কোদাল হাতে খাল খননে প্রধানমন্ত্রী, কৃষিতে স্বনির্ভরতার ডাক
- আপডেট সময় : ০২:১৫:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে
১৯৭৭ সালে ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বাঁয়ে); গতকাল আবার একই কর্মসূচি চালু করেন তাঁর ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান : ছবি সংগ্রহ
পাঁচ বছরে নদী-নালা, খাল ও জলাধার মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খনন ও পুনঃখনন করা হবে
কৃষি বিপ্লবের ভিত্তি তৈরি এবং খাদ্য উৎপাদনে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে
কৃষক ভালো থাকলেই ভালো থাকবে দেশ- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়ায় খাল খনন কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিয়ে এক নতুন বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার তিনি নিজ হাতে কোদাল চালিয়ে খনন কাজের উদ্বোধন করেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।

এই কর্মসূচির পেছনে রয়েছে একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সারা দেশে ৩ হাজার ৬৩৬ মাইল খাল খনন করে কৃষি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন।
তার সেই উদ্যোগ দেশের সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমান সরকার সেই সফল অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে নতুনভাবে দেশব্যাপী খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
প্রথম পর্যায়ে একযোগে ৫৪টি জেলায় ৫৪টি খালের খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে নদী-নালা, খাল ও জলাধার মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খনন ও পুনঃখনন করা হবে।

এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে কৃষি সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানো।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আধুনিক ও টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে খননকৃত খালগুলো দীর্ঘদিন কার্যকর থাকে। পরিবেশ ও কৃষি বিশেষজ্ঞরাও এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
তাদের মতে, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা গেলে এই প্রকল্প দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, খাল খনন সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের সেচ সমস্যার সমাধান হবে এবং ফসল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এতে কৃষকের আয় বাড়বে এবং গ্রামীণ জীবনে নতুন গতি আসবে।
নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী জলাশয় ও খাল সংস্কারের এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে সরকার। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি একটি কৃষি বিপ্লবের ভিত্তি তৈরি করবে এবং খাদ্য উৎপাদনে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


















