ঢাকা ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রান্তিক নারীদের আয়বৃদ্ধিমূলক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দিতে হবে: বিএনপিএস নদী ভাঙনের হুমকিতে মধ্যনগরের মহিষখলা জাতীয় স্মৃতিসৌধ ট্রাম্প-পুতিনের ফোন আলোচনা ইরান যুদ্ধ ও তেল বাজার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি, ১,৩২৭ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে অভ্যন্তরীণ তদন্ত দেড় কোটি মানুষ ছাড়ছে ঢাকা, ঈদে জনস্রোত সামাল দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ কমার একদিন পরই বাড়ল সোনার দাম, ভরিতে বেড়েছে ৩,২৬৬ টাকা বিশ্ব ঐতিহ্যের জামদানি বুনেও কষ্টের জীবন রূপগঞ্জের তাঁতিদের ফ্যামিলি কার্ড নারীর ক্ষমতায়নে সহায়ক হবে: সিপিডি ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য সরকারের: প্রধানমন্ত্রী

তৈরি পোশাকখাত এখন পোশাক খাত এখন আইসিইউতে: মোহাম্মদ হাতেম

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:২৮:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬ ১১৫ বার পড়া হয়েছে

পাটের পর পোশাক শিল্পও ধ্বংসের মুখে: গভীর সংকটে নিটওয়্যার খাত

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮২ শতাংশ আসে পোশাক খাত থেকে, যার মধ্যে নিট পোশাকের অবদান ৫৫ শতাংশ। তবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে পোশাক রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমেছে

দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প এখন চরম সংকটের মুখে। পাটশিল্পের পর এবার পোশাক খাতও ধ্বংসের পথে এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তাঁর ভাষায়, পোশাক খাত এখন আইসিইউতে আছে।

সোমবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে পোশাক শিল্পকে কাঁচামাল সংগ্রহে স্বাধীনতা দিতে হবে। কম দামে মানসম্মত সুতা পাওয়া গেলে সেখানে থেকেই সংগ্রহ করা ব্যবসার স্বাভাবিক নিয়ম। অথচ দেশীয় স্পিনিং মিলকে সুরক্ষার নামে আমদানিতে শুল্ক আরোপ করে পোশাক শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিজিএমইএর পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, আমদানিতে বাজার উন্মুক্ত না থাকলে রপ্তানি ঝুঁকিতে পড়বে। অন্যদিকে বিজিএমইএর আরেক পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম শুল্ক আরোপকে কোনো সমাধান নয় উল্লেখ করে বলেন, সরকার ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ‘উইন-উইন’ সমাধানের প্রয়োজন।

বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, বর্তমানে দেশীয় স্পিনিং মিল থেকে সুতা কিনলে প্রতি কেজিতে আমদানির তুলনায় ৪৬ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। কৃত্রিম সুরক্ষার মাধ্যমে একচেটিয়া বাজার তৈরির চেষ্টা করা হলে তা আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধ্বংস করবে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মান ও প্রতিযোগিতামূলক দরে সুতা দিতে পারলে আমদানির তুলনায় প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ সেন্ট বেশি দিয়েও দেশীয় সুতা কিনতে প্রস্তুত উদ্যোক্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮২ শতাংশ আসে পোশাক খাত থেকে, যার মধ্যে নিট পোশাকের অবদান ৫৫ শতাংশ। তবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে পোশাক রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমেছে। শুধু ডিসেম্বর মাসেই রপ্তানি কমেছে ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়লে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বাংলাদেশ ছেড়ে অন্য দেশে চলে যেতে পারে।

এই সংকট মোকাবিলায় যৌথ সংবাদ সম্মেলন থেকে সুতা আমদানিতে আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহার, বস্ত্রখাতে নগদ সহায়তা, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ, জ্বালানির যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ এবং স্বল্প সুদে ঋণসহ স্পিনিং মিলের উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় দেশের প্রধান রপ্তানি খাত মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে বলে সতর্ক করেন শিল্প নেতারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

তৈরি পোশাকখাত এখন পোশাক খাত এখন আইসিইউতে: মোহাম্মদ হাতেম

আপডেট সময় : ০৬:২৮:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮২ শতাংশ আসে পোশাক খাত থেকে, যার মধ্যে নিট পোশাকের অবদান ৫৫ শতাংশ। তবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে পোশাক রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমেছে

দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প এখন চরম সংকটের মুখে। পাটশিল্পের পর এবার পোশাক খাতও ধ্বংসের পথে এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তাঁর ভাষায়, পোশাক খাত এখন আইসিইউতে আছে।

সোমবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে পোশাক শিল্পকে কাঁচামাল সংগ্রহে স্বাধীনতা দিতে হবে। কম দামে মানসম্মত সুতা পাওয়া গেলে সেখানে থেকেই সংগ্রহ করা ব্যবসার স্বাভাবিক নিয়ম। অথচ দেশীয় স্পিনিং মিলকে সুরক্ষার নামে আমদানিতে শুল্ক আরোপ করে পোশাক শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিজিএমইএর পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, আমদানিতে বাজার উন্মুক্ত না থাকলে রপ্তানি ঝুঁকিতে পড়বে। অন্যদিকে বিজিএমইএর আরেক পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম শুল্ক আরোপকে কোনো সমাধান নয় উল্লেখ করে বলেন, সরকার ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ‘উইন-উইন’ সমাধানের প্রয়োজন।

বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, বর্তমানে দেশীয় স্পিনিং মিল থেকে সুতা কিনলে প্রতি কেজিতে আমদানির তুলনায় ৪৬ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। কৃত্রিম সুরক্ষার মাধ্যমে একচেটিয়া বাজার তৈরির চেষ্টা করা হলে তা আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধ্বংস করবে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মান ও প্রতিযোগিতামূলক দরে সুতা দিতে পারলে আমদানির তুলনায় প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ সেন্ট বেশি দিয়েও দেশীয় সুতা কিনতে প্রস্তুত উদ্যোক্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮২ শতাংশ আসে পোশাক খাত থেকে, যার মধ্যে নিট পোশাকের অবদান ৫৫ শতাংশ। তবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে পোশাক রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমেছে। শুধু ডিসেম্বর মাসেই রপ্তানি কমেছে ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়লে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বাংলাদেশ ছেড়ে অন্য দেশে চলে যেতে পারে।

এই সংকট মোকাবিলায় যৌথ সংবাদ সম্মেলন থেকে সুতা আমদানিতে আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহার, বস্ত্রখাতে নগদ সহায়তা, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ, জ্বালানির যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ এবং স্বল্প সুদে ঋণসহ স্পিনিং মিলের উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় দেশের প্রধান রপ্তানি খাত মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে বলে সতর্ক করেন শিল্প নেতারা।