ঢাকা ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অ্যাকান্থুরিডি: বঙ্গোপসাগরে মিললো বিরল ব্রাউন সার্জনফিশ বিদ্যুৎ সাশ্রয়:  রোববার থেকে ৯–৪ অফিস, ৬টার মধ্যে বন্ধ দোকানপাট হরমুজ প্রণালি সচল করতে ৪০ দেশের জোটের অঙ্গীকার ন্যাটো ছাড়ার হুমকি: ডোনাল্ড ট্রাম্প কতটা বাস্তবায়ন করতে পারবেন?  জ্বালানি সাশ্রয়ে রাত ৮টার মধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের  সিদ্ধিান্ত তদন্তে নতুন মোড়: গুমের পর ধলেশ্বরীতে ফেলা হয় ইলিয়াস আলীর মরদেহ জ্বালানি তেল: অরাজকতার নেপথ্যে কৃত্রিম সংকট ও দায়িত্বহীন নাগরিক স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ: মার্চে এলো প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন ডলার অর্থ পাচার : হাসিনা  আমলে বাংলাদেশ থেকে পাচার ২৩৪ বিলিয়ন ডলার: তারেক রহমান পায়ে হেঁটে সমুদ্র থেকে এভারেস্ট কৃষকের ছেলের বিস্ময়কর কীর্তি

অ্যাকান্থুরিডি: বঙ্গোপসাগরে মিললো বিরল ব্রাউন সার্জনফিশ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:১১:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

বঙ্গোপসাগরে মিললো বিরল ব্রাউন সার্জনফিশ: ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, ব্রাউন সার্জনফিশ (বৈজ্ঞানিক নাম অ্যাকান্থুরিডি)।

স্থানীয়ভাবে ‘ট্যাং মাছ’ নামে পরিচিত এই অদ্ভুত আকৃতির মাছটি তীরে আনার পর মুহূর্তেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে মহিপুর মৎস্য বন্দরে মাছটি পৌঁছালে সেটিকে এক নজর দেখতে ভিড় করেন উৎসুক মানুষজন। অনেকেই এমন ব্যতিক্রমধর্মী গড়নের মাছ আগে কখনও দেখেননি বলে জানান।

অদ্ভুত গড়ন, নজরকাড়া সৌন্দর্য

জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর সমুদ্রে নিয়মিত মাছ ধরার সময় হঠাৎ করেই এই অচেনা মাছটি জালে ধরা পড়ে। সাধারণত এ ধরনের মাছ এ অঞ্চলে ধরা না পড়ায় সেটিকে তীরে নিয়ে আসা হয়।

মাছটির দেহ ডিম্বাকৃতি ও পাশ থেকে চাপা, রং ধূসর থেকে বাদামি। এর এই স্বতন্ত্র গড়ন ও রঙের বৈচিত্র্য একে অন্যান্য মাছ থেকে সহজেই আলাদা করে। সাধারণত সার্জনফিশের দৈর্ঘ্য ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে এবং এরা দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে।

 লেজে ‘সার্জনের ছুরি’!

বিশেষজ্ঞদের মতে, সার্জনফিশ নামের পেছনে রয়েছে এক অভিনব কারণ। মাছটির লেজের গোড়ায় থাকে ছোট কিন্তু অত্যন্ত ধারালো কাঁটা, যা দেখতে অনেকটা সার্জনের ছুরির মতো। বিপদের সময় আত্মরক্ষার জন্য এই কাঁটা ব্যবহার করে মাছটি।

ওয়ার্ল্ডফিশের সাবেক গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, এই প্রজাতির মাছ অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন এবং প্রবালপ্রাচীর অঞ্চলে বসবাস করে।

পরিবেশের ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

ব্রাউন সার্জনফিশ মূলত শৈবাল খেয়ে বেঁচে থাকে। এর ফলে সমুদ্রের প্রবালপ্রাচীর এলাকায় শৈবালের অতিবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে। তাই জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে এ মাছটির গুরুত্ব অনেক।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে এ ধরনের মাছ খুব বেশি দেখা না গেলেও বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ পানিতে এদের উপস্থিতি রয়েছে। তবে জেলেদের সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এর লেজের ধারালো কাঁটা আঘাত করতে পারে।

 আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা

বাংলাদেশে খাবারের মাছ হিসেবে খুব বেশি পরিচিত না হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রাউন সার্জনফিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, বিশেষ করে অ্যাকোয়ারিয়ামের শো-পিস হিসেবে। ‘ব্লু ট্যাং’সহ সার্জনফিশের কিছু প্রজাতির দাম ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

কৌতূহলী জনতার ভিড়

মাছটি দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, এমন মাছ আমরা আগে কখনও দেখিনি। দেখতে একদম আলাদা, তাই কাছ থেকে দেখার লোভ সামলাতে পারিনি।

বিরল এই ব্রাউন সার্জনফিশের উপস্থিতি শুধু স্থানীয়দের কৌতূহলই বাড়ায়নি, বরং বঙ্গোপসাগরের সমৃদ্ধ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে নতুন করে ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

অ্যাকান্থুরিডি: বঙ্গোপসাগরে মিললো বিরল ব্রাউন সার্জনফিশ

আপডেট সময় : ০৭:১১:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, ব্রাউন সার্জনফিশ (বৈজ্ঞানিক নাম অ্যাকান্থুরিডি)।

স্থানীয়ভাবে ‘ট্যাং মাছ’ নামে পরিচিত এই অদ্ভুত আকৃতির মাছটি তীরে আনার পর মুহূর্তেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে মহিপুর মৎস্য বন্দরে মাছটি পৌঁছালে সেটিকে এক নজর দেখতে ভিড় করেন উৎসুক মানুষজন। অনেকেই এমন ব্যতিক্রমধর্মী গড়নের মাছ আগে কখনও দেখেননি বলে জানান।

অদ্ভুত গড়ন, নজরকাড়া সৌন্দর্য

জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর সমুদ্রে নিয়মিত মাছ ধরার সময় হঠাৎ করেই এই অচেনা মাছটি জালে ধরা পড়ে। সাধারণত এ ধরনের মাছ এ অঞ্চলে ধরা না পড়ায় সেটিকে তীরে নিয়ে আসা হয়।

মাছটির দেহ ডিম্বাকৃতি ও পাশ থেকে চাপা, রং ধূসর থেকে বাদামি। এর এই স্বতন্ত্র গড়ন ও রঙের বৈচিত্র্য একে অন্যান্য মাছ থেকে সহজেই আলাদা করে। সাধারণত সার্জনফিশের দৈর্ঘ্য ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে এবং এরা দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে।

 লেজে ‘সার্জনের ছুরি’!

বিশেষজ্ঞদের মতে, সার্জনফিশ নামের পেছনে রয়েছে এক অভিনব কারণ। মাছটির লেজের গোড়ায় থাকে ছোট কিন্তু অত্যন্ত ধারালো কাঁটা, যা দেখতে অনেকটা সার্জনের ছুরির মতো। বিপদের সময় আত্মরক্ষার জন্য এই কাঁটা ব্যবহার করে মাছটি।

ওয়ার্ল্ডফিশের সাবেক গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, এই প্রজাতির মাছ অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন এবং প্রবালপ্রাচীর অঞ্চলে বসবাস করে।

পরিবেশের ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

ব্রাউন সার্জনফিশ মূলত শৈবাল খেয়ে বেঁচে থাকে। এর ফলে সমুদ্রের প্রবালপ্রাচীর এলাকায় শৈবালের অতিবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে। তাই জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে এ মাছটির গুরুত্ব অনেক।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে এ ধরনের মাছ খুব বেশি দেখা না গেলেও বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ পানিতে এদের উপস্থিতি রয়েছে। তবে জেলেদের সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এর লেজের ধারালো কাঁটা আঘাত করতে পারে।

 আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা

বাংলাদেশে খাবারের মাছ হিসেবে খুব বেশি পরিচিত না হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রাউন সার্জনফিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, বিশেষ করে অ্যাকোয়ারিয়ামের শো-পিস হিসেবে। ‘ব্লু ট্যাং’সহ সার্জনফিশের কিছু প্রজাতির দাম ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

কৌতূহলী জনতার ভিড়

মাছটি দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, এমন মাছ আমরা আগে কখনও দেখিনি। দেখতে একদম আলাদা, তাই কাছ থেকে দেখার লোভ সামলাতে পারিনি।

বিরল এই ব্রাউন সার্জনফিশের উপস্থিতি শুধু স্থানীয়দের কৌতূহলই বাড়ায়নি, বরং বঙ্গোপসাগরের সমৃদ্ধ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে নতুন করে ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।