বানের জলে ভেসে গেছে কৃষকের স্বপ্ন
- আপডেট সময় : ০২:২৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ জুন ২০২৪ ১৭৮ বার পড়া হয়েছে
ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভেসে গেছে কৃষকের স্বপ্ন। ডুবে গেছে ফসলের ক্ষেত। গোয়াইঘাট, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ, জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার কৃষকদের ফসলের ক্ষতি হয়েছে ৯৬ কোটি ২৯ লাখ টাকার। এখনও পানিবন্দি অবস্থায় কয়েক লাখ মানুষজন।
সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, রোপণকৃত ১ হাজার ৪৭২ হেক্টর জমির আউশ ধান বন্যার পানিতে ডুবে নষ্ট হয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ ১৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আউশ ধানের ৬৯৪ হেক্টর বীজতলা। যার ক্ষতির পরিমাণ তিন কোটি ৮২ লাখ টাকা। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুই হাজার ৩৮৩ হেক্টর জমির শাকসবজি। যার ক্ষতির পরিমাণ ৭৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে কৃষকরা নিঃস্ব হয়ে গেছেন।
বন্যায় কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জানিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সিলেটের উপপরিচালক মোহাম্মদ খয়ের উদ্দিন মোল্লা সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষকদের অনেক সময় লাগবে। উপজেলাভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরির কাজ চলছে। প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী, বন্যায় ৯৬ কোটি ২৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে কৃষকের। পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতির চূড়ান্ত তালিকা করা হবে।
জেলা প্রশাসন জানায়, বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সিলেট সিটি করপোরেশনের ৯টি ওয়ার্ড, সদর উপজেলার সাত ইউনিয়ন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ছয়, জৈন্তাপুর উপজেলার ছয়, গোয়াইনঘাট উপজেলার ১৩, কানাইঘাট উপজেলার নয়, জকিগঞ্জ উপজেলার ১০, বিয়ানীবাজার উপজেলার ছয় এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলার দুই ইউনিয়ন বন্যায় ডুবে গেছে। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের নয় ওয়ার্ডসহ আট উপজেলার ৭৬১ গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় বন্যাদুর্গতের সংখ্যা ছয় লাখ আট হাজার ৩৩৫ জন।
শনিবার দুর্গতের সংখ্যা ছিল ছয় লাখ ৯ হাজার ৩৩ জন। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের ৫৫০ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন ১ হাজার ৮০৬ জন। এখন পর্যন্ত বন্যাকবলিতদের মাঝে ৪০০ মেট্রিক টন চাল, সাড়ে ১৫ লাখ, এক হাজার ২৫০ বস্তা শুকনো খাবার, নয় লাখ টাকার শিশুখাদ্য ও নয় লাখ টাকার গো-খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।
জেলায় বন্যাদুর্গ মানুষের সংখ্যা ৬ লাখ আট হাজার ৩৩৫ জন
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানালেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ওমর সানি। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। দুই শতাধিক মানুষ নিজ ঘরে ফিরেছেন। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি দেখা যাচ্ছে।
বন্যা পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য ইউনিয়নভিত্তিক মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। একইসঙ্গে সরকারি-বেসরকারিভাবে শুকনো ও রান্না করা খাবার এবং বিশুদ্ধ পানি বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে।



















