বাঁদর লাঠি বা সোনালু: রবিঠাকুর আদর করে নাম দিয়েছিলেন অমলতাস
- আপডেট সময় : ০৭:২৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জুন ২০২৩ ২৩৮৬ বার পড়া হয়েছে
উত্তর ভারতের উপক্রান্তীয় সমভূমি অঞ্চলে, গ্রীষ্মকালে, মধ্য মে থেকে জুনের মাঝামাঝি এবং তার পরেও, ক্যাসিয়া ফিস্টুলা, যা প্রায়ই ” অমলতাস ” বা “গোল্ডেন শাওয়ার ট্রি” নামে পরিচিত, যা আকাশ জুড়ে থাকে। এটি ঈধবংধষঢ়রহরধপবধব পরিবারের সদস্য। এটিতে উজ্জ্বল হলুদ ফুল রয়েছে এবং আয়ুর্বেদে একে রাজবক্ষ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি তার পর্ণমোচী এবং সোনালী ফুলের মতো লম্বা আঙ্গুরের গুচ্ছে ফুল ফোটে; এটি সমস্ত গ্রীষ্মমন্ডলীয় গাছের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয়।
গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলগুলি ক্যাসিয়া ফিস্টুলার সূচনা পেয়েছে, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে এসেছে বলে মনে করা হয়। ইকুয়েডর, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বেলিজ, মেক্সিকো এবং মাইক্রোনেশিয়ার কিছু অংশ সহ অনেক গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে অমলতাস গাছ জন্মায়। সোনালু বা বাঁদরলাঠি গাছ সাধারণত ১৫ থেকে ২০মিটার উঁচু হয়ে থাকে। উঁচু থেকে মাঝারি উঁচু ভূমি সোনালু গাছ উৎপাদনের জন্য উপযোগী স্থান। পত্র ঝরা বৃক্ষ, শীতে গাছের সমস্ত পাতা ঝরে গিয়ে গাছ থাকে পত্র শুন্য এবং বসন্তের শেষে ফুল কলি ধরার পূর্বে গাছে নতুন পাতা গজায়।
গ্রীষ্মে গাছের শাখা-প্রশাখা জুড়ে ঝুলন্ত মঞ্জুরিতে সোনালী হলুদ রঙের ফুল ফুটে এবং এর ব্যাপ্তি থাকে গ্রীষ্ম কাল পুরো সময় জুড়ে। ফুলের পাঁপড়ি পাঁচটি, মাঝে পরাগ দ- অবস্থিত। পাতা হাল্কা সবুজাভ, মধ্য শিরা স্পষ্ট। গাছের শাখা-প্রশাখা কম,কা- সোজা ভাবে উপরের দিকে বাড়তে থাকে, বাকল সবুজাব থেকে ধূসর রঙের, কাঠ মাঝারি শক্ত মানের হয়। ফুল থেকে গাছে ফল হয়, ফলের আকার দেখতে সজিনা সবজির আকৃতির, তবে সজিনার গায়ের চামড়াতে ঢেউ তোলা সোনালু ফলে তা নেই চামড়া মসৃণ।
ফল লম্বায় প্রায় এক ফুট, রঙ প্রথমে সবুজ ও ফল পরিপক্ব হলে কালচে খয়েরি রঙ ধারণ করে। ফলে বীজ হয়,ফলের বীজ হতে বংশ বিস্তার ঘটে। কোন কোন অঞ্চলে সোনালু এর ফলকে বানর লাঠি হিসেবে চিনে বলে সোনালু গাছকেও তারা বানর লাঠি গাছ বলে ডাকতে শুনা যায়।
এ ফুলের আদিনিবাস হিমালয় অঞ্চল ধরা হলেও বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও মায়ানমার অঞ্চল জুড়ে রয়েছে এর বিস্তৃতি। অস্ট্রেলিয়ায় নিউ সাউথ ওয়েলস ও কুইন্সল্যান্ডের উষ্ণ অঞ্চলে এদের প্রচুর দেখা মেলে।




















