ঢাকা ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাষ্ট্রপতির তিন অপরাধে ভাষণ বর্জন: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান খুলনা-মোংলা মহাসড়কে ভয়াবহ সংঘর্ষ, নিহত ১৩ মানুষই ছিল অ্যালার্ম ঘড়ি: ব্রিটেন-আয়ারল্যান্ডের এক বিস্মৃত পেশার গল্প ফ্যাসিবাদী আমলে পুলিশকে দলীয় বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করা হয় সংসদে রাষ্ট্রপতি সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন সিইসি, ড. ইউনূস ও বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা পাটপণ্যের ব্যবহার বাড়াতে উদ্যোগী সরকার: কৃষক-উদ্যোক্তা উৎসাহিত হবে: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী নন্দনে নিউজ কলকাতার ত্রৈমাসিক সাহিত্য অনুষ্ঠান ও গুণীজন সংবর্ধনা বাংলাদেশে কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু : স্বনির্ভর দেশ গড়ার ডাক প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি মির্জা আব্বাস, দেশবাসীর দোয়া চাইলেন আফরোজা আব্বাস

ইতিহাস সন্ধ্যানী একজন রবিউল আলম

উদয়ন চৌধুরী, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ১২:৩৫:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২১ ৬০১ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইতিহাসের পরতে পরতে হাটাই তার কাজ। এটাকে তিনি পরম যত্নে লালন করেন। বিশেষ করে বাঙালির মুক্তির সনদ ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ঢাকা শহরের পশ্চিমপ্রান্ত রায়ের বাজার ছিলো প্রান্তিক এলাকা। এখানের বিস্তৃর্ণ এলাকাজুড়ে ইট ভাটা, খালবিল, ডোবা-নালা। বর্তমান রায়েরবাজার চিত্র তখন অতীত। এই রায়ের বাজারের বাসিন্দাই রবিউল আলম।

বছর চৌদ্দ বয়সী রবিউল ঘরে থেকেই শুনতে পেতেন নারী-পুরুষের আর্তচিৎকার। জীবনের শেষ সময়ের আকৃতি নিস্তব্ধ রায়েরবাজারের আকাশে ছড়িয়ে পড়তো। আশপাশের বাসিন্দারা ঘরের মধ্যে থেকেও কার্যত মৃত লাশের মতোই পড়ে থাকতেন। হানাদার বর্বর পাকিস্তানী বাহিনীর

অত্যাচারে তাদের শরীর হিম হয়ে আসতো। রবিউল আলমও তাদেরই একজন। যিনি কান পেতে শোনতেন মধ্য রাতে মানুষের আর্তনাদ। সেই কৈশোরেই তার দহন যন্ত্রণা! তারতো সহায়তা করার কোন শক্তি নেই। এমন চিন্তা করে অজান্তে চোখের জল গড়াতো।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশ-বিদেশের সংবাদমাধ্যমে সেসময়ের লোমহর্ষক বর্ণনা ওঠে এসেছে রবিউল আলমের জবানীতে। তিনি বার বার উচ্চারণ করে গিয়েছেন, রায়ের বাজারের যে বটগাছে ঝুলিয়ে নির্মমভাবে আত্যাচার চালিয়ে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে, সেই ‘বটগাছটি’ রক্ষার জন্য।

রবিউল আলম রায়ের বাজার বদ্ধভূমি থেকে অগুনতি শহীদের মরদেহ তুলে দিয়েছেন। মাথার ওপরে আকাশ আর নিচে পচাগলা মরদেহ উদ্ধারে রবিউল আলম দিনভর কাজ করে গিয়েছেন। কোথায় পেয়েছিলেন এতো শক্তি? কোন কোন দিন দিনভর না খেয়েই কাজটি করে গিয়েছেন অবলীলায়। যে সব মরদেহ তিনি উদ্ধার করে দিয়েছেন, তার মধ্যে নারীও ছিলেন। উদ্ধারকৃত মরদেহের অধিকাংশেরই চোখ-হাত বাধা এবং দেহে নির্মম আঘাতের চিহ্ন!

অবশেষে ‘আমার দেখা রায়েরবাজার বদ্ধভূমি এবং শহীদ বুদ্ধিজীবীদের রক্তেভেজা একটি বটগাছ’ শিরোনামে একটি বই লিখেছেন রবিউল আলম। এই বইটি একটি ইতিহাস, একটি জীবন্ত দলিল বললেও ভূল হবে না।

(ভয়েস একাত্তর’র অগুণতি পাঠকের জন্য রবিউল আলমের একটি বিশেষ সাক্ষাতকার সঙ্গে ভিডিওসহ প্রকাশের জন্য তৈরি করা হচ্ছে )

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ইতিহাস সন্ধ্যানী একজন রবিউল আলম

আপডেট সময় : ১২:৩৫:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২১

ইতিহাসের পরতে পরতে হাটাই তার কাজ। এটাকে তিনি পরম যত্নে লালন করেন। বিশেষ করে বাঙালির মুক্তির সনদ ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ঢাকা শহরের পশ্চিমপ্রান্ত রায়ের বাজার ছিলো প্রান্তিক এলাকা। এখানের বিস্তৃর্ণ এলাকাজুড়ে ইট ভাটা, খালবিল, ডোবা-নালা। বর্তমান রায়েরবাজার চিত্র তখন অতীত। এই রায়ের বাজারের বাসিন্দাই রবিউল আলম।

বছর চৌদ্দ বয়সী রবিউল ঘরে থেকেই শুনতে পেতেন নারী-পুরুষের আর্তচিৎকার। জীবনের শেষ সময়ের আকৃতি নিস্তব্ধ রায়েরবাজারের আকাশে ছড়িয়ে পড়তো। আশপাশের বাসিন্দারা ঘরের মধ্যে থেকেও কার্যত মৃত লাশের মতোই পড়ে থাকতেন। হানাদার বর্বর পাকিস্তানী বাহিনীর

অত্যাচারে তাদের শরীর হিম হয়ে আসতো। রবিউল আলমও তাদেরই একজন। যিনি কান পেতে শোনতেন মধ্য রাতে মানুষের আর্তনাদ। সেই কৈশোরেই তার দহন যন্ত্রণা! তারতো সহায়তা করার কোন শক্তি নেই। এমন চিন্তা করে অজান্তে চোখের জল গড়াতো।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশ-বিদেশের সংবাদমাধ্যমে সেসময়ের লোমহর্ষক বর্ণনা ওঠে এসেছে রবিউল আলমের জবানীতে। তিনি বার বার উচ্চারণ করে গিয়েছেন, রায়ের বাজারের যে বটগাছে ঝুলিয়ে নির্মমভাবে আত্যাচার চালিয়ে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে, সেই ‘বটগাছটি’ রক্ষার জন্য।

রবিউল আলম রায়ের বাজার বদ্ধভূমি থেকে অগুনতি শহীদের মরদেহ তুলে দিয়েছেন। মাথার ওপরে আকাশ আর নিচে পচাগলা মরদেহ উদ্ধারে রবিউল আলম দিনভর কাজ করে গিয়েছেন। কোথায় পেয়েছিলেন এতো শক্তি? কোন কোন দিন দিনভর না খেয়েই কাজটি করে গিয়েছেন অবলীলায়। যে সব মরদেহ তিনি উদ্ধার করে দিয়েছেন, তার মধ্যে নারীও ছিলেন। উদ্ধারকৃত মরদেহের অধিকাংশেরই চোখ-হাত বাধা এবং দেহে নির্মম আঘাতের চিহ্ন!

অবশেষে ‘আমার দেখা রায়েরবাজার বদ্ধভূমি এবং শহীদ বুদ্ধিজীবীদের রক্তেভেজা একটি বটগাছ’ শিরোনামে একটি বই লিখেছেন রবিউল আলম। এই বইটি একটি ইতিহাস, একটি জীবন্ত দলিল বললেও ভূল হবে না।

(ভয়েস একাত্তর’র অগুণতি পাঠকের জন্য রবিউল আলমের একটি বিশেষ সাক্ষাতকার সঙ্গে ভিডিওসহ প্রকাশের জন্য তৈরি করা হচ্ছে )