ঢাকা ০৭:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন ঋণচুক্তি নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগোচ্ছে, অধিকাংশ শর্তে একমত বাংলাদেশ সৌদির কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা, ২ বাংলাদেশিসহ নিহত  ১২ বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নে পাশে থাকার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে অগ্রাধিকার দেবে ঢাকা মক্কা-মদিনার নিরাপত্তায় কোনো আপস নয়, সৌদি আরবকে সহায়তায় প্রস্তুত বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দিল্লিতে আটক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কী ঘটেছে তাঁকে ঘিরে এসএসসিতে অকৃতকার্যদের ৩ মাসের মধ্যে ফের পরীক্ষার সুযোগ বিবেচনা করছে সরকার: মাহদী আমিন অনলাইন চাকরির প্রলোভনে ব্যবসায়ীর ২৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ, তরুণী গ্রেপ্তার শেরপুরের ৫৫ বছরেও সোমেশ্বরী নদীতে সেতু নেই, দুর্ভোগে ১৫ হাজার মানুষ হাতি সংরক্ষণ ও পর্যটন উন্নয়নে কমবে মানুষ-হাতি সংঘাত: পরিবেশমন্ত্রী

মাইন বিস্ফোরণে উড়ে গেল যুবকের পা, সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৯:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ২৯৬ বার পড়া হয়েছে

মাইন বিস্ফোরণে উড়ে গেল যুবকের পা, সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে মো. হানিফ (২৮) নামের এক যুবকের বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তিনি হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লম্বাবিল গ্রামের বাসিন্দা এবং ফজল করিমের ছেলে।  নাফ নদী-সংলগ্ন এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

সোমবার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হানিফ ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি চিংড়িঘেরে কাজ করেন। সকালে খামারে রাখা নৌকার অবস্থা দেখতে গিয়ে হঠাৎ পুঁতে রাখা একটি স্থলমাইনের ওপর পা পড়লে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর বাঁ পা উড়ে যায়। বিস্ফোরণের শব্দ ও তাঁর আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।

গুরুতর আহত অবস্থায় হানিফকে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে নাফ নদীতে মাছ ধরা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলা ঠেকাতে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) নাফ নদীর মাঝখানে জেগে ওঠা কয়েকটি দ্বীপের চারপাশ এবং সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ড এলাকায় নিষিদ্ধ স্থলমাইন পুঁতে রেখেছে। এর আগেও এসব এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি জেলেসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক খোকন কান্তি রুদ্র ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নাফ নদী-সংলগ্ন একটি মৎস্যখামারে কাজ করার সময় স্থলমাইন বিস্ফোরণে ওই যুবকের বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কয়েক দিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ ও গোলাগুলি চলছে। এ অবস্থায় সীমান্ত ও নদীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার জন্য স্থানীয়দের সতর্ক করা হচ্ছে।

মাইন বিস্ফোরণে উড়ে গেল যুবকের পা, সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক
মাইন বিস্ফোরণে উড়ে গেল যুবকের পা, সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক

হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল জানান, গত চার দিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপ এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে।

গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত ওপার থেকে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

এ সময় ছোড়া গুলি, ড্রোন ও মর্টার শেলের অংশ হোয়াইক্যং সীমান্তের কিছু বসতঘর, চিংড়িঘের ও খোলা মাঠে এসে পড়েছে। এতে এক শিশুও গুলিবিদ্ধ হয়েছে, যার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তিনি আরও বলেন, গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে আজ বেলা দুইটা পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির শব্দ না শোনা গেলেও পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে। যেকোনো সময় আবারও সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে, এই আশঙ্কায় সীমান্তবাসীরা চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই আতঙ্কে নির্ঘুম রাত পার করছেন।

বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে। নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মাইন বিস্ফোরণে উড়ে গেল যুবকের পা, সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক

আপডেট সময় : ০৬:৫৯:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে মো. হানিফ (২৮) নামের এক যুবকের বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তিনি হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লম্বাবিল গ্রামের বাসিন্দা এবং ফজল করিমের ছেলে।  নাফ নদী-সংলগ্ন এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

সোমবার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হানিফ ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি চিংড়িঘেরে কাজ করেন। সকালে খামারে রাখা নৌকার অবস্থা দেখতে গিয়ে হঠাৎ পুঁতে রাখা একটি স্থলমাইনের ওপর পা পড়লে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর বাঁ পা উড়ে যায়। বিস্ফোরণের শব্দ ও তাঁর আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।

গুরুতর আহত অবস্থায় হানিফকে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে নাফ নদীতে মাছ ধরা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলা ঠেকাতে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) নাফ নদীর মাঝখানে জেগে ওঠা কয়েকটি দ্বীপের চারপাশ এবং সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ড এলাকায় নিষিদ্ধ স্থলমাইন পুঁতে রেখেছে। এর আগেও এসব এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি জেলেসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক খোকন কান্তি রুদ্র ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নাফ নদী-সংলগ্ন একটি মৎস্যখামারে কাজ করার সময় স্থলমাইন বিস্ফোরণে ওই যুবকের বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কয়েক দিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ ও গোলাগুলি চলছে। এ অবস্থায় সীমান্ত ও নদীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার জন্য স্থানীয়দের সতর্ক করা হচ্ছে।

মাইন বিস্ফোরণে উড়ে গেল যুবকের পা, সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক
মাইন বিস্ফোরণে উড়ে গেল যুবকের পা, সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক

হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল জানান, গত চার দিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপ এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে।

গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত ওপার থেকে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

এ সময় ছোড়া গুলি, ড্রোন ও মর্টার শেলের অংশ হোয়াইক্যং সীমান্তের কিছু বসতঘর, চিংড়িঘের ও খোলা মাঠে এসে পড়েছে। এতে এক শিশুও গুলিবিদ্ধ হয়েছে, যার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তিনি আরও বলেন, গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে আজ বেলা দুইটা পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির শব্দ না শোনা গেলেও পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে। যেকোনো সময় আবারও সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে, এই আশঙ্কায় সীমান্তবাসীরা চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই আতঙ্কে নির্ঘুম রাত পার করছেন।

বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে। নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।