ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির অভিযোগ জামায়াতের ‘রাজনৈতিক অপপ্রচার’: বিএনপি
- আপডেট সময় : ০৩:০১:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
ভোটারদের অভিযোগ ও মতামত গ্রহণের লক্ষ্যে বিএনপি ‘ইলেকশন হটলাইন ১৬৫৪৩’ এবং একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর (০১৮০৬৯৭৭৫৭৭) চালু করেছে
ভারতের সঙ্গে বিএনপির গোপন চুক্তির অভিযোগকে ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক অপপ্রচার হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির মতে, রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও বিতর্ক উসকে দিতেই জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতার তরফে এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক অভিযোগ তোলা হয়েছে, যার পেছনে কোনো বাস্তবতা বা প্রমাণ নেই।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমীন। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রতি ইঙ্গিত করে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণরূপে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
মাহদী আমীন বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা দাবি করেছেন যে বিএনপি ভারতের সঙ্গে তিনটি চুক্তি করেছে এবং এই তথ্য তিনি নাকি কোনো একটি মিডিয়া থেকে পেয়েছেন। অথচ তিনি তার বক্তব্যের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি এবং পারবেনও না। কারণ, যে তথাকথিত সংবাদ বা তথ্যের কথা বলা হচ্ছে, তার ন্যূনতম সত্যতা বা বাস্তবতার কোনো অস্তিত্ব নেই।
তিনি বলেন, এ অবস্থায় প্রশ্ন ওঠে, এটি কি পরিকল্পিতভাবে বিতর্ক তৈরির একটি রাজনৈতিক অপকৌশল, নাকি ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া বক্তব্য? আমরা মনে করি, এটি হয় সচেতন অপপ্রচার, নয়তো অজ্ঞতাজনিত বিভ্রান্তি। তবে যে কারণেই হোক, ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক অপপ্রচার।
বিএনপির মুখপাত্র আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বলতে বিএনপি ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল রাজনীতিকেই বোঝে। সেখানে অপপ্রচার, অপকৌশল কিংবা অপরাজনীতির কোনো স্থান নেই। বিএনপির রাজনীতির মূল দর্শনই হচ্ছে বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি, যেখানে সর্বাগ্রে গুরুত্ব পায় দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের ক্ষমতায়ন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও কৌশলও এই নীতির ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হচ্ছে।

নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে মাহদী আমীন বলেন, বিএনপি অতীতেও দেশের স্বার্থ ও জাতীয় অধিকার রক্ষায় ধারাবাহিক আন্দোলন করেছে। তিস্তা ও পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ধারাবাহিক কর্মসূচি, সমাবেশ ও জনসংযোগ তারই উদাহরণ। একইভাবে সীমান্তে ফেলানি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সর্বপ্রথম রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছিল বিএনপি।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি নতজানু পররাষ্ট্রনীতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো বিএনপির রাজনৈতিক ঐতিহ্যেরই অংশ।
এ সময় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে মাহদী আমীন জানান, জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ জোরদার, নির্বাচন সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা সম্পর্কে তথ্য প্রদান এবং ভোটারদের অভিযোগ ও মতামত গ্রহণের লক্ষ্যে বিএনপি ‘ইলেকশন হটলাইন ১৬৫৪৩’ এবং একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর (০১৮০৬৯৭৭৫৭৭) চালু করেছে।
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, একটি প্রতারক চক্র এসব কার্ড দেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে এসব কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো অসাধু তৎপরতা নজরে এলে দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।




















