আপন গন্তব্যে মৌসুমি বায়ু, ঘূর্ণিঝড় প্রবণ অক্টোবর মাস
- আপডেট সময় : ০৮:২৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ অক্টোবর ২০২৪ ১৮০ বার পড়া হয়েছে
২০২২ ও ২০২৩ অক্টোবরেই ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং ও হামুন আঘাত হেনেছিলো
চলতি মাসের মাঝামাঝি ফিরে যাবে বর্ষকাল। সেই সঙ্গে আপন গন্তব্যের পথে বর্ষাবাহী মৌসুমি বায়ু। চলতি বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিক বৃষ্টির দেখা যায়নি বহু অঞ্চলে। বিদায় সেপ্টেম্বর মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হলেও রংপুর বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে কম এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি পূর্বাভাস দিয়ে জানিয়েছে, চলতি অক্টোবর মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। যার মধ্যে একটি নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। সামগ্রিকভাবে দেশজুড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
আমেরিকার গ্লোবাল ফোরকাস্ট সিস্টেম (জিএফএস) আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল বিশ্লেষণ করে কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানান, বঙ্গোপসাগরে আবারও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। চলতি অক্টোবর মাসের ১৫ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
অক্টোবর মাসের এই সময়ে অতীতে বারবার ঘূর্ণিঝড় আঘাত করার নজির রয়েছে। ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এবং ২০২৩ সালের অক্টোবরে ঘূর্ণিঝড় হামুন সৃষ্টি হয়েছিল। ঘূর্ণিঝড় দুটি সরাসরি বাংলাদেশের খুলনা ও বরিশাল উপকূলে আঘাত হেনেছিল।
আগামী শনিবারের মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আজ বুধবার থেকে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে শনিবার পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য অনিরাপদ আবহাওয়া বিরাজ করার আশঙ্কা করা যাচ্ছে।
বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় সমুদ্র উত্তাল থাকার আশঙ্কা করা যাচ্ছে। শনিবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সমুদ্রগামী জেলেদের মাছ ধরার জন্য গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে।
এ সময়ে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা এবং মাছ ধরার নৌকাগুলোকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে জেলেদের সতর্ক করা, ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য আঘাত মোকাবিলার জন্য উপকূলীয় বাসিন্দাদের সচেতন করা।
আবহাওয়া বিজ্ঞানিদের পরামর্শ, উপকূলীয় অঞ্চলে যারা বসবাস করেন, তাদের যে কোনো ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এক্ষেত্রে পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে উপকূলীয় এলাকায় দ্রুতগতিতে সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ।



















