বাজার দর: মাছ, মুরগি, সব্জির দামে আগুন, চাপে সাধারণ মানুষ
- আপডেট সময় : ০৬:৪৬:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬ ৬০ বার পড়া হয়েছে
জ্বালানি সংকট ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার প্রভাব পড়েছে দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। মার্চ মাসজুড়ে শস্য, মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য, ভোজ্যতেল ও চিনিসহ প্রায় সব প্রধান খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এর সরাসরি চাপ পড়েছে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা মাংস ও ভোজ্যতেলের বাজারে। দেশি মুরগির দাম কেজিপ্রতি ৮০০ টাকা ছুঁয়েছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৬০০-৬৫০ টাকার মধ্যে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪২০ টাকা কেজি, যা ঈদের আগে ছিল ৩০০-৩২০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়ে ২০০-২২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৮২০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের মতে, সরবরাহ কমে যাওয়া এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়াই দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ। যদিও জ্বালানি তেলের দাম আনুষ্ঠানিকভাবে না বাড়লেও তেলের সংকটের কারণে পরিবহন ভাড়া বেড়েছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা।

একজন ক্রেতা জানান, ছুটির দিনে সন্তানদের আবদার পূরণ করতে বাজারে এসে মুরগির দাম শুনে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। বিক্রেতারা বলছেন, মোকামে বেশি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়াতে হচ্ছে।
বাজারে পটল, বেগুনসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে অধিকাংশ সবজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা বা তারও বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, সরবরাহ ঘাটতির পাশাপাশি অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণেই নিত্যপণ্যের বাজারে এমন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিক্রেতারা অবশ্য বলছেন, পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ায় তার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়ছে।
বাজারে বেগুন বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১২০ টাকায়। পটল ও ঢেঁড়সের দামও ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
টম্যাটো ৮০, কাঁচামরিচ কেজি ১২০ টাকা, উচ্ছে ৮০–১০০ টাকা, সজনে ডাঁটা ২৫০ থেকে ৩০০, পেঁপে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

ভোজ্যতেলের বাজারেও একই চিত্র। খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৯৫ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৮৫-১৯০ টাকা। খোলা পামতেলের দামও বেড়ে ১৮৪-১৮৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। যদিও বোতলজাত তেলের সরকারি নির্ধারিত মূল্য (এমআরপি) ১৯৫ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে, বাজারে এ ধরনের তেলের সরবরাহ দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত।
সবজির বাজারে কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিপ্রতি ৫-১০ টাকা বেড়েছে। সরবরাহ কম থাকায় মাছের বাজারেও চাপ দেখা গেছে। চাষের মাছ যেমন রুই, কাতল ও পাঙ্গাস তুলনামূলক বেশি দেখা গেলেও দাম ঊর্ধ্বমুখী।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের পর থেকে জ্বালানি সংকটের কারণে পণ্য পরিবহনে খরচ বেড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে বাজারে। তবে উৎপাদক ও খামারিদের দাবি, উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি নেই।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও খাদ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্যমতে, মার্চে বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য সূচক ২.৪ শতাংশ বেড়ে ১২৮.৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ভোজ্যতেলের দাম টানা তৃতীয় মাসের মতো বেড়েছে, যা বৈশ্বিক বাজারেও চাপ তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতা, সরবরাহ সংকট এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির সম্মিলিত প্রভাবে দেশের বাজারে এই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।













