ঢাকা ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাষ্ট্রপতির তিন অপরাধে ভাষণ বর্জন: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান খুলনা-মোংলা মহাসড়কে ভয়াবহ সংঘর্ষ, নিহত ১৩ মানুষই ছিল অ্যালার্ম ঘড়ি: ব্রিটেন-আয়ারল্যান্ডের এক বিস্মৃত পেশার গল্প ফ্যাসিবাদী আমলে পুলিশকে দলীয় বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করা হয় সংসদে রাষ্ট্রপতি সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন সিইসি, ড. ইউনূস ও বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা পাটপণ্যের ব্যবহার বাড়াতে উদ্যোগী সরকার: কৃষক-উদ্যোক্তা উৎসাহিত হবে: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী নন্দনে নিউজ কলকাতার ত্রৈমাসিক সাহিত্য অনুষ্ঠান ও গুণীজন সংবর্ধনা বাংলাদেশে কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু : স্বনির্ভর দেশ গড়ার ডাক প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি মির্জা আব্বাস, দেশবাসীর দোয়া চাইলেন আফরোজা আব্বাস

ভরপুর উপকারিতা অ্যালোভেরার, কীভাবে খাবেন

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:০৪:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর ২০২৪ ২৭৮ বার পড়া হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

১ চা চামচ মধু, ২ চা চামচ নারকেল তেল ও ২ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। গোসলের আধ ঘণ্টা আগে এই মিশ্রণ চুলে লাগিয়ে নিন। ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

২ চা চামচ টক দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে দিন ১ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল। এই মিশ্রণ সময় নিয়ে ম্যাসাজ করুন চুলে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন।

 

ঔষধি গুণসম্পন্ন গাছ অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী। ভেষজ উদ্ভিদ অ্যালোভেরার বহু উপকারিতা। শরীরের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দেয় ঘৃতকুমারী। চুল ও ত্বকের পরিচর্যার ক্ষেত্রেও উপকারী এই উদ্ভিদ।

আসুন জেনে নিই অ্যালোভেরার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা। এ বিষয়ে পরামর্শ রয়েছে বিশেষজ্ঞদের।

ঘৃতকুমারীর পুষ্টিগুণ

নানা ধরণের ভিটামিন ও খনিজের উৎস ঘৃতকুমারী। এটিতে প্রায় ২০ ধরনের খনিজ উপাদান রয়েছে। ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, ম্যাগনেশিয়াম, ক্রোমিয়াম, সোডিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, কপার, ও ম্যাংগানিজ ইত্যাদি ভালো পরিমাণে রয়েছে। ভিটামিনের মধ্যে ভিটামিন এ, সি, ই এবং ভিটামিন বি১, বি২, বি৩,বি৬,ও ভিটামিন বি১২ রয়েছে।

শরীরের জন্য অত্যাবশ্যক এসব অ্যামাইনো এসিডসহ প্রায় ১৮ থেকে ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিড রয়েছে। এ ছাড়াও ফলিক এসিড, কোলিন, ফ্যাটি এসিড ও প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।

ঘৃতকুমারীর উপকারিতা

ঘৃতকুমারীতে থাকা ল্যাকটেটিভ উপাদান পেট পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। হজমশক্তি বাড়ায়। অ্যালোভেরার জুস ক্লান্তি দূর করে দেহকে সতেজ করে।
এটির ঔষধি গুণ রক্তচাপ কমায় এবং রক্তে কোলেস্টেরল ও সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে সাহায্য করে।

দেহে ক্ষতিকর পদার্থ প্রবেশ করলে তা অপসারণ করতে সাহায্য করে অ্যালোভেরা। বিভিন্ন চর্মরোগ ও ক্ষত সারায়।

অ্যালোভেরাতে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকায় এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে।
এর আঠালো রস খাদ্যনালী ও পরিপাকতন্ত্রকে পরিষ্কার করতে পারে। এটির উপাদান দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় করে এবং দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে। এটি দেহে সাদা ব্লাড সেল গঠন করে, যা ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে।

অ্যালোভেরা জুসের অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান শরীরে জমে থাকা মেদ দূর করে এবং কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ওজন কমাতে সাহায্য করে।
অ্যালোভেরার উপাদানগুলো হাড় ও মাংসপেশীকে শক্তিশালীকে করে। হৃদযন্ত্রের সমস্যা প্রতিরোধ করে।

চুল ও ত্বকের যত্নেও উপকারী অ্যালোভেরা

ত্বকের র‌্যাশ, চুলকানি, রোদে পড়া দাগ দূর করে অ্যালোভেরা জেল। এই জেল ত্বকে লাগালে ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ থাকে এবং বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না।

চুলের শুষ্ক ভাব এবং ত্বকের চুলকানি দূর করার জন্য অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন। এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান চুল পড়া ও খুশকি দূর করে।

কীভাবে খাবেন

অনেকেই জানেন না অ্যালোভেরা কীভাবে খেতে হয়। এটি জুস বা সালাদ হিসেবে খাওয়া যায়। প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস অ্যালোভেরা জুস পান করলে অনেক রোগ প্রতিরোধ করা যায়। অ্যালোভেরা কিউব করে কেটে সালাদ বানিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া স্মুদি বা শরবতে মিশিয়ে নিয়ে খেতে পারেন এই কিউব।

অ্যালোভেরা খেলে অনেক সময় পেটের সমস্যা ও এলার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে। ত্বকে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করলে ফুসকুড়ি, জ্বালাপোড়ার মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভরপুর উপকারিতা অ্যালোভেরার, কীভাবে খাবেন

আপডেট সময় : ০৭:০৪:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর ২০২৪

 

১ চা চামচ মধু, ২ চা চামচ নারকেল তেল ও ২ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। গোসলের আধ ঘণ্টা আগে এই মিশ্রণ চুলে লাগিয়ে নিন। ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

২ চা চামচ টক দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে দিন ১ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল। এই মিশ্রণ সময় নিয়ে ম্যাসাজ করুন চুলে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন।

 

ঔষধি গুণসম্পন্ন গাছ অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী। ভেষজ উদ্ভিদ অ্যালোভেরার বহু উপকারিতা। শরীরের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দেয় ঘৃতকুমারী। চুল ও ত্বকের পরিচর্যার ক্ষেত্রেও উপকারী এই উদ্ভিদ।

আসুন জেনে নিই অ্যালোভেরার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা। এ বিষয়ে পরামর্শ রয়েছে বিশেষজ্ঞদের।

ঘৃতকুমারীর পুষ্টিগুণ

নানা ধরণের ভিটামিন ও খনিজের উৎস ঘৃতকুমারী। এটিতে প্রায় ২০ ধরনের খনিজ উপাদান রয়েছে। ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, ম্যাগনেশিয়াম, ক্রোমিয়াম, সোডিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, কপার, ও ম্যাংগানিজ ইত্যাদি ভালো পরিমাণে রয়েছে। ভিটামিনের মধ্যে ভিটামিন এ, সি, ই এবং ভিটামিন বি১, বি২, বি৩,বি৬,ও ভিটামিন বি১২ রয়েছে।

শরীরের জন্য অত্যাবশ্যক এসব অ্যামাইনো এসিডসহ প্রায় ১৮ থেকে ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিড রয়েছে। এ ছাড়াও ফলিক এসিড, কোলিন, ফ্যাটি এসিড ও প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।

ঘৃতকুমারীর উপকারিতা

ঘৃতকুমারীতে থাকা ল্যাকটেটিভ উপাদান পেট পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। হজমশক্তি বাড়ায়। অ্যালোভেরার জুস ক্লান্তি দূর করে দেহকে সতেজ করে।
এটির ঔষধি গুণ রক্তচাপ কমায় এবং রক্তে কোলেস্টেরল ও সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে সাহায্য করে।

দেহে ক্ষতিকর পদার্থ প্রবেশ করলে তা অপসারণ করতে সাহায্য করে অ্যালোভেরা। বিভিন্ন চর্মরোগ ও ক্ষত সারায়।

অ্যালোভেরাতে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকায় এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে।
এর আঠালো রস খাদ্যনালী ও পরিপাকতন্ত্রকে পরিষ্কার করতে পারে। এটির উপাদান দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় করে এবং দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে। এটি দেহে সাদা ব্লাড সেল গঠন করে, যা ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে।

অ্যালোভেরা জুসের অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান শরীরে জমে থাকা মেদ দূর করে এবং কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ওজন কমাতে সাহায্য করে।
অ্যালোভেরার উপাদানগুলো হাড় ও মাংসপেশীকে শক্তিশালীকে করে। হৃদযন্ত্রের সমস্যা প্রতিরোধ করে।

চুল ও ত্বকের যত্নেও উপকারী অ্যালোভেরা

ত্বকের র‌্যাশ, চুলকানি, রোদে পড়া দাগ দূর করে অ্যালোভেরা জেল। এই জেল ত্বকে লাগালে ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ থাকে এবং বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না।

চুলের শুষ্ক ভাব এবং ত্বকের চুলকানি দূর করার জন্য অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন। এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান চুল পড়া ও খুশকি দূর করে।

কীভাবে খাবেন

অনেকেই জানেন না অ্যালোভেরা কীভাবে খেতে হয়। এটি জুস বা সালাদ হিসেবে খাওয়া যায়। প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস অ্যালোভেরা জুস পান করলে অনেক রোগ প্রতিরোধ করা যায়। অ্যালোভেরা কিউব করে কেটে সালাদ বানিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া স্মুদি বা শরবতে মিশিয়ে নিয়ে খেতে পারেন এই কিউব।

অ্যালোভেরা খেলে অনেক সময় পেটের সমস্যা ও এলার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে। ত্বকে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করলে ফুসকুড়ি, জ্বালাপোড়ার মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।