‘বিশ্বের ধীরগতির শহর ঢাকা’ : মার্কিন গবেষণা, তালিকায় কলকাতা-মুম্বাই
- আপডেট সময় : ০৮:৩২:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ৩০০ বার পড়া হয়েছে
যানজটে নষ্ট কর্মঘণ্টা, ক্ষতি ৩৬ হাজার কোটি টাকা
তালিকায় কলকাতা, মুম্বাই
৩৮টি ধনী দেশের জোট অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) সদস্যদেশগুলোর মধ্যেও
যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোতে গাড়ি ও মানুষের গতি বেশি।
ওইসিডিভুক্ত দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির গতি গড়ে ২৭ শতাংশ বেশি। আবার দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যেও
বাংলাদেশের শহরে গতি কম।
অন্যান্য দরিদ্র দেশের তুলনায় বাংলাদেশে গতি গড়ে ২০ শতাংশ কম
বিশ্বের সবচেয়ে ২০টি ধীরগতির শহরের মধ্যে ৩টি বাংলাদেশে
ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির শহরের তালিকায় ওঠে এসেছে ঢাকা। বিশ্বের ১৫২টি দেশের ১ হাজার ২০০টি শহরের অধিক যান চলাচলের গতি বিশ্লেষণে এই তথ্য পাওয়া গেছে। এই ধীরগতির নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে অর্থনীতিতে।
চলতি বছরে বিশ্বব্যাংক এক গবেষণায় বলছে, অসহনীয় যানজটের কারণে প্রতিদিন ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ৭৩টি মোড়ে আটকে যাচ্ছে যানবাহন। এতে করে প্রতিদিন আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা। আর জ্বালানি পুরছে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) নামের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলছে, তাদের এক জরিপ প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ঢাকায় চলাচলকারী একজন মানুষের সড়কে প্রতি ২ ঘণ্টায় ৪৬ মিনিট ব্যয় হয় যানজটে। তাতে বছরে জনপ্রতি গড়ে ২৭৬ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ৩ লাখের বেশি মানুষের বসবাস এমন সব শহরে গাড়িতে বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে কত সময় লেগেছে, সেই তথ্য গুগল ম্যাপ থেকে সংগ্রহ করে গবেষণায় বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সপ্তাহের বিভিন্ন দিন এবং দিনের বিভিন্ন সময়ে যাতায়াতের তথ্য নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় গবেষণায় কাজ করেছেন ফিনল্যান্ডের আলটো বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনব্যবস্থার অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক প্রত্যয় আমান আকবর, কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক ভিক্টর কুচিও, যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রিয়েল এস্টেট বিভাগের অধ্যাপক গিলেস ডুরানটন এবং যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক অ্যাডাম স্টোরিগার্ড।

গবেষণায় সবচেয়ে বেশি গতির শহর হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ফ্লিন্ট শহরের নাম ওঠে এসেছে। আর সবচেয়ে বেশি গতির ১০০ শহরের মধ্যে ৮৬টিই যুক্তরাষ্ট্রের। সবচেয়ে দ্রুতগতির ২০ শহরের মধ্যে ১৯টি যুক্তরাষ্ট্রের। একটি কানাডার অন্টারিও অঙ্গরাজ্যের উইন্ডসর।
সবচেয়ে ধীরগতির ২০ শহরের তালিকায় ঢাকার পরে রয়েছে নাইজেরিয়ার দুই শহর লাগোস ও ইকোরোদু। এরপরই রয়েছে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা। ধীরগতির শহরের তালিকায় ঢাকা ছাড়াও বাংলাদেশের দুই শহরের ময়মনসিংহ (৯ম) ও চট্টগ্রাম (১২তম) স্থানে রয়েছে। ভারতের কলকাতা, মুম্বাইসহ আটটি শহরও বাদ যায়নি তালিকা থেকে।
গবেষণা বলছে, ধনী দেশগুলোর শহরে গাড়িতে চলাচল দরিদ্র দেশগুলোর তুলনায় ৫০ শতাংশের মতো দ্রুত হয়। এটা সম্ভব হয় ধনী দেশের শহরগুলোতে বড় রাস্তা এবং অনেক ফাঁকা জায়গা থাকার কারণে। তাতে রাস্তায় বেশি গাড়ি নেমেও যানজটে পড়তে হয় না।

গবেষকেরা দেখেছেন, ৩৮টি ধনী দেশের জোট অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) সদস্যদেশগুলোর মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোতে গাড়ি ও মানুষের গতি বেশি। ওইসিডিভুক্ত দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির গতি গড়ে ২৭ শতাংশ বেশি। আবার দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশের শহরে গতি কম। অন্যান্য দরিদ্র দেশের তুলনায় বাংলাদেশে গতি গড়ে ২০ শতাংশ কম।
কারণ খুঁজতে গিয়ে গবেষক দেখেছেন, ওইসিডিভুক্ত দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোর পার্থক্য অনেক বেশি। ধনী দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোর জনসংখ্যা ২৪ শতাংশ কম, শহরগুলো প্রায় ৭২ শতাংশ বড়। যুক্তরাষ্ট্রের শহরে বড় বড় রাস্তা বেশি ৬৭ শতাংশ।
একইভাবে বাংলাদেশের শহরে (একই আয়তনের) অন্যান্য দেশের শহরের তুলনায় জনসংখ্যা ৪০ শতাংশ বেশি এবং বড় রাস্তা ৪২ শতাংশ কম। এ কারণে বাংলাদেশের শহরগুলো ধীরগতির।




















