জাতীয় ফল মেলায় কাঠালের বার্গার আনারসের জেলি
- আপডেট সময় : ০২:৫৩:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুন ২০২৪ ৩৩০ বার পড়া হয়েছে
এই প্রথম মেলায় কাঠালের বার্গার আর আনারসের জেলি
অনিরুদ্ধ
কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ঢাকার খামার বাড়িতে কেআইবি চত্বরে পা রাখতেই দেখা গেলো, নান্দনিক ডিজাইনে সাজানো জাতীয় ফল মেলার ঘাট থেকে নানা ফলে বোঝাই দুটি নৌকা গন্তব্যে ছেড়ে যেতে প্রস্তুত।
সামনে দু’কদম এগিয়ে যেতেই গলায় তাজা করমচার মালা ও হাতে করমচার বালা পড়া এক নারী। মুখে তার স্মিত হাসি। চোখে মুখে আবিষ্কারের গর্বিত অঙ্গিকার। শান্তভাবে পথ চলা। কথা বলার অনুমতি চাইতেই স্মিত হেসে বললেন, আসুন আমার স্টলে।
দেশের এই প্রথম বারের মতো কাঠাল দিয়ে শতভাগ চিনিমুক্ত এবং স্বাস্থ্যসম্মত বার্গার ও আনারসের জেলি বা ডেজার্ট তৈরি করেছেন। যা কিনা জাতীয় ফল মেলার অন্যতম আকর্ষণ। জানালেন তিনি একজন কৃষিবিদ (এগ্রিকাচারিষ্ট) নাম তার পারভীন সুলতানা। বাংলাদেশের উন্নয়ন তার স্বপ্ন। তিনি মনেপ্রাণে লালন করেন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অংশি হবার।
হাজারো অস্বাস্থ্যকর খাবার যথা ফার্স্ট ফুড এসববের বাইরে বাংলাদেশের ফল দিয়ে কিভাবে মুখরোচ এবং গর্ব করার মতো স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি করে বাজারজাত করা যায়, সেই ভাবনা থেকেই হোম গ্রো তথা ঘরের সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে কাজ করে চলেছেন পারভীন সুলতানা।

তার ভাষায় এখন আর ঘরে বসে থাকার ভাবনা অতীত। যার যতটুকু সামর্থ আছে তাই নিয়ে একটা কাজ শুরু করে দিতে হবে। তবে কাজটা শুরু আগে একটু ভেবে নিতে হবে। দেশিয় ফলের নানা আইটেম তৈরি করে দেশব্যাপী বাজারজাত এমনকি দেশের বাইরে রপ্তানির চিন্তা রয়েছে এই উদ্যোক্তার।
বাংলাদেশে প্রচুর কাঠাল উৎপাদন হয়। সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়। কাঠালের বিজ্ঞানসম্মত ব্যবহার জাতীয় ফলটির কদর বহুগুণ বেড়ে যাবে বলেন, উদ্যোক্তা পারভীন সুরতানা।
তিপান্ন বছরের বাংলাদেশ এখন সমৃদ্ধ। ফুলে ফলে কতটা সমৃদ্ধ তারই স্বাক্ষর রাখলো জাতীয় ফল মেলা। ছুটির দিনে হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখরিত মেলা। বেচাকেনাও হচ্ছে বেশ। ‘ফলে পুষ্টি অর্থ বেশ-স্মার্ট কৃষির বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া তিনদিনের জাতীয় ফল মেলার পর্দা নামবে শনিবার।
ফলমেলায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ ৬৩টি স্টল রয়েছে। নানা ধরণের ফলে ঠাসা প্রতিটি স্টল। ফল দিয়ে কত রকমের খাবার তৈরি করা যায় তা নিয়ে প্রচেষ্টার কমতি নেই। তেমনই একজন ‘হোম গ্রো’র প্রতিষ্ঠাতা পারভীন সুলতানা। তার গবেষণায় বাজারে এনেছেন কাঠালের বার্গার, আনারস লিচুর কাস্টার্ডসহ নানা আইটেম। পিছিয়ে পড়া নারী সমাজকে কাজের কাজের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বি করার পরিকল্পনাও রয়েছে এই উদ্যোক্তার।

এবারের মেলায় বাহারি ফলের আয়োজনে মুগ্ধ দর্শণার্থীরা। শিক্ষার্থীরাও আসছে দল বেধে। অনেকে এসেছেন পরিবার-পরিজন নিয়ে। উৎসবের আমেজে বিক্রি হচ্ছে নানা ফল। পাহাড় থেকেও এসেছে নানা ফল। এসেছে অগ্নিশ্বর কলা। বড় আকার এই কলা বান্দবানের। ফলমেলায় উত্তরাঞ্চলে উৎপাদিত ২ কেচি ওজনের আম প্রদর্শীত হতে দেখা গেলো। শিক্ষার্থীরা মেলায় ঘুরে নানা জাতের ফলের সঙ্গে পরিচিতি হতে পেরে আনন্দিত।
ফল ব্যবসায়ীরা জানালেন, এবারে ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে ফলের অনেক ক্ষতি হয়েছে। যে কারণে দাম কিছুটা চড়া। মেলার অধিকাংশ স্টলেই বাগান থেকে সরাসরি ফল নিয়ে আসা হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে মোট ফল উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ ৩৩ হাজার টন। এর মধ্যে আম উৎপাদন হয়েছে ২৭ লাখ টন, লিচু ২ লাখ ৩০ হাজার টন, কাঁঠাল ১৮ লাখ ২৪ হাজার টন ও আনারস উৎপাদন হয়েছে ৫ লাখ ৮০ হাজার টন।
এছাড়াও কতরকেমের ফল উৎপাদন হচ্ছে বাংলাদেশে, যার হিসাব পাওয়া যায়নি।




















