প্রচারণা শেষ, বাংলাদেশে ভোট গ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি
- আপডেট সময় : ১১:০৬:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫৮ বার পড়া হয়েছে
নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখের বেশি সদস্য মাঠে রয়েছেন। নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত আছেন প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা। নির্বাচন পরিচালনা ও নিরাপত্তা মিলিয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা
দুই মাসের প্রস্তুতি ও তিন সপ্তাহের প্রচারণা শেষে এখন ভোটের রায়ের অপেক্ষা। নির্বাচন কমিশনের প্রত্যাশা শান্তিপূর্ণ, ভয়হীন ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে তাদের মতামত জানাবেন।
বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষ হয়েছে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায়। এখন পুরো দেশ নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ব্যালট পেপারসহ সব নির্বাচনি সরঞ্জাম বুধবার কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে।
জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট হবে। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটি আসনের ভোট স্থগিত রয়েছে। একইদিনে জুলাই সনদে বর্ণিত সংস্কার প্রস্তাবের ওপর চারটি প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে গণভোটেও অংশ নেবেন নাগরিকরা। একজন ভোটার দুটি ব্যালটে ভোট দেবেন, সংসদের জন্য সাদাকালো, গণভোটের জন্য গোলাপী।
দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২২০ জন। পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধন করেছেন ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার। সারা দেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে।

৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে এ নির্বাচনে। দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ২৯৯ আসনে প্রার্থী ২ হাজার ২৯ জন। সর্বনিম্ন ভোটার ঝালকাঠি-১ আসনে (২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১) এবং সর্বোচ্চ গাজীপুর-২ আসনে (৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩)। ঢাকা-১২ আসনে সবচেয়ে বেশি ১৫ জন প্রার্থী, আর পিরোজপুর-১ আসনে মাত্র দুইজন।
প্রচারের তিন সপ্তাহে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রামীণ জনপদ পর্যন্ত ছিল সরব নির্বাচনি প্রচারণা। বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা বিটিভিতে ভাষণ দেন। তবে কিছু সংঘর্ষ, আচরণবিধি লঙ্ঘন ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগও ছিল আলোচনায়।
তিন দশকের বেশি সময় নির্বাচন কমিশনে দায়িত্ব পালন করা সাবেক কর্মকর্তা জেসমিন টুলী মনে করেন, শেষদিকে প্রচার জমজমাট হলেও বড় ধরনের সহিংসতা হয়নি। প্রার্থীরা ভোটারের দুয়ারে গেছেন, এটিকে তিনি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন।

নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীম বলেন, আচরণবিধির কিছু ব্যত্যয় ঘটলেও ‘ম্যাসিভ’ সহিংসতা হয়নি। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যে শঙ্কা ছিল, তার বড় অংশই সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো গুজব। তবে আওয়ামী লীগবিহীন এ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ২০০৮ সালের ৮৭ শতাংশের তুলনায় কম হতে পারে বলে ধারণা। তার ধারণা ৬০ শতাংশের আশপাশে ভোট পড়তে পারে।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখের বেশি সদস্য মাঠে রয়েছেন। নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত আছেন প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা। নির্বাচন পরিচালনা ও নিরাপত্তা মিলিয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আমরা পুরো প্রস্তুত। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে রয়েছে। ভয় বা শঙ্কার কোনো কারণ নেই। তার আশা, ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালের মধ্যেই সব আসনের ফল প্রকাশ সম্ভব হবে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় জনসভা, মিছিল বা শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ থাকবে।

















