পাবজি, ফ্রি ফায়ার, টিকটক-লাইকি বন্ধে কেন নির্দেশ নয়, হাইকোর্টের রুল
- আপডেট সময় : ০৬:৪৩:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ অগাস্ট ২০২১ ২৩৫ বার পড়া হয়েছে
শিশু-কিশোরই নয়, বলতে গেলে প্রায় নানা বয়সের মানুষ গেমে আসক্ত হয়ে পড়েছে। একই চিত্র দেশের সর্বত্র। আবাসিক ভবন থেকে বস্তি, নগর-মহানগর, শহর-বন্দর গ্রাম কোথাও গেম আসক্ত নেই তা বলা যাবে না। করোনাকালীন প্রায় দু’বছর ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ায় লেখাপড়ার চেয়ে গেমে আসক্ত হয়ে পড়েছে প্রায় সকল শ্রেণীর পড়ুয়ারা। এ নিয়ে পরিবারের ঝগড়া-ফেসাদ
পর্যন্ত বাড়ছে। মেজাজ খিটমেটে হয়ে যাচ্ছে শিশু-কিশোরদের। শুধু তাই নয়, দুশ্চিন্তা অনেক অভিভাবকের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। অধিক সময় মোবাইল ফোন নিয়ে গেমে মগ্ন থাকায় মানুষিক প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবার আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে থাকা
পাবজি, ফ্রি ফায়ারসহ ক্ষতিকারক সকল গেম তিন মাসের জন্য বন্ধের নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে পাবজি, ফ্রি ফায়ার ও এ ধরনের অনলাইন গেম এবং টিকটক, বিগো লাইভ, লাইকি ও একই ধরনের অ্যাপসের লিংক বা ইন্টারনেট গেটওয়ে নিষিদ্ধ, বন্ধ ও অপসারণ করার কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, ক্ষতিকর খেলা ও অ্যাপস বিষয়ে তদারকির জন্য কারিগরি
দক্ষতা সম্পন্ন একটি কমিটি গঠন. একটি গাইডলাইন তৈরি করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছেন উচ্চআদালত।

এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে সোমবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। ১০ দিনের মধ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, শিক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব,
আইন সচিব, স্বাস্থ্য সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. হুমায়ন কবির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী। আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী মো. হুমায়ন কবির।

এর আগে ২৪ জুন মানবাধিকার সংগঠন ল’ অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের পক্ষে এ রিট করা হয়।
রিটের বিবাদী করা হয়েছে, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, শিক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্টরা।
রিট আবেদনকারী হুমায়ন কবিরের মতে, পাবজি ও ফ্রি ফায়ারের মতো গেমগুলোতে দেশের যুব সমাজ ও শিশু-কিশোররা ব্যাপকভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছে। যার ফলে সামাজিক মূল্যবোধ,

শিক্ষা, সংস্কৃতি বিনষ্ট হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়ে পড়ছে মেধাহীন। এসব গেম যেন যুব সমাজকে সহিংসতা প্রশিক্ষণ দেওয়ার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে।

অন্যদিকে টিকটক, লাইকি অ্যাপগুলো ব্যবহার করে দেশের শিশু-কিশোর এবং যুব সমাজ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে। অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে এবং সারা দেশে কিশোর গ্যাং কালচার তৈরি হচ্ছে।




















