ঢাকা ০২:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি ও এপার-ওপার যাতায়তে আয় জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি এখনও তাজা, শহীদ ও আহতরা শুধু সংখ্যার অংশ নয় পোস্টাল ব্যালট নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন সন্তান হারা মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ যেন হাজারো গুমের শিকার পরিবারের নীরব চিৎকার গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা

ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠক ২০ দফা শান্তি কাঠামো প্রস্তাবে যা রয়েছে

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:১০:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০২ বার পড়া হয়েছে

ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠক ২০ দফা শান্তি কাঠামো প্রস্তাবে যা রয়েছে

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাশিয়াইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি ২০ দফা শান্তি কাঠামো প্রস্তাব নিয়ে রোববার ফ্লোরিডায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ইউক্রেনীয় নেতৃত্বের মতে, প্রস্তাবিত এই কাঠামো ভবিষ্যৎ শান্তিচুক্তির একটি সম্ভাব্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে আলোচনায় থাকা ২৮ দফার একটি খসড়া রাশিয়ার প্রতি অতিরিক্ত সহনশীল বলে সমালোচিত হলে সেটি সংশোধন করে নতুন এই প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহের আলোচনার পর অধিকাংশ বিষয়ে দুই পক্ষের অবস্থান কাছাকাছি এলেও ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ এবং জাপোরিজ্জিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

খসড়ার শুরুতেই ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্তের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। এতে রাশিয়া ইউক্রেনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ এবং প্রশ্নাতীত আগ্রাসনবিরোধী চুক্তির কথা বলা হয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখতে যোগাযোগরেখা পর্যবেক্ষণের জন্য মহাকাশভিত্তিক মানববিহীন নজরদারি ব্যবস্থাসহ একটি আন্তর্জাতিক মনিটরিং কাঠামো গঠনের প্রস্তাব রয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চয়তার অংশ হিসেবে ইউক্রেন তার সশস্ত্র বাহিনী বর্তমান সক্ষমতা অনুযায়ী বজায় রাখবে। ন্যাটোর অনুচ্ছেদ এর আদলে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইউরোপীয় দেশগুলোর মাধ্যমে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইউক্রেন ইউরোপের বিরুদ্ধে আগ্রাসন না করার অঙ্গীকারকে আইনি সাংবিধানিক ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।

অর্থনৈতিক রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ইউক্রেনকে নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। স্বল্পমেয়াদে ইউরোপীয় বাজারে বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা, বিনিয়োগ সহায়তা এবং যুদ্ধপরবর্তী পুনর্গঠন মানবিক চাহিদা পূরণে প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বৈশ্বিক উন্নয়ন প্যাকেজ গঠনের কথাও খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের অবস্থান এখনো আলোচনাধীন।

জাপোরিজ্জিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যৌথ ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব দিলেও কিয়েভ সমান অংশীদারত্বে পরিচালনার পক্ষে। ভূখণ্ড ইস্যুতে ইউক্রেন বর্তমান যুদ্ধরেখায় সংঘাত বন্ধের পক্ষে থাকলেও রাশিয়া কিছু এলাকা থেকে ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে। প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র একটি নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চল মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের ধারণা দিয়েছে।

খসড়ায় যুদ্ধবন্দি বিনিময়, বেসামরিক আটক শিশুদের প্রত্যাবর্তনসহ মানবিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চুক্তি কার্যকর হলে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করবে ইউক্রেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সভাপতিত্বে একটি শান্তি পরিষদ বাস্তবায়ন তদারকি করবে। সব পক্ষ সম্মত হলে চুক্তি কার্যকরের সঙ্গে সঙ্গেই পূর্ণ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠক ২০ দফা শান্তি কাঠামো প্রস্তাবে যা রয়েছে

আপডেট সময় : ০৮:১০:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

রাশিয়াইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি ২০ দফা শান্তি কাঠামো প্রস্তাব নিয়ে রোববার ফ্লোরিডায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ইউক্রেনীয় নেতৃত্বের মতে, প্রস্তাবিত এই কাঠামো ভবিষ্যৎ শান্তিচুক্তির একটি সম্ভাব্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে আলোচনায় থাকা ২৮ দফার একটি খসড়া রাশিয়ার প্রতি অতিরিক্ত সহনশীল বলে সমালোচিত হলে সেটি সংশোধন করে নতুন এই প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহের আলোচনার পর অধিকাংশ বিষয়ে দুই পক্ষের অবস্থান কাছাকাছি এলেও ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ এবং জাপোরিজ্জিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

খসড়ার শুরুতেই ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্তের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। এতে রাশিয়া ইউক্রেনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ এবং প্রশ্নাতীত আগ্রাসনবিরোধী চুক্তির কথা বলা হয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখতে যোগাযোগরেখা পর্যবেক্ষণের জন্য মহাকাশভিত্তিক মানববিহীন নজরদারি ব্যবস্থাসহ একটি আন্তর্জাতিক মনিটরিং কাঠামো গঠনের প্রস্তাব রয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চয়তার অংশ হিসেবে ইউক্রেন তার সশস্ত্র বাহিনী বর্তমান সক্ষমতা অনুযায়ী বজায় রাখবে। ন্যাটোর অনুচ্ছেদ এর আদলে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইউরোপীয় দেশগুলোর মাধ্যমে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইউক্রেন ইউরোপের বিরুদ্ধে আগ্রাসন না করার অঙ্গীকারকে আইনি সাংবিধানিক ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।

অর্থনৈতিক রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ইউক্রেনকে নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। স্বল্পমেয়াদে ইউরোপীয় বাজারে বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা, বিনিয়োগ সহায়তা এবং যুদ্ধপরবর্তী পুনর্গঠন মানবিক চাহিদা পূরণে প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বৈশ্বিক উন্নয়ন প্যাকেজ গঠনের কথাও খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের অবস্থান এখনো আলোচনাধীন।

জাপোরিজ্জিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যৌথ ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব দিলেও কিয়েভ সমান অংশীদারত্বে পরিচালনার পক্ষে। ভূখণ্ড ইস্যুতে ইউক্রেন বর্তমান যুদ্ধরেখায় সংঘাত বন্ধের পক্ষে থাকলেও রাশিয়া কিছু এলাকা থেকে ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে। প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র একটি নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চল মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের ধারণা দিয়েছে।

খসড়ায় যুদ্ধবন্দি বিনিময়, বেসামরিক আটক শিশুদের প্রত্যাবর্তনসহ মানবিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চুক্তি কার্যকর হলে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করবে ইউক্রেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সভাপতিত্বে একটি শান্তি পরিষদ বাস্তবায়ন তদারকি করবে। সব পক্ষ সম্মত হলে চুক্তি কার্যকরের সঙ্গে সঙ্গেই পূর্ণ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে।