বন্যা কবলিত উত্তরজনপদে ফসলের ক্ষতি
- আপডেট সময় : ০৮:৩৬:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৩ ১৬৩ বার পড়া হয়েছে
ফুঁসে ওঠছে বিপদসীমার ওপরে বইছে যমুনা-তিস্তাসহ চার প্রধান নদী
ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চার নদী বইছে বিপদসীমার ওপর দিয়ে। একারণে আরও বির্স্তীর্ণ জনপদ বানের জলে প্লাবিত হবার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, গঙ্গা-পদ্মা নদী সমতল বাড়ছে যা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। যমুনায়ও জল বাড়ছে।
ব্রহ্মপুত্র নদের জল সমতল বাড়ছে। কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার তিস্তা অববাহিকা সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। যমুনা নদী ফুলছড়ি, বাহাদুরাবাদ এবং পোড়াবাড়ী পয়েন্টে বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করতে পারে।
বর্তমানে তিস্তার কাউনিয়ায়, যমুনার টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ী, সুরমা সিলেটের কানাইঘাটে ও সোমেশ্বরীর জল নেত্রকোনার কলমাকান্দায় বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইয়ে চলেছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন নদনদীতে তাদের পর্যবেক্ষণাধীন ১০৯টি স্টেশনের মধ্যে সোমবার জলের সমতল বেড়েছে ৮১টিতে, কমেছে ২৪টিতে। আর অপরিবর্তিত চারটি স্টেশনে। তিস্তা অববাহিকার বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও প্লাবিত হয়ে পড়েছে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও দুধকুমার অববাহিকার নিম্নাঞ্চলের চরাঞ্চলগুলো।
পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় বানের জল কমলেও দুর্ভোগ বাড়ছে। চরাঞ্চলে চাষ করা বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। রংপুরের গঙ্গাচড়া কাউনিয়া ও পীরগাছার নিম্ন অঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আগাম সবজি ও রোপা আমনের খেত জলমগ্ন। ডুবে আছে ঘর-বাড়িসহ উঠতি ফসল।
সোমবার দুপুর পর্যন্ত রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রংপুরের কাউনিয়া, গঙ্গাচড়া ও পীরগাছা উপজেলার ৪০টি চরাঞ্চলে ২৫ হাজার মানুষ জলবন্দি। সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর জল বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা ছুঁইছুঁই করছে। নদী তীরবর্তী এলাকায় বসতভিটা ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়ে পড়েছে। জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে বাড়ছে বন্যা আতঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণের ফলে উত্তরজনপদের প্রধান নদনদীর জল বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে জেলার অভ্যন্তরীণ করতোয়া, ফুলজোড় ও বড়াল নদনদীর জলও। জেলার শাহজাদপুরসহ বিভিন্ন নিম্ন এলাকায় চারণ ভূমি প্লাবিত হওয়ায় গবাদি পশু নিয়ে খামারিরা বিপাকে পড়েছেন। কাঁচা ঘাসের অভাবে দুগ্ধ উৎপাদন কমে যাবার কথা জানান খামারিরা।
শাহজাদপুর, চৌহালী ও কাজীপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলের অনেক রাস্তাঘাট প্লাবিত। চরাঞ্চলসহ অনেক নিচু বাড়িঘর নিমজ্জিত এবং ডুবে গেছে বিভিন্ন ফসল। বিশেষ করে চরাঞ্চল এলাকার মানুষের দুঃখ দুর্দশা বাড়ছে। বন্যাকবলিত অনেক পরিবার এখন মানববেতর জীবনযাপন করছে।



















