বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পাহারায় সাপ ও কুমির ব্যবহারের চিন্তা বিএসএফ’র
- আপডেট সময় : ০৮:০৬:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় নতুন কৌশল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ফেডারেল–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ) নদী ও জলাভূমি অধ্যুষিত কিছু সীমান্ত এলাকায় বিকল্প নজরদারি পদ্ধতি বিবেচনা করছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশনায় বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ এমন একটি পরিকল্পনা করছে যা সমালোচনার সৃষ্টি করেছে।
সীমান্তের ১৭৫ কিলোমিটার নদী ও জলাভূমিতে সাধারণ কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় ভারতীয় বাহিনী ভাবছে সেখানে সাপ ও কুমির মোতায়েনের কথা!
বাংলাদেশ সীমান্তের মোট ৪,০৯৬ দশমিক ৭ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ৩,২৪০ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া আছে। বাকি ৮৫০ কিলোমিটারের মধ্যে সেই ১৭৫ কিলোমিটার এমন এলাকা, যেখানে নদী ও জলাভূমির কারণে বেড়া দেওয়া দায়সাধ্য নয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট প্রায় ৪,০৯৬ দশমিক ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের মধ্যে অধিকাংশ স্থানে কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার এলাকা ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে এখনো অরক্ষিত রয়ে গেছে।
এসব এলাকায় প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতাকে সহায়ক হিসেবে ব্যবহারের ধারণা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
তবে বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ের চিন্তাভাবনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলে এই ধরনের ধারণা বাস্তবায়নযোগ্যতা, মানবাধিকার ও পরিবেশগত দিক থেকে বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় টেকসই ও পারস্পরিক আস্থাভিত্তিক উদ্যোগই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা ও সংলাপ অব্যাহত রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মত দিয়েছেন।
বিএসএফ সূত্র জানিয়েছে, জনবল সংকট এবং শারীরিক অযোগ্যতা মোকাবিলায় তারা প্রকৃতিকে ‘সাহায্যকারী সেনা’ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।
বাহিনীর এই পরিকল্পনাকে তারা ‘প্রতিরোধমূলক’ বললেও এই সিদ্ধান্ত হাস্যরস ও সমালোচনার সৃষ্টি করেছে।
এমন পরিকল্পনার সাথে যদিও যুক্তরাষ্ট্রের ‘অ্যালিগেটর আলকাটরাজ’ উদাহরণ তুলনা করা হচ্ছে, যেখানে বন্দিদের পালানো রোধ করতে কুমির ব্যবহার করা হয়।
বর্তমানে বিএসএফ প্রায় আড়াই লাখ জনবল দিয়ে চার হাজার কিলোমিটার সীমান্ত পাহারা দেয়। প্রতি কিলোমিটারে মাত্র ৪১ জন, যার মধ্যে ২০ শতাংশ শারীরিকভাবে পুরোপুরি ফিট নয়।
তাই নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য প্রকৃতিকে ব্যবহার করার এই কৌশল অনেকটাই নিজেদের দুর্বলতাকে ঢাকার ঢাল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: দ্য ফেডারেল














