জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির জোট গঠনের সিদ্ধান্তে তীব্র আপত্তির কারণেই তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এনসিপির এক যুগ্ম আহ্বায়ক তাসনিম জারার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের বিরোধিতা করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। তবে জোট গঠন ঠেকানো সম্ভব না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
এনসিপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দলটি ইতোমধ্যে জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। এই প্রেক্ষাপটে তাসনিম জারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং সে কারণেই দল থেকে সরে দাঁড়ান।
শনিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে ডা. তাসনিম জারা জানান, তিনি কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন না। বরং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জনগণের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
এনসিপির একাধিক সূত্র আরও জানায়, এর আগে এনসিপি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ে গঠিত গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট দলীয় সিদ্ধান্তেই আত্মপ্রকাশ করেছিল। তবে নির্বাচনের প্রাক্কালে ওই জোটের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত মনে করায় এনসিপি নতুন করে জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের পথে এগিয়েছে।
এ বিষয়ে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “চূড়ান্তভাবে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোট হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকালই আনুষ্ঠানিকভাবে এ জোটের ঘোষণা দেওয়া হবে।”
রাজনৈতিক অঙ্গনে এনসিপির এই সিদ্ধান্ত এবং তাসনিম জারার পদত্যাগ ইতোমধ্যে নতুন আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।