ঢাকা ১০:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন প্রত্যেকটি অন্যায়ের বিচার চাইলে গণতান্ত্রিক সরকার অপরিহার্য, তারেক রহমান গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল: ডা. এফ এম সিদ্দিকীর গুরুতর অভিযোগ কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ: রংপুরে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় সমাবেশ ২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস: ঋণ-বিবাদে নৃশংসভাবে খুন মা ও কিশোরী মেয়ে

গুম কমিশন গঠন স্থগিত, শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশনই নেবে দায়িত্ব

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৫:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ৯৫ বার পড়া হয়েছে

গুম কমিশন গঠন স্থগিত, শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশনই নেবে দায়িত্বকমিশন

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
গুম কমিশন গঠন স্থগিত, শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশনই নেবে দায়িত্বমানবাধিকার কমিশন
গুম কমিশন গঠন স্থগিত, শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশনই নেবে দায়িত্বকমিশন

সরকার আলাদা করে গুম কমিশন গঠন করছে না; এ দায়িত্ব পালন করবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। সভায় “জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫”-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

আইন উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের আগের মানবাধিকার কমিশনটি ছিল প্রায় দন্তহীন একটি প্রতিষ্ঠান। নিয়োগ পদ্ধতি ও এখতিয়ারে বড় ধরনের ঘাটতি ছিল। নতুন অধ্যাদেশে আমরা সেটিকে একটি ক্ষমতাসম্পন্ন, কার্যকর ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছি, যাতে এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে প্রকৃত ভূমিকা রাখতে পারে।”

তিনি জানান, নতুন অধ্যাদেশে মানবাধিকারের সংজ্ঞা সম্প্রসারিত করে বাংলাদেশ কর্তৃক অনুসমর্থিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দলিল ও প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত অধিকারসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে সংবিধানের মৌলিক অধিকারের বাইরেও বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তির আওতাভুক্ত অধিকার প্রয়োগে কমিশন ভূমিকা রাখতে পারবে।

কমিশনটি গঠিত হবে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন সার্বক্ষণিক সদস্য নিয়ে। চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগের জন্য আপিল বিভাগের একজন বিচারকের নেতৃত্বে সাত সদস্যবিশিষ্ট বাছাই কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এই কমিটি গণবিজ্ঞপ্তি ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নিয়োগের সুপারিশ করবে।

ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, “রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ওপরও কমিশনের তদন্ত ও পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে।”

তিনি জানান, “গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও গুমের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষাসংক্রান্ত আইনের মূল দায়িত্বও মানবাধিকার কমিশনই পালন করবে। আলাদা করে গুম কমিশন করার প্রয়োজন নেই—এ বিধান নতুন আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, গুম সংক্রান্ত আইনটির চূড়ান্ত অনুমোদন এখনও হয়নি, তবে আগামী সপ্তাহেই তা সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

গুম কমিশন গঠন স্থগিত, শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশনই নেবে দায়িত্ব

আপডেট সময় : ০৭:৪৫:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
গুম কমিশন গঠন স্থগিত, শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশনই নেবে দায়িত্বমানবাধিকার কমিশন
গুম কমিশন গঠন স্থগিত, শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশনই নেবে দায়িত্বকমিশন

সরকার আলাদা করে গুম কমিশন গঠন করছে না; এ দায়িত্ব পালন করবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। সভায় “জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫”-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

আইন উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের আগের মানবাধিকার কমিশনটি ছিল প্রায় দন্তহীন একটি প্রতিষ্ঠান। নিয়োগ পদ্ধতি ও এখতিয়ারে বড় ধরনের ঘাটতি ছিল। নতুন অধ্যাদেশে আমরা সেটিকে একটি ক্ষমতাসম্পন্ন, কার্যকর ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছি, যাতে এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে প্রকৃত ভূমিকা রাখতে পারে।”

তিনি জানান, নতুন অধ্যাদেশে মানবাধিকারের সংজ্ঞা সম্প্রসারিত করে বাংলাদেশ কর্তৃক অনুসমর্থিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দলিল ও প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত অধিকারসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে সংবিধানের মৌলিক অধিকারের বাইরেও বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তির আওতাভুক্ত অধিকার প্রয়োগে কমিশন ভূমিকা রাখতে পারবে।

কমিশনটি গঠিত হবে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন সার্বক্ষণিক সদস্য নিয়ে। চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগের জন্য আপিল বিভাগের একজন বিচারকের নেতৃত্বে সাত সদস্যবিশিষ্ট বাছাই কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এই কমিটি গণবিজ্ঞপ্তি ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নিয়োগের সুপারিশ করবে।

ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, “রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ওপরও কমিশনের তদন্ত ও পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে।”

তিনি জানান, “গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও গুমের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষাসংক্রান্ত আইনের মূল দায়িত্বও মানবাধিকার কমিশনই পালন করবে। আলাদা করে গুম কমিশন করার প্রয়োজন নেই—এ বিধান নতুন আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, গুম সংক্রান্ত আইনটির চূড়ান্ত অনুমোদন এখনও হয়নি, তবে আগামী সপ্তাহেই তা সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।