বিশ্বশান্তি ও মানবিক মূল্যবোধে আপসহীন বাংলাদেশ: তৌহিদ হোসেন
- আপডেট সময় : ০১:২২:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৪৮ বার পড়া হয়েছে
সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে প্রাণঘাতী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পরও বৈশ্বিক শান্তি রক্ষা ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার অটুট থাকবে।
সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সভ্যতাসমূহের জোট (ইউএনএওসি)-এর ১১তম গ্লোবাল ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বৈশ্বিক শান্তির প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের ধারাবাহিকতায় আমরা এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।
সুদানের কাদুগলিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের লজিস্টিকস ঘাঁটিতে হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন, এটি আমাদের গভীরভাবে শোকাহত করেছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে সংঘাত ও মানবিক সংকটের গভীরতাকে সামনে আনে; একই সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চলে বিদেশিবিদ্বেষ, অসহিষ্ণুতা, বর্ণবাদ ও ইসলামোফোবিয়ার বিস্তারও উদ্বেগজনক। ডিজিটাল যুগে বিভাজন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভুয়া তথ্য, ঘৃণাত্মক বক্তব্য ও ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তি শান্তি ও অভিন্ন মানবিক মূল্যবোধের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে শীর্ষ সেনা প্রেরণকারী দেশগুলোর অন্যতম হিসেবে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তৌহিদ হোসেন বলেন, আন্তঃসাংস্কৃতিক ও আন্তঃধর্মীয় সংলাপ, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ‘শান্তির সংস্কৃতি’ বিষয়ে বাংলাদেশের বার্ষিক জাতিসংঘ প্রস্তাব শান্তি সম্পর্কে দেশের দর্শনকে প্রতিফলিত করে—যেখানে শান্তি কেবল সংঘাতের অনুপস্থিতি নয়, বরং ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও মানবিক মর্যাদার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে উপদেষ্টা তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের ওপর জোর দেন।
বৈশ্বিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়ে তিনি তরুণদের ক্ষমতায়ন, প্রজন্মান্তরে সংলাপ, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা এবং শিল্প, ক্রীড়া ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্প্রসারণের কথা বলেন।
উল্লেখ্য, ‘ইউএনএওসি: মানবতার জন্য দুই দশকের সংলাপ-বহুমুখী বিশ্বে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার নতুন যুগ’ প্রতিপাদ্যে ১৪–১৫ ডিসেম্বর রিয়াদে আয়োজিত এই ফোরামে রাজনৈতিক নেতা, আন্তর্জাতিক সংস্থা, ধর্মীয় প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ, তরুণ, শিল্পী, ক্রীড়া ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।




















