পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর: অশ্রু, অপেক্ষা আর না-ফেরা মানুষের গল্প
- আপডেট সময় : ০৩:০৮:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৬৫ বার পড়া হয়েছে
২৫ ফেব্রুয়ারি। ক্যালেন্ডারের একটি দিন, কিন্তু অসংখ্য পরিবারের কাছে এটি এক অমোচনীয় ক্ষতচিহ্ন। ২০০৯ সালের এই দিনে রাজধানী ঢাকার পিলখানায় যে রক্তাক্ত অধ্যায় রচিত হয়েছিল, তার রেশ আজও শুকায়নি।
সকালের নরম রোদে বনানী সামরিক কবরস্থানের নীরবতা ভেঙে আসে চাপা কান্নার শব্দে। সাদা-কালো ছবির ফ্রেমে বন্দী হাসিমুখগুলো যেন প্রশ্ন ছুড়ে দেয়, আমাদের অপরাধ কী ছিল? ফুলের তোড়া হাতে দাঁড়িয়ে থাকা এক বৃদ্ধা মা ছবির দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলেন, বাবা, তুই তো বলেছিলি বিকেলে ফিরবি… সেই বিকেল আর ফেরেনি।
সেদিন নির্মম হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারান ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক শাকিল আহমেদ। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করা মানুষগুলো মুহূর্তেই পরিণত হন ইতিহাসের এক করুণ অধ্যায়ে।

আজও অনেক সন্তানের মনে বাবার স্মৃতি কেবল একটি সামরিক পোশাক আর একটি ভাঁজ করা পতাকা। অনেক স্ত্রী অপেক্ষা করেন এমন এক মানুষের জন্য, যিনি আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়বেন না।
সকাল সাড়ে ১০টায় স্বজনেরা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া-মোনাজাতে ভেঙে পড়েন। কেউ কবরের মাটি ছুঁয়ে কাঁদছেন, কেউ নীরবে চোখ মুছছেন। তাঁদের কান্না শুধু ব্যক্তিগত শোক নয়, এটি ন্যায়বিচারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার আর্তনাদও।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হবে ধাপে ধাপে।

কিন্তু শহীদ পরিবারগুলোর কাছে সময় যেন থমকে আছে সেই ২৫ ফেব্রুয়ারিতেই। তাঁদের চোখে আজও একই প্রশ্ন এই রক্তের দায় কার? বিচার কবে পূর্ণতা পাবে?
১৭ বছর পরও পিলখানা কেবল একটি ঘটনা নয়, এটি বাংলাদেশের হৃদয়ে খোদাই হয়ে থাকা এক শোকগাথা। যতদিন না ন্যায়বিচারের সব দরজা সম্পূর্ণ খুলছে, ততদিন এই দিনটি ফিরে আসবে অশ্রু আর অসমাপ্ত আর্তনাদ হয়ে।
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গতবছর বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভীষিকাময় ও শোকাবহ এ দিনটি জাতীয় শহীদ সেনা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়।



















