সমাজ সেবায় নিবেদীত প্রাণ ‘আবদুল আলিম বিশ্বাস’
- আপডেট সময় : ০৬:২৪:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৩ ৫০৯ বার পড়া হয়েছে
অনিরুদ্ধ
চোখে মুখে তার সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের স্বপ্ন। শৈশবেই দেখেছেন সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের এগিয়ে নিতে বাবা আবদুল মান্নান বিশ্বাসের নানা উদ্যোগ। বাবার এই সামাজিক কর্মকাণ্ড বিশেষ করে মানুষের নানা সমস্যায় বিশ্বাস বাড়ি আস্থার ঠিকানায় পরিণত হয়। বাবার কাজ থেকেই দীক্ষা এবং সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা।

বাবার-মায়ের আর্শিবাদকে সঙ্গী করে কর্মজীবনের পাশাপাশি মানবসেবায়ও সম্পৃক্ত হন। তার ধ্যান-জ্ঞান একটাই মানুষের সেবা করা। সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খেলাধূলাসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়ন করে চলেছেন তিনি। একাধারে সংগঠক, সমাজকর্মী, সংবাদকর্মী এবং সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের বাসিন্দা।
অত্যন্ত মিশুক, বন্ধুবাৎসল এবং নিরহংকার মানুষটির নাম বাপী বিশ্বাস তথা আবদুল আলিম বিশ্বাস। বাড়ি ঐতিহাসিক মুর্শিদাবাদ জেলার ডোমকলের রায়পুরে। সেখানেই প্রয়াত বাবার নামে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘রায়পুর আবদুল মান্নান বিশ্বাস ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি’। এটিই এখন তার সাধনার মন্দির।

গ্রামের কোন অসুস্থ মানুষকে উন্নত চিকিৎসা করাতে কলকাতায় ছুটে এসেছেন কেউ, ভরসা একটাই বাপী বিশ্বাসতো আছেই। আর হবেই কেন বলুন, বাবা আবদুল মান্নান বিশ্বাস যে গ্রামের মানুষদের সেই ভরসা দিয়ে গিয়েছেন। বলেছেন, যে কোন সমস্যায় চলে আসবে। তোমাদের জন্য ‘বিশ্বাস বাড়ির দরজা সকাল-সন্ধ্যা অষ্টপ্রহর খোলা’। সেই বাবার সন্তান বেতনের টাকায় মানুষের সেবা করবেন এটাইতো স্বাভাবিক।
গলা ধরে আসে বাপী বিশ্বাসের। এদিক ওদিক তাকিয়ে লম্বা নিঃশ্বাস নিয়ে ফের বলেন, জানেন, কর্মজীবনে বহুদিন গিয়েছে, যখন কারো কারো ফোনে ঘুম ভেঙ্গেছে। অপর প্রান্ত থেকে জানালো সংকটাপন্ন রোগী নিয়ে এসেছেন। হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। আপনি ছাড়াতো আমাদের কেউ নেই, ইটপাথরের এই শহরে!

বিছানা ছেড়ে ওঠে পড়েন বাপী বিশ্বাস। শার্ট গায়ে চড়াতেই চড়াতেই বেড়িয়ে পড়েন। ভর্তি করা হল রোগীকে। তারপর সঙ্গীদের টিফিনের টাকা দিয়ে প্রশান্ত মনে ঘরে ফেরন তিনি। ভরসাহীন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মন্ত্র যে শিখিয়ে গিয়েছেন বাবা। খুব বেশি দিন হাসপাতালে থাকতে হয়নি। দুর্ঘটনায় এতোটাই গুরুতর অবস্থায় ছিল যে কয়েকদিনের মধ্যেই আহত মানুষটি মারা যায়।

ফের ফোন করে কান্নাকাটি। দাদা মরদেহ নেবারতো টাকা নেই। অন্তত প্রাণহীন দেহটাতো বাবা-মায়ের কাছে পৌছানো দরকার। অ্যাম্বুলেন্স ডেকে বলা হল মরদেহ পৌছে দিয়ে বিশ্বাস বাড়ি থেকে টাকা বুঝে নিতে। সংকেত বাজিয়ে মুর্শিবাদের উদ্দেশ্যে অ্যাম্বুলেন্স ছুটে চলে। বাবাকে ফোন করে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া মিটিয়ে দিতে বলেন বাপী বিশ্বাস।
এমনি বহু ঘটনার স্বাক্ষী বাপী বিশ্বাস তথা পাকাবাড়ি। ‘আত্মার প্রশান্তি থাকলে দারিদ্রতা স্পর্শ করতে পারে না’, এই মন্ত্রে এগিয়ে চলছেন বাপী বিশ্বাস। স্কুল ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। গ্রামীণ নারী সমাজের স্বাস্থ্য চিকিৎসায় নতুন উদ্যোগ নিয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছেন তিনি।

তার কাজের স্বকৃতি হিসাবে দেশ-বিদেশের সম্মাননা পেয়েছেন। বাপী বিশ্বাস মনে করেন শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য এই দুটো হচ্ছে ‘সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে’র অন্যতম স্তম্ভ। এই দুটো বিষয়ে সর্বাগ্রে আমাদের মনোযোগী হওয়া উচিৎ। আমাদের সংগঠনটির ইচ্ছে এবং উদ্যোগ রয়েছে, তবে আর্থিক টানাপোড়েনও আছে। বিত্তবান এবং সরকারী সহায়তা পেলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং খেলাধূলা সম্পর্কিত নানা কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।



















