ঢাকা ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মায়ের ছোট্ট অনুরোধে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রে শিশুদের ‘খেলা ঘর’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা কক্মাসবাজার তারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধার মৃত্যু এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাস ৬২.২৫ শতাংশ নদী মরছে, বিপন্ন হচ্ছে নগরসভ্যতা থেমে গেছে প্রতিদিনের হাঁটা ১১ পলিথিনে খন্ডিত মরদেহ মেলেনি মাথা-পা বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত প্রধানমন্ত্রীর উপহার সিএনজি-রিকশা পেলেন জুলাইযোদ্ধারা ভারত হাসিনা কার্ড খেলবে, আবার বন্ধুত্বও চাইবে:সালাহউদ্দিন

অ্যাকান্থুরিডি: বঙ্গোপসাগরে মিললো বিরল ব্রাউন সার্জনফিশ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:১১:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬ ২৯০ বার পড়া হয়েছে

বঙ্গোপসাগরে মিললো বিরল ব্রাউন সার্জনফিশ: ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, ব্রাউন সার্জনফিশ (বৈজ্ঞানিক নাম অ্যাকান্থুরিডি)।

স্থানীয়ভাবে ‘ট্যাং মাছ’ নামে পরিচিত এই অদ্ভুত আকৃতির মাছটি তীরে আনার পর মুহূর্তেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে মহিপুর মৎস্য বন্দরে মাছটি পৌঁছালে সেটিকে এক নজর দেখতে ভিড় করেন উৎসুক মানুষজন। অনেকেই এমন ব্যতিক্রমধর্মী গড়নের মাছ আগে কখনও দেখেননি বলে জানান।

অদ্ভুত গড়ন, নজরকাড়া সৌন্দর্য

জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর সমুদ্রে নিয়মিত মাছ ধরার সময় হঠাৎ করেই এই অচেনা মাছটি জালে ধরা পড়ে। সাধারণত এ ধরনের মাছ এ অঞ্চলে ধরা না পড়ায় সেটিকে তীরে নিয়ে আসা হয়।

মাছটির দেহ ডিম্বাকৃতি ও পাশ থেকে চাপা, রং ধূসর থেকে বাদামি। এর এই স্বতন্ত্র গড়ন ও রঙের বৈচিত্র্য একে অন্যান্য মাছ থেকে সহজেই আলাদা করে। সাধারণত সার্জনফিশের দৈর্ঘ্য ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে এবং এরা দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে।

 লেজে ‘সার্জনের ছুরি’!

বিশেষজ্ঞদের মতে, সার্জনফিশ নামের পেছনে রয়েছে এক অভিনব কারণ। মাছটির লেজের গোড়ায় থাকে ছোট কিন্তু অত্যন্ত ধারালো কাঁটা, যা দেখতে অনেকটা সার্জনের ছুরির মতো। বিপদের সময় আত্মরক্ষার জন্য এই কাঁটা ব্যবহার করে মাছটি।

ওয়ার্ল্ডফিশের সাবেক গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, এই প্রজাতির মাছ অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন এবং প্রবালপ্রাচীর অঞ্চলে বসবাস করে।

পরিবেশের ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

ব্রাউন সার্জনফিশ মূলত শৈবাল খেয়ে বেঁচে থাকে। এর ফলে সমুদ্রের প্রবালপ্রাচীর এলাকায় শৈবালের অতিবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে। তাই জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে এ মাছটির গুরুত্ব অনেক।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে এ ধরনের মাছ খুব বেশি দেখা না গেলেও বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ পানিতে এদের উপস্থিতি রয়েছে। তবে জেলেদের সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এর লেজের ধারালো কাঁটা আঘাত করতে পারে।

 আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা

বাংলাদেশে খাবারের মাছ হিসেবে খুব বেশি পরিচিত না হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রাউন সার্জনফিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, বিশেষ করে অ্যাকোয়ারিয়ামের শো-পিস হিসেবে। ‘ব্লু ট্যাং’সহ সার্জনফিশের কিছু প্রজাতির দাম ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

কৌতূহলী জনতার ভিড়

মাছটি দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, এমন মাছ আমরা আগে কখনও দেখিনি। দেখতে একদম আলাদা, তাই কাছ থেকে দেখার লোভ সামলাতে পারিনি।

বিরল এই ব্রাউন সার্জনফিশের উপস্থিতি শুধু স্থানীয়দের কৌতূহলই বাড়ায়নি, বরং বঙ্গোপসাগরের সমৃদ্ধ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে নতুন করে ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

অ্যাকান্থুরিডি: বঙ্গোপসাগরে মিললো বিরল ব্রাউন সার্জনফিশ

আপডেট সময় : ০৭:১১:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, ব্রাউন সার্জনফিশ (বৈজ্ঞানিক নাম অ্যাকান্থুরিডি)।

স্থানীয়ভাবে ‘ট্যাং মাছ’ নামে পরিচিত এই অদ্ভুত আকৃতির মাছটি তীরে আনার পর মুহূর্তেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে মহিপুর মৎস্য বন্দরে মাছটি পৌঁছালে সেটিকে এক নজর দেখতে ভিড় করেন উৎসুক মানুষজন। অনেকেই এমন ব্যতিক্রমধর্মী গড়নের মাছ আগে কখনও দেখেননি বলে জানান।

অদ্ভুত গড়ন, নজরকাড়া সৌন্দর্য

জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর সমুদ্রে নিয়মিত মাছ ধরার সময় হঠাৎ করেই এই অচেনা মাছটি জালে ধরা পড়ে। সাধারণত এ ধরনের মাছ এ অঞ্চলে ধরা না পড়ায় সেটিকে তীরে নিয়ে আসা হয়।

মাছটির দেহ ডিম্বাকৃতি ও পাশ থেকে চাপা, রং ধূসর থেকে বাদামি। এর এই স্বতন্ত্র গড়ন ও রঙের বৈচিত্র্য একে অন্যান্য মাছ থেকে সহজেই আলাদা করে। সাধারণত সার্জনফিশের দৈর্ঘ্য ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে এবং এরা দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে।

 লেজে ‘সার্জনের ছুরি’!

বিশেষজ্ঞদের মতে, সার্জনফিশ নামের পেছনে রয়েছে এক অভিনব কারণ। মাছটির লেজের গোড়ায় থাকে ছোট কিন্তু অত্যন্ত ধারালো কাঁটা, যা দেখতে অনেকটা সার্জনের ছুরির মতো। বিপদের সময় আত্মরক্ষার জন্য এই কাঁটা ব্যবহার করে মাছটি।

ওয়ার্ল্ডফিশের সাবেক গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, এই প্রজাতির মাছ অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন এবং প্রবালপ্রাচীর অঞ্চলে বসবাস করে।

পরিবেশের ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

ব্রাউন সার্জনফিশ মূলত শৈবাল খেয়ে বেঁচে থাকে। এর ফলে সমুদ্রের প্রবালপ্রাচীর এলাকায় শৈবালের অতিবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে। তাই জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে এ মাছটির গুরুত্ব অনেক।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে এ ধরনের মাছ খুব বেশি দেখা না গেলেও বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ পানিতে এদের উপস্থিতি রয়েছে। তবে জেলেদের সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এর লেজের ধারালো কাঁটা আঘাত করতে পারে।

 আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা

বাংলাদেশে খাবারের মাছ হিসেবে খুব বেশি পরিচিত না হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রাউন সার্জনফিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, বিশেষ করে অ্যাকোয়ারিয়ামের শো-পিস হিসেবে। ‘ব্লু ট্যাং’সহ সার্জনফিশের কিছু প্রজাতির দাম ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

কৌতূহলী জনতার ভিড়

মাছটি দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, এমন মাছ আমরা আগে কখনও দেখিনি। দেখতে একদম আলাদা, তাই কাছ থেকে দেখার লোভ সামলাতে পারিনি।

বিরল এই ব্রাউন সার্জনফিশের উপস্থিতি শুধু স্থানীয়দের কৌতূহলই বাড়ায়নি, বরং বঙ্গোপসাগরের সমৃদ্ধ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে নতুন করে ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।