তারেক রহমানের নেতৃত্বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের নতুন অভিযাত্রা
- আপডেট সময় : ০৭:৫৯:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
চোখে-মুখে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন। তিনি গঠনমূলক সিদ্ধান্তে অবিচল এবং সুদূরপ্রসারী চিন্তায় দৃঢ়। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও রাষ্ট্রগঠনের প্রক্রিয়ায় যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করে জনগণের আকাঙ্ক্ষার বাস্তব প্রতিফলন ঘটানোই বিএনপির মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নকে টেকসই, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশের অভিযাত্রা শুরু হবে, এমন প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারপারসন। কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নগরায়ণ, গণপরিবহন, সামাজিক সুরক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের সমন্বিত রূপরেখা নিয়ে একটি আধুনিক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তারেক রহমান বলেন, দেশের কৃষি খাতকে আধুনিক ও লাভজনক করে তোলার মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা হবে। কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার প্রসার ঘটানো হবে। একই সঙ্গে পরিকল্পিত নগরায়ণের মাধ্যমে শহর ও গ্রামের বৈষম্য কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বুধবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হবে। এসময় তারেক রহমান নগর ব্যবস্থাপনায় গণপরিবহনব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। যানজটমুক্ত শহর গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মঘণ্টা সাশ্রয়, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং নাগরিক জীবনের স্বস্তি ফেরানো হবে। এ লক্ষ্যে আধুনিক ও সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু করা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। রাজধানীর ওপর চাপ কমাতে স্যাটেলাইট সিটি গঠনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান।

সামাজিক নিরাপত্তা ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এই কার্ডের মাধ্যমে ন্যূনতম দশ দিনের জন্য চাল, ডাল, আলু ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে, যাতে সাধারণ মানুষ মূল্যস্ফীতি ও বাজার অস্থিরতার সময়েও ন্যায্যমূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পেতে পারে। তবে এসব ফ্যামিলি কার্ড প্রতিটি পরিবারের গৃহিণীর নামেই ইস্যু করা হবে বলে জানান তারেক রহমান। এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, পরিবার পরিচালনায় নারীরা স্বভাবতই অধিক মিতব্যয়ী ও দায়িত্বশীল। সংসারের প্রয়োজন, আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের বিষয়ে নারীরাই সাধারণত সবচেয়ে সচেতন ভূমিকা রাখেন।
তারেক রহমান বলেন, যখন একজন গৃহিণী নির্দিষ্ট একটি সময়ের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিশ্চয়তা পাবেন, তখন তিনি পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে আরও সুশৃঙ্খল ও স্থিতিশীলভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হবেন। এতে হঠাৎ বাজারদরের চাপ কিংবা অনিশ্চয়তার মধ্যেও পরিবারকে সামলানো সহজ হবে। তিনি আরও বলেন, এই পরিকল্পনার সুফল হয়তো স্বল্প সময়ের মধ্যেই পুরোপুরি দৃশ্যমান হবে না। তবে কয়েক বছরের মধ্যেই এর ইতিবাচক প্রভাব সমাজ ও অর্থনীতিতে সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার বিশ্বাস, নারীর ক্ষমতায়ন ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই উদ্যোগ ধীরে ধীরে একটি কার্যকর ও টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রূপ নেবে। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এই কর্মসূচির লক্ষ্য কেবল খাদ্য সহায়তা নয়, বরং পরিবারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নারীর ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করা এবং সমাজের ভেতরে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি মানবিক ভিত্তি গড়ে তোলা।

রাজধানীর পুরাতন ঢাকার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই জনপদকে ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি ঐতিহাসিক ও হেরিটেজ স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। উন্নয়ন ও ঐতিহ্য এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই পুরান ঢাকাকে আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়েও তারেক রহমান বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, ঢাকার ফুসফুসখ্যাত বুড়িগঙ্গা নদী সংস্কার করা হবে এবং নদীতে শিল্প ও গৃহস্থালি বর্জ্য ফেলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদী রক্ষা, খাল পুনরুদ্ধার ও সবুজ নগর গড়ে তোলার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব রাজধানী নির্মাণের অঙ্গীকার করেন তিনি।
সর্বোপরি, সারাদেশে অবকাঠামোগত উন্নয়নের এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারেক রহমান। যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নগরসেবায় সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নত করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিএনপি চেয়ারম্যান জানান, এসব পরিকল্পনার প্রতিটি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন করা হচ্ছে, যা শিগগিরই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। মতবিনিময় সভায় তারেক রহমান আরও বলেন, বিএনপি বরাবরই স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমে বিশ্বাসী। তিনি আশ্বাস দেন, নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে সাংবাদিক নিপীড়নমূলক সব আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হবে। স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে প্রণীত গণমাধ্যমবিরোধী ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণকারী আইনগুলো বাতিলে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই বিএনপির রাজনীতির মূল ভিত্তি। জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই একটি সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব এই বিশ্বাস নিয়েই বিএনপি আগামী দিনের পথচলা অব্যাহত রাখবে। এ সময় ডিআরইউর সভাপতি সালেহ আকন্দ বলেন, শোক জানানো এবং সংগঠনের একটি কর্মসূচিতে দাওয়াত দিতে এসেছি। তিনি দীর্ঘ সময় দিয়েছেন আমাদের। তার নিজস্ব পরিকল্পনা নিয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। স্বাধীন গণমাধ্যম বিষয়েও আলাপ হয়েছে। এছাড়া ডিআরইউর অবকাঠামো নিয়ে কি করা যায় সে বিষয়েও কথা হয়েছে বলে জানান সালেহ আকন্দ।
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের নেতৃত্বে ডিআরইউ’র কার্যনির্বাহী কমিটি তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি সালেহ শিবলী, সিনিয়র সাংবাদিক ও আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন, ডিআরইউ’র সহ-সভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, যুগ্ম সম্পাদক মো: জাফর ইকবাল, অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজান চৌধুরী, তথ্য প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল, ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া ও কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আকতার হোসেন, আলী আজম, মাহফুজ সাদি, আল-আমিন আজাদ, সুমন চৌধুরী এবং মো: মাজাহারুল ইসলাম।


















