৃশংস ৭ বছরের শিশুর হাত চেপে ধরেন স্ত্রী আঙ্গুল কাটেন পুলিশ  কনস্টেবল জাতিসংঘ সফর শেষে সচিবালয়ে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী, শুরু দাপ্তরিক কার্যক্রম জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে: রাষ্ট্রদূত ১৮ দেশের বাজারকেন্দ্রিক রপ্তানি কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সরকারের সমালোচনা এনসিপি আহ্বায়কের কাগজে নদীর সংখ্যা বাড়ছে নদী রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় সংকট সাশ্রয়ী আবাসন অর্থায়নে বাংলাদেশকে ১০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি শেরপুর সীমান্তে ভারতীয় সাবান-মদ জব্দ বিজিবির গরু আটক নিয়ে চাঞ্চল্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সমাধান কেবল কূটনীতিতেই: ইরান

অনুমোদনের জটিলতায় এলপিজি বাজার অচল, ভোক্তার ঘাড়ে দুর্ভোগের বোঝা

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:৫৩:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৩৭ বার পড়া হয়েছে

ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এখন অসহায়, লাকড়ির চুলাই শেষ ভরসা : ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এখন শুধু রান্নার জ্বালানি নয়, শহর ও গ্রামজীবনের এক অবিচ্ছেদ্য প্রয়োজন। অথচ প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা ও সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সেই প্রয়োজনীয় জ্বালানিই এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে বাজারে এলপিজির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা বেশি দিয়েও সিলিন্ডার পাচ্ছেন না অনেক ভোক্তা। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার।

এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকটে রাজধানী ঢাকার অনেক এলাকায় আধুনিক চুলা অচল হয়ে পড়েছে। বিকল্প জ্বালানি না পেয়ে মানুষ ফিরছে পুরোনো লাকড়ির চুলার কাছে। ঢাকার বিভিন্ন বস্তি ও নিম্নআয়ের এলাকায় এখন লাকড়ির আগুনেই চলছে দৈনন্দিন রান্না। একদিকে রান্নার দুর্ভোগ, অন্যদিকে ধোঁয়া ও স্বাস্থ্যঝুঁকি–সব মিলিয়ে ভোগান্তি চরমে।

অভিযোগ রয়েছে, এই সংকটকে পুঁজি করে একটি সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এলপিজির বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে এবং হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এখন অসহায়, লাকড়ির চুলাই শেষ ভরসা।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে একাধিক এলপিজি কোম্পানি আমদানি কমিয়ে দেয় কিংবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এমন বাস্তবতায় যেসব কোম্পানি এখনও সক্রিয় রয়েছে, তারা আমদানি বাড়াতে বারবার আবেদন করলেও সরকারের কাছ থেকে অনুমতি পায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আমদানি সীমা শিথিল করা হলে বাজারে এই সংকট তৈরি হতো না। এর দায় সরাসরি প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার।

ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এখন অসহায়, লাকড়ির চুলাই শেষ ভরসা।
রাজশাহী ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এখন অসহায়, লাকড়ির চুলাই শেষ ভরসা।

এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ (লোয়াব) জানায়, দেশে ২৮টি কোম্পানি এলপিজি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কার্যকরভাবে আমদানি করছে মাত্র ১০টি। অধিকাংশ কোম্পানি ব্যাংকঋণ, এলসি খোলা ও নীতিগত জটিলতায় কার্যক্রম চালাতে পারছে না। ফলে বাজারে সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। অথচ সরকারের দাবি দেশে এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

ভোক্তাদের প্রশ্ন, যদি পর্যাপ্ত মজুতই থাকে, তবে বাজারে সিলিন্ডার মিলছে না কেন? কেন রাতারাতি দাম কয়েক শ টাকা বেড়ে যায়? কেন একজন গৃহিণী দিনের পর দিন দোকান ঘুরেও রান্নার জ্বালানি জোগাড় করতে পারেন না?

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারের নির্ধারিত আমদানি সীমা তাদের হাত–পা বেঁধে দিয়েছে। সক্ষমতা থাকলেও তারা অতিরিক্ত এলপিজি আনতে পারছেন না। এমনকি বড় শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ এলপিজি প্রায় দুই বছর ধরে বাড়তি আমদানির অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :