ঢাকা ০৬:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুর অধিকার রক্ষায় প্রয়োজন সুনির্দ্দিষ্ট আইন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ৪২৩ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

সংলাপে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা 

গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের ওপর অমানবিক নিপীড়ন ঘটনা মধ্যযুগীয় পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। শারীরিক নির্যাতন থেকে শুরু করে হত্যার অভিযোগও ওঠে আসছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এমন অনেক মামলায় জড়িতদের আটকও করেছেন। চলছে মামলাও।

প্রতিনিয়ত এমনি অভিযোগ সামাজিক বিষফোড়া হয়ে দাড়িয়েছে। অমানবিক এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রয়োজন সুনির্দ্দিষ্ট আইন। যা কিনা গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুকর্মীকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে।

দেশে গৃহকর্মে নিয়োজিত ৪০ শতাংশ শিশু নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এই অমানবিকতা রুখতে পারে সুনির্দ্দিষ্ট আইন। এমন প্রস্তাবনা ওঠে এসেছে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের তরফে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সম্মেলন কক্ষে ‘গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুর অধিকার ও সুরক্ষায় সুনির্দ্দিষ্ট আইনের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক সংলাপে এ সব কথা বলেন তারা। জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা এবং উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (এএসডি), শাপলা নীড় ও এডুকো-বাংলাদেশ আয়োজিত সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ।

ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, শিশুশ্রম বিশ্বের কোথাও গ্রহণযোগ্য নয়। তাই শিশুশ্রম বন্ধ করে শিশুদের মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে আমরা সভ্য সমাজের বাসিন্দা কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিবে। তিনি আরো বলেন, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে গৃহকর্মে নিয়োজিত অনেক শিশু আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

আবার কারো আশ্রয় হয়েছে যৌন পল্লীতে। এমনকি অনেকে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। তাই সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে সকল ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনের লক্ষ্যে কাজ করছে। শুধু ঝুঁকিপূর্ণ নয়, সকল প্রকার শিশুশ্রম বন্ধে সকলকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সিনিয়র সহকারি সচিব খোন্দকার মো. নাজমূল হুদা শামিম বলেন, সারাদেশে শিশুশ্রম বন্ধে কাজ করে যাচ্ছে শ্রম মন্ত্রণালয়। আমাদের টার্গেট ২০২৫ সালের মধ্যে শিশু শ্রম মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ইতিমধ্যে আমরা চারটি প্রকল্পের আওতায় ৪ লাখ শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সরকারের নীতি নির্ধারকরা শিশু শ্রম নিরসন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিলে শ্রম মন্ত্রণালয় সার্পোট দেবে বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে মো. হামিদুর রহমান বলেন, গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন। সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি)-এর আলোকে সরকার ২০২৫ সনের মধ্যে সব ধরনের শিশু শ্রম নিরসনে অঙ্গীকারাবদ্ধ। সরকারের এই প্রতিশ্রুতি ও ঘোষিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু গৃহকর্মীর অধিকার ও সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে একটি যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

সংলাপে মূল প্রবন্ধে বলা হয়, সরকার এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাসমূহ শিশু গৃহকর্মীদের অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে বিগত দুই দশক ধরে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন ও সংশোধন এবং বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন। তা সত্ত্বেও শিশু গৃহকর্মীদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি এখনো একটি অন্যতম সমস্যা হিসেবে বিরাজ করছে।

বিদ্যমান আইনি কাঠামোর দুর্বলতা এবং নীতিমালা সমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ায় গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সবচেয়ে জরুরি বিষয় হচ্ছে, দেশের বিদ্যমান কোন আইনই শিশু গৃহকর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। ফলে, ব্যাপক সংখ্যক শিশু গৃহকর্মী আইনি সুরক্ষা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত। তাই নতুন আইন প্রণয়ন জরুরি। ইতিমধ্যেই গৃহকর্মী সুরক্ষা আইনের একটি খসড়া তৈরী করা হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনার মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খসড়া আইনটি চূড়ান্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে প্রবন্ধে।

এএসডি’র কর্মসূচি পরিচালক মো. হামিদুর রহমানের সভাপতিত্বে সংলাপে বক্তৃতা করেন মানবাধিকার কমিশনের সদস্য মো. সেলিম রেজা ও পরিচালক কাজী আরফান আশিক, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারি সচিব খোন্দকার মো. নাজমূল হুদা শামিম, শাপলা নীড়ের কান্ট্রি ডিরেক্টর তমকো উচিয়ামা, শিশু অধিকার ফোরামের সভাপতি মো. মাহবুবুল হক প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published.

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুর অধিকার রক্ষায় প্রয়োজন সুনির্দ্দিষ্ট আইন

আপডেট সময় : ০৯:০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

 

সংলাপে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা 

গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের ওপর অমানবিক নিপীড়ন ঘটনা মধ্যযুগীয় পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। শারীরিক নির্যাতন থেকে শুরু করে হত্যার অভিযোগও ওঠে আসছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এমন অনেক মামলায় জড়িতদের আটকও করেছেন। চলছে মামলাও।

প্রতিনিয়ত এমনি অভিযোগ সামাজিক বিষফোড়া হয়ে দাড়িয়েছে। অমানবিক এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রয়োজন সুনির্দ্দিষ্ট আইন। যা কিনা গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুকর্মীকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে।

দেশে গৃহকর্মে নিয়োজিত ৪০ শতাংশ শিশু নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এই অমানবিকতা রুখতে পারে সুনির্দ্দিষ্ট আইন। এমন প্রস্তাবনা ওঠে এসেছে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের তরফে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সম্মেলন কক্ষে ‘গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুর অধিকার ও সুরক্ষায় সুনির্দ্দিষ্ট আইনের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক সংলাপে এ সব কথা বলেন তারা। জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা এবং উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (এএসডি), শাপলা নীড় ও এডুকো-বাংলাদেশ আয়োজিত সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ।

ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, শিশুশ্রম বিশ্বের কোথাও গ্রহণযোগ্য নয়। তাই শিশুশ্রম বন্ধ করে শিশুদের মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে আমরা সভ্য সমাজের বাসিন্দা কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিবে। তিনি আরো বলেন, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে গৃহকর্মে নিয়োজিত অনেক শিশু আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

আবার কারো আশ্রয় হয়েছে যৌন পল্লীতে। এমনকি অনেকে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। তাই সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে সকল ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনের লক্ষ্যে কাজ করছে। শুধু ঝুঁকিপূর্ণ নয়, সকল প্রকার শিশুশ্রম বন্ধে সকলকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সিনিয়র সহকারি সচিব খোন্দকার মো. নাজমূল হুদা শামিম বলেন, সারাদেশে শিশুশ্রম বন্ধে কাজ করে যাচ্ছে শ্রম মন্ত্রণালয়। আমাদের টার্গেট ২০২৫ সালের মধ্যে শিশু শ্রম মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ইতিমধ্যে আমরা চারটি প্রকল্পের আওতায় ৪ লাখ শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সরকারের নীতি নির্ধারকরা শিশু শ্রম নিরসন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিলে শ্রম মন্ত্রণালয় সার্পোট দেবে বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে মো. হামিদুর রহমান বলেন, গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন। সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি)-এর আলোকে সরকার ২০২৫ সনের মধ্যে সব ধরনের শিশু শ্রম নিরসনে অঙ্গীকারাবদ্ধ। সরকারের এই প্রতিশ্রুতি ও ঘোষিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু গৃহকর্মীর অধিকার ও সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে একটি যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

সংলাপে মূল প্রবন্ধে বলা হয়, সরকার এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাসমূহ শিশু গৃহকর্মীদের অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে বিগত দুই দশক ধরে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন ও সংশোধন এবং বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন। তা সত্ত্বেও শিশু গৃহকর্মীদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি এখনো একটি অন্যতম সমস্যা হিসেবে বিরাজ করছে।

বিদ্যমান আইনি কাঠামোর দুর্বলতা এবং নীতিমালা সমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ায় গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সবচেয়ে জরুরি বিষয় হচ্ছে, দেশের বিদ্যমান কোন আইনই শিশু গৃহকর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। ফলে, ব্যাপক সংখ্যক শিশু গৃহকর্মী আইনি সুরক্ষা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত। তাই নতুন আইন প্রণয়ন জরুরি। ইতিমধ্যেই গৃহকর্মী সুরক্ষা আইনের একটি খসড়া তৈরী করা হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনার মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খসড়া আইনটি চূড়ান্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে প্রবন্ধে।

এএসডি’র কর্মসূচি পরিচালক মো. হামিদুর রহমানের সভাপতিত্বে সংলাপে বক্তৃতা করেন মানবাধিকার কমিশনের সদস্য মো. সেলিম রেজা ও পরিচালক কাজী আরফান আশিক, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারি সচিব খোন্দকার মো. নাজমূল হুদা শামিম, শাপলা নীড়ের কান্ট্রি ডিরেক্টর তমকো উচিয়ামা, শিশু অধিকার ফোরামের সভাপতি মো. মাহবুবুল হক প্রমুখ।