বাংলাদেশে কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু : স্বনির্ভর দেশ গড়ার ডাক প্রধানমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ০১:৪৮:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ ৭১ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এই অধিবেশনের মধ্য দিয়ে দেশে কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে তিনি অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করলে সরকার ও বিরোধী দলের সাংসদরা টেবিল চাপড়ে তাকে অভিনন্দন জানান। এটি ছিল জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে তার প্রথম প্রবেশ, যা উপস্থিত সাংসদদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ ও উৎসাহের সৃষ্টি করে।
অধিবেশন শুরুতে সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মাওলা সংসদের কার্যক্রমের সূচনা ঘোষণা করেন। পরে বেলা ১১টা ৫ মিনিটে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অধিবেশন শুরু হয়। এরপর সূচনা বক্তব্য দেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তার বক্তব্যের শুরুতেই তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারী সব শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, এই দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র বহু ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে। সেই ত্যাগের ইতিহাসকে সম্মান জানিয়ে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে যেতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে তিনি কখনও আপস করেননি। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও স্মরণ করেন এবং তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

তিনি বলেন, দেশে কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হলো। দল-মত নির্বিশেষে আমরা সবাই এই সংসদে দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছি। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করে তোলাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। একটি শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রশ্নে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না। এটি দল বা মতের বিষয় নয়, এটি পুরো জাতির স্বপ্ন।
এ সময় তিনি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সরকার ও বিরোধী দলসহ সকল রাজনৈতিক শক্তির সহযোগিতা কামনা করেন।
অধিবেশন কক্ষ তখন সাংসদদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ থাকলেও স্পিকারের চেয়ার ফাঁকা ছিল। সংসদের প্রথম অধিবেশন হওয়ায় স্পিকারের চেয়ারের পাশে রাষ্ট্রপতির চেয়ার রাখা হয়।
পরে সংসদ নেতা তারেক রহমান দাঁড়িয়ে সংসদের অধিবেশন পরিচালনার জন্য প্রবীণ সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সভাপতিত্ব করার প্রস্তাব করেন। তার এই প্রস্তাবে বিএনপির মহাসচিব, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পূর্ণ সমর্থন জানান।
এ সময় বিরোধী দলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরও প্রস্তাবটির প্রতি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, আমরা এই প্রস্তাবের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি। তবে এ ধরনের প্রস্তাবের আগে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা হলে আরও ভালো হতো।
সাংসদরা টেবিল চাপড়ে প্রস্তাবে সম্মতি জানালে সরকারি দলের প্রথম সারি থেকে উঠে এসে খন্দকার মোশাররফ হোসেন সভাপতির আসনে অধিষ্ঠিত হন। এভাবেই গণতন্ত্র ও সংসদীয় চর্চার নতুন প্রত্যাশা নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়।


















