স্বামীর আত্মহত্যা, ময়নাতদন্তে খুন
- আপডেট সময় : ১০:২৩:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২৩৬ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
কোহিনূর বেগমের মৃত্যু নিয়ে শুরুতেই ভাই সালাউদ্দিন সন্দেহ ছিল। কোহিনূর বেগমের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে, এমন বয়ান দিয়ে ঢাকার ধানমন্ডি থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছিল। তাতে বলা হয়েছিল, আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন কোহিনূর। কিন্তু ঘটনার তিন মাস পর পুলিশের হাতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পর জানা গেল কোহিনূর বেগম আত্মহত্যা করেননি, তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পরই ভাই সালাইদ্দীন দায়ের করেন, যেখানে কোহিনূরের স্বামী ও তার পালিত মেয়ে আটক হয়। তারা এখন কারাগারে।
নিহত কোহিনূর বেগম একটি প্রতিষ্ঠিত একাধিক ওষুধ কোম্পানিতে কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসি অনুষদ থেকে স্নাতকোত্তর করেছিলেন। তার স্বামী কে বি এম মামুন রশীদ চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক এবং মেয়ে ফাইজা নূর রশীদ আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্র বাংলাদেশ-আইসিডিডিআরবি ঢাকার কর্মকর্তা।
ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগ (পিবিআই) মামলাটি তদন্ত করছে। পিবিআই সূত্রের খবর, ৩ আগস্ট কোহিনূর হত্যার তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। মামুন রশীদ তাদের জানিয়েছেন, চলতি বছরের ১০ এপ্রিল ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের নিজ বাসা থেকে কোহিনূরকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে রওনা হন। পথেই কোহিনূরের মৃত্যু হয়।
সে সময় তিনি পুলিশকে বলেছিলেন, তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ধানমন্ডির বাসায় থাকেন। তবে ঘটনার সময় সকালবেলা তিনি বাজারে ছিলেন আর দুই সন্তানই কর্মস্থলে ছিলেন। বাজার থেকে বাসায় ফিরে তিনি দরজায় তালা দেখতে পান।
এরপর তিনি চাবি দিয়ে দরজা খুলে স্ত্রীকে খাবারঘরে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। এরপর তিনি সেখান থেকে কোহিনূরকে নামিয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মামুন রশীদ পুলিশের কাছে দাবি করেছিলেন, বিষণ্নতায় ভুগে তার স্ত্রী কোহিনূর আত্মহত্যা করেছেন।
কোহিনূরের ঘনিষ্ঠজনদের বক্তব্য বিয়ের কয়েক বছর হয়ে গেলেও কোহিনূর মা হতে পারছিলেন না। তখন তিনি ফাইজাকে দত্তক নেন। এর মধ্যেই কোহিনূর নিজে এক ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। কোহিনূর বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করায় দুই সন্তানকে যথেষ্ট সময় দিতে পারছিলেন না।
এতে একপর্যায়ে সন্তানেরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এই অবস্থা দেখে কোহিনূর চাকরি ছেড়ে দিয়ে সংসারে মনোযোগ দেন। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি। ফাইজার আচরণ এমন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকে যে সামান্য কথাতেই মায়ের গায়ে হাত তুলতেন। আর মেয়েকে বাবা মামুন রশীদ সমর্থন জোগাতেন।
পিবিআই জানায়, কোহিনূর বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামী মামুন রশীদ ধানমন্ডি থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেন। গত ১৫ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ থেকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেয়ে ধানমন্ডি থানার পুলিশ জানতে পারে কোহিনূরকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।




















