সমালোচনা নয়, সুস্পষ্ট পরিকল্পনায় দেশ গড়ার ডাক তারেক রহমানের
- আপডেট সময় : ০৬:১৩:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনায় সময় নষ্ট না করে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার ঢাকার কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে আয়োজিত ঢাকা-১০ আসনের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ বক্তব্য দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী রবিউল আলম রবি।
তারেক রহমান বলেন, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ নয়, বরং জনগণের কল্যাণে বাস্তবসম্মত রূপরেখা উপস্থাপন করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যে আদর্শ ধারণ করেছেন, বাংলাদেশই আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা, সেই চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, শুধু সমালোচনা করে জনগণের কোনো উপকার হয় না। একটি রাজনৈতিক দলের হাতে যখন জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকে, তখনই দেশ ও মানুষের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত হয়।
বিএনপির বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, কৃষকদের সহায়তায় কৃষি কার্ড এবং গ্রামীণ ও প্রান্তিক নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে স্কুলশিক্ষকদের কম্পিউটার প্রদান এবং প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
প্রবাসীদের অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, প্রায় দেড় কোটি প্রবাসীর কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখে। তাঁদের হয়রানি কমানো, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশে ফিরে সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের জীবনমান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, মসজিদ, মাদ্রাসার ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানজনক জীবনের নিশ্চয়তা প্রদান করা হবে।
বিএনপির অতীত শাসনামলের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে এবং খালেদা জিয়ার সময় শিল্পায়ন ও নারীশিক্ষায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে এমার্জিং টাইগার হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু ভোটের দিন নয়, এটি ১৬ বছর ধরে অপেক্ষমাণ জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন। নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নকল ব্যালট বা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের নামে প্রতারণার বিষয়ে জনগণকে সজাগ থাকতে হবে।
এর আগে বনানী বাজারসংলগ্ন মাঠে ঢাকা-১৭ আসনের জনসভায় বক্তব্য দিয়ে তিনি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বিএনপির লক্ষ্য এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করা, যেখানে নাগরিকরা দিন-রাত নির্বিঘ্নে চলাফেরা ও নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন।
একই দিনে তিনি ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন আসনে ধারাবাহিক জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে রোববার তিনি ঢাকা উত্তরের ছয়টি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন।
















