সব ভুলে স্বাভাবিক জীবনে পীরগঞ্জের সংখ্যালঘুরা
- আপডেট সময় : ০৭:৩২:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১ ২৮৭ বার পড়া হয়েছে
ছবি সংগ্রহ
হাসছে পীরগঞ্জের জেলে পল্লী
‘মাঝি পাড়া গ্রামের নন্দী রানির পুড়ে যাওয়া আধাপাকা ঘরে দেওয়া হয়েছে নতুন টিনের ছাউনি। নিখিলের দোকান ঘরও উঠে গিয়েছে। সইবা-সুমতি রানী আর প্রদীপ দাসও পেয়েছেন নতুন ঘর। মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে সরকারিভাবে ক্ষতি গ্রস্থ প্রতিটি বাড়ি তুলে দেয়ার কাজ সম্পন করেছেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ আসিফ আহসান’
দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুনের লেলিহান শিখা সব কিছু কেড়ে নিয়েছিলো তাদের। খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে হয়েছিলো রংপুরের পীরগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত সংখ্যালঘুদের। কিন্তু সরকারের দ্রুত
পদক্ষেপে পীরগঞ্জের জেলে পল্লীতে ওঠছে নতুন টিনের ঘর। সবহারা মানুষগুলোর মলিনমুখে প্রশান্তির হাসি। তারা সন্তুষ্ট শেখ হাসিনার পদক্ষেপে। আজ সারাদেশ একই কাতারে দাঁড়িয়েছে
স্লোগান ওঠেছে সম্প্রীতির বাংলাদেশ। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সকল স্থান থেকে আওয়াজ ওঠেছে হাজার বছরের সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখার। এখানে কোন
ধর্মের বিচারে নয়। মানুষে মানুষে বন্ধনে ঐক্যবদ্ধ সেই আওয়া টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া অবধি পৌঁছে গিয়েছে। সম্প্রীতি রক্ষায় এমন নজির সম্ভবত বাংলাদেশের বাইরে আর কোথাও দেখা যাবে
কিনা সন্দেহ। তাইতো একাত্তরের সুর ওঠেছিলো ‘আমার এই দেশ সব মানুষের’। দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরগুলো নতুন করে তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। দেয়া হয়েছে উল্লেখযোগ্য
পরিমাণ নগদ টাকাও। ক্ষতিগ্রস্থ ধর্মাবলম্বীরা বলছেন, এমন সহযোগিতায় সন্তুষ্ট তারা। আর ত্রাণ ও দুযোর্গ প্রতিমন্ত্রী বলছেন, এলাকাটিতে সব ভুলে আগের মতো স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিরাজ
করছে। মাঝি পাড়া গ্রামের নন্দী রানির পুড়ে যাওয়া আধাপাকা ঘরে দেওয়া হয়েছে নতুন টিনের ছাউনি। নিখিলের দোকান ঘরও উঠে গিয়েছে। সইবা-সুমতি রানী আর প্রদীপ দাসও পেয়েছেন
নতুন ঘর। মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে সরকারিভাবে ক্ষতি গ্রস্থ প্রতিটি বাড়ি তুলে দেয়ার কাজ সম্পন করেছেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ আসিফ আহসান। জেলা প্রশাসক বলেন,
সরকারি-বেসরকারি সহায়তা আর পাশে থাকার আশ্বাস সাহস যোগানো হচ্ছে করিমপুর-কসবার মানুষকে। জেলেপাড়ার মানুষদের সেই রাতের দুঃসহ স্মৃতি মুছে দিয়ে চলছে স্বাভাবিক জীবনে
ফেরার মহাআয়োজন। তারা ফিরে পেয়েছেন তৈজসপত্র, পোশাক পরিচ্ছদ, শিশুখাদ্য থেকে
শুরু করে বই খাতা লুট হওয়া গরু সব কিছুই। পেয়েছেন জেলা প্রশাসনের দেয়া ১ থেকে ৫ লাখ টাকার নগদ অনুদানও। পীরগঞ্জে সংখ্যালঘু ক্ষতিগ্রস্থরা বলছেন, কেটে গেছে আতংক আর
ভীতি। হিন্দু-মুসলমান মিলে আগের মত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারা। আর স্বল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্থদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার কথা জানালেন দুর্যোগ ও
ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। বললেন ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাটিতে এখন স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গত রবিবার রাতে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পীরগঞ্জের রামনাথপুর
ইউনিয়নের বড়করিমপুর মাঝিপাড়া গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিলো দুবৃত্তরা। আগুণের লেলিহান শিখা গ্রামটির ১৫টি পরিবারের ২১টি বাড়ির
সবকিছু ভস্মিভূত হয়। সব মিলিয়ে অন্তত ৫০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। গরু-ছাগল, অলংকার, নগদ টাকাও নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পীরগঞ্জ থানায় দায়ের করা চারটি মামলায় ৬৬ জন গ্রেফতার হয়েছে।




















