ঢাকা ১০:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কোটি টাকার ৩৪ হাজার ইয়াবাসহ মা-ছেলে গ্রেপ্তার হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু নতুন আক্রান্ত ১,৩২৭ ডেঙ্গু প্রতিরোধে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নালিতাবাড়ীতে আটকে রেখে নির্যাতন ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত ভোক্তাদের ক্ষোভের মধ্যে স্বস্তি এলপিজি ব্যবসায়ীদের দু’দিনের ধর্মঘট প্রত্যাহার দেশে চিনির ব্যবহার প্রায় ৩৩ শতাংশ কমেছে সক্ষমতার অর্ধেক উৎপাদনে বেসরকারি মিল টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট বিশ্বজুড়ে প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস, মূল্যস্ফীতি ৪.৭ শতাংশে ওঠার শঙ্কা আইএমএফের সৌদিগামী ৬১ ফ্লাইট বাতিল, প্রবাসীদের  ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা, ভোগান্তিতে ৯২৬৯ যাত্রী

ফুটপাতে হাঁটা পথচারীর অধিকার এটি কারও ব্যক্তিগত সম্পদ নয়

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৪৩:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে

ফুটপাতে হাঁটা পথচারীর অধিকার এটি কারও ব্যক্তিগত সম্পদ নয়

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সিটি কর্পোরেশনের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভেকু ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ফুটপাত দখলমুক্ত করার একটি নাগরিক উদ্যোগ কীভাবে সংঘাত, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে গড়াতে পারে, এই ঘটনা তারই একটি গুরুতর উদাহরণ।

প্রথমেই পরিষ্কার করে বলা দরকার, ফুটপাত কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। ফুটপাত তৈরি করা হয়েছে সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচলের জন্য। একজন শিশু, একজন বৃদ্ধ, একজন নারী, একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কিংবা কর্মজীবী মানুষ, সবার সমান অধিকার রয়েছে সেই পথ ব্যবহারের।

অথচ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল করে দোকানপাট, পসরা কিংবা অস্থায়ী স্থাপনা বসানোর কারণে পথচারীদের অনেক সময় মূল সড়কে নেমে হাঁটতে হয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে, যানজট তৈরি হয় এবং নাগরিকের স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়।

জীবিকার প্রয়োজন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জীবিকার অধিকার অন্য মানুষের মৌলিক নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার লাইসেন্স হতে পারে না। একজন ব্যবসায়ী যদি এমনভাবে ফুটপাত দখল করেন যে হাজার হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে ব্যস্ত সড়কে হাঁটেন, তাহলে সেই কর্মকাণ্ডের সামাজিক ক্ষতির দায়ও বিবেচনায় নিতে হবে।

প্রশাসনের দায়িত্ব হলো বাস্তবসম্মত পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থা থাকলে তা বিবেচনা করা, কিন্তু জনসাধারণের চলাচলের জায়গা অনির্দিষ্টকাল দখল করে রাখাকে বৈধতা দেওয়া নয়।

আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও সরকারি গাড়িতে আগুন দেওয়া, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা কিংবা সরকারি যন্ত্রপাতি ধ্বংস করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না।

কোনো অভিযোগ থাকলে তা জানানো, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করা এবং আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর জননিরাপত্তাকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলে।

ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মিরপুর–১০ নম্বর গোল চত্বর এলাকায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

মিরপুরের এই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও কারা ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগে জড়িত, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে যদি প্রাথমিকভাবে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকে, সেই বিষয়টিও তদন্তে নিশ্চিত করতে হবে।

কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে প্রমাণ ছাড়া দায়ী করা যেমন অনুচিত, তেমনি তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে পরিচয় বা পেশা বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

সবচেয়ে বড় কথা, রাজধানীর ফুটপাত জনগণের সম্পদ। এই সম্পদ দখল করে ব্যক্তিগত ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ কোনোভাবেই জনস্বার্থের ঊর্ধ্বে হতে পারে না। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হলে প্রশাসনকে ধারাবাহিক, স্বচ্ছ ও আইনসম্মত অভিযান চালাতে হবে।

শুধু একদিন উচ্ছেদ করে আবার কয়েকদিন পর দখলের সুযোগ তৈরি হলে সমস্যার সমাধান হবে না। একই সঙ্গে পুনর্দখল ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

সাধারণ মানুষ বছরের পর বছর ফুটপাত দখলের কারণে যে ভোগান্তি সহ্য করছেন, সেটিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। একজন পথচারীর নিরাপদে হাঁটার অধিকার কোনোভাবেই একজন দখলদারের ব্যবসায়িক সুবিধার কাছে জিম্মি থাকতে পারে না।

ফুটপাত দখল বন্ধ হোক, পথচারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক। আর জনস্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে যারা সরকারি সম্পদে হামলা, অগ্নিসংযোগ বা ভাঙচুর করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আইন সবার জন্য সমান, এই নীতিই নিশ্চিত করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ফুটপাতে হাঁটা পথচারীর অধিকার এটি কারও ব্যক্তিগত সম্পদ নয়

আপডেট সময় : ১২:৪৩:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সিটি কর্পোরেশনের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভেকু ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ফুটপাত দখলমুক্ত করার একটি নাগরিক উদ্যোগ কীভাবে সংঘাত, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে গড়াতে পারে, এই ঘটনা তারই একটি গুরুতর উদাহরণ।

প্রথমেই পরিষ্কার করে বলা দরকার, ফুটপাত কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। ফুটপাত তৈরি করা হয়েছে সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচলের জন্য। একজন শিশু, একজন বৃদ্ধ, একজন নারী, একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কিংবা কর্মজীবী মানুষ, সবার সমান অধিকার রয়েছে সেই পথ ব্যবহারের।

অথচ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল করে দোকানপাট, পসরা কিংবা অস্থায়ী স্থাপনা বসানোর কারণে পথচারীদের অনেক সময় মূল সড়কে নেমে হাঁটতে হয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে, যানজট তৈরি হয় এবং নাগরিকের স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়।

জীবিকার প্রয়োজন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জীবিকার অধিকার অন্য মানুষের মৌলিক নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার লাইসেন্স হতে পারে না। একজন ব্যবসায়ী যদি এমনভাবে ফুটপাত দখল করেন যে হাজার হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে ব্যস্ত সড়কে হাঁটেন, তাহলে সেই কর্মকাণ্ডের সামাজিক ক্ষতির দায়ও বিবেচনায় নিতে হবে।

প্রশাসনের দায়িত্ব হলো বাস্তবসম্মত পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থা থাকলে তা বিবেচনা করা, কিন্তু জনসাধারণের চলাচলের জায়গা অনির্দিষ্টকাল দখল করে রাখাকে বৈধতা দেওয়া নয়।

আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও সরকারি গাড়িতে আগুন দেওয়া, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা কিংবা সরকারি যন্ত্রপাতি ধ্বংস করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না।

কোনো অভিযোগ থাকলে তা জানানো, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করা এবং আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর জননিরাপত্তাকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলে।

ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মিরপুর–১০ নম্বর গোল চত্বর এলাকায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

মিরপুরের এই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও কারা ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগে জড়িত, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে যদি প্রাথমিকভাবে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকে, সেই বিষয়টিও তদন্তে নিশ্চিত করতে হবে।

কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে প্রমাণ ছাড়া দায়ী করা যেমন অনুচিত, তেমনি তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে পরিচয় বা পেশা বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

সবচেয়ে বড় কথা, রাজধানীর ফুটপাত জনগণের সম্পদ। এই সম্পদ দখল করে ব্যক্তিগত ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ কোনোভাবেই জনস্বার্থের ঊর্ধ্বে হতে পারে না। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হলে প্রশাসনকে ধারাবাহিক, স্বচ্ছ ও আইনসম্মত অভিযান চালাতে হবে।

শুধু একদিন উচ্ছেদ করে আবার কয়েকদিন পর দখলের সুযোগ তৈরি হলে সমস্যার সমাধান হবে না। একই সঙ্গে পুনর্দখল ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

সাধারণ মানুষ বছরের পর বছর ফুটপাত দখলের কারণে যে ভোগান্তি সহ্য করছেন, সেটিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। একজন পথচারীর নিরাপদে হাঁটার অধিকার কোনোভাবেই একজন দখলদারের ব্যবসায়িক সুবিধার কাছে জিম্মি থাকতে পারে না।

ফুটপাত দখল বন্ধ হোক, পথচারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক। আর জনস্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে যারা সরকারি সম্পদে হামলা, অগ্নিসংযোগ বা ভাঙচুর করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আইন সবার জন্য সমান, এই নীতিই নিশ্চিত করতে হবে।