ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষ: নিহত ২, আহত অন্তত ৩০
- আপডেট সময় : ০৪:০৭:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় পূর্ব বিরোধের জেরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ডেকে আনা সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন আক্তার মিয়া ও হাবিব মিয়া। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের গোয়ালনগর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রকে ঘিরে বিরোধের সূত্রপাত। ওইদিন ভোটে অনিয়মের অভিযোগে বিএনপি সমর্থক রহিম তালুকদার গোষ্ঠীর জিয়াউর রহমানকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন।

এ ঘটনার পর থেকেই একই গ্রামের কাসেম মিয়ার গোষ্ঠীর শিশু মিয়াকে সন্দেহ করে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন জিয়াউর রহমানের অনুসারীরা। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় কয়েকদিন আগেও উভয় গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার সকালে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, মাইকে ঘোষণা দিয়ে উভয় পক্ষের লোকজনকে জড়ো করা হয়। পরে রহিম গোষ্ঠী ও কাসেম গোষ্ঠীর লোকজন দেশীয় অস্ত্র—টেঁটা ও বল্লম নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই আক্তার মিয়া ও হাবিব মিয়ার মৃত্যু হয়।
সংঘর্ষে আহতদের স্থানীয়ভাবে এবং নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, গুরুতর আহত দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



















