মুম্বাই হামলার ১৩তম বার্ষিকীতে ঢাকায় ৩ দিনব্যাপী আলোকচিত্র ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী
- আপডেট সময় : ০৯:১৬:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর ২০২১ ৪৭৩ বার পড়া হয়েছে
২০০৮ সালের ২৬ নবেম্বর পাকিস্তানের মদদপুষ্ট জঙ্গিদের এক নজিরবিহীন সন্ত্রাসী হামলায় ভারতের মুম্বাইয়ের তাজ হোটেল এবং সংশ্লিষ্ট এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। যেখানে ভারতীয়সহ ২২টি দেশের কয়েক শ’ নাগরিক হতাহত হয়েছিলেন। পাকিস্তান কীভাবে বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জঙ্গিবাদ রফতানি করে ধর্মের নামে হত্যা, সন্ত্রাস ও ধ্বংসযজ্ঞ সাধন করে তা বাংলাদেশ ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধকাল থেকে প্রত্যক্ষ করেছে। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি সংবাদ বার্তায় এতথ্য জানানো হয়।
২৬ নবেম্বর মুম্বাই হামলার ১৩তম বার্ষিকীতে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতির সহযোগিতায় শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে ৩ দিনব্যাপী আলোকচিত্র ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। ২৬ নবেম্বর শাহরিয়ার কবিরের জিহাদত্রয়ী প্রামাণ্যচিত্রের সংক্ষিপ্ত ভাষ্য, ২৭ নবেম্বর ‘বাংলাদেশ কোন পথে’ এবং ২৮ নবেম্বর ‘জিহাদের প্রতিকৃতি’ প্রদর্শিত হবে।
শুক্রবার বিকেল ৩টায় আলোকচিত্র ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি। বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে ‘উপমহাদেশে জঙ্গি মৌলবাদী সন্ত্রাস দমন: সরকার ও নাগরিক সমাজের করণীয়’ আলোচনা সভা। নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ভারতের রাষ্ট্রদূত মি. বিক্রম দোরাইস্বামী।
আলোচনায় অংশ নেবেন মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দক্ষিণ এশীয় গণসম্মিলন-এর সভাপতি বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, নির্মূল কমিটির সহসভাপতি শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভাষাসৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের পৌত্রী সমাজকর্মী আরমা দত্ত এমপি, বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতির সভাপতি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মোঃ রশিদুল আলম এবং ইনস্টিটিউট অব কনফ্লিক্ট, ল এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ-এর নির্বাহী পরিচালক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল মোঃ আবদুর রশীদ (অব.)।
১৯৭৫ সালে সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে বহু গবেষণামূলক রচনা রয়েছে। এরপর থেকে বাংলাদেশ অধিকাংশ সময় শাসিত হয়েছে স্বাধীনতাবিরোধী পাকিস্তানপন্থী জঙ্গি মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির দ্বারা। পাকিস্তানের পৃষ্ঠপোষকতায় বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশে অসংখ্য হত্যা ও সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে। যার ভেতর সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেণেড বোমা হামলা।
হামলাকারীরা বলেছে কীভাবে তারা পাকিস্তানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়েছে এবং হামলায় ব্যবহৃত আর্জেস গ্রেণেডও পাকিস্তান থেকে এসেছে। ’৭১-এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো প্রকাশ্যে ও গোপনে যে সব তৎপরতা চালাচ্ছে তা গোটা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করা হয়।

























