ঢাকা ০২:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশে ‘বিধর্মী সংসদ সদস্য থাকতে পারে না’ জামায়াতের জনসভা ঘিরে বিতর্ক তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতা সিনিয়রে আনসার, জুনিয়রে বিকেএসপি চ্যাম্পিয়ন কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বনানীতে কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান অনিশ্চয়তায় অমর একুশে বইমেলা, পহেলা ফেব্রুয়ারিতে একদিনের প্রতীকী আয়োজন দেশপ্রেমের নামে গোপনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক করছে তারা: চরমোনাই পীর ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার দৌরাত্ম্য: সড়কে  বিশৃঙ্খলা, দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়েছে ফরিদপুরে অবৈধ অস্ত্র কারখানায় সেনা অভিযান, একাধিক সরঞ্জাম উদ্ধার পশ্চিমবঙ্গের মুড়িগঙ্গা নদীতে ডুবে গেল বাংলাদেশি জাহাজ, উদ্ধার ১২ জন অস্ট্রেলিয়ায় হাঙরের কামড়ে আহত কিশোরের মৃত্যু বাংলাদেশ ক্রিকেট ইস্যুতে মন্তব্যের পর ভারতে মুসলিম অভিনেতা কেআরকের গ্রেফতার, বিতর্ক তুঙ্গে

পাকিস্তানে খিলাফত প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তৎপর গ্রেফতার-১

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:০৯:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫ ২০৩ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানে খিলাফত প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তৎপর গ্রেফতার-১

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গোয়েন্দারা বলেছেন, এই গোষ্ঠীটির সঙ্গে উচ্চ শিক্ষিত যুবকরাও যুক্ত রয়েছে। একাধিক যুবক আফগানিস্তান গিয়ে যুদ্ধে অংশ নিয়ে মারা গিয়েছে। ঢাকার অদূরে সভার এলাকা থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান ফেরত ৩৩ বছরের ফয়সালকে গ্রেফতার করে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট। বাংলাদেশ থেকে ২৫ যুবকের একটি গ্রুপ দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো এমন তথ্যও গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে। এর মধ্যে ছয় জন রয়েছে সাভার এলাকার। তাদের ফেরাতে কাজ করছে গোয়েন্দারা।

ফয়সাকে গ্রেফতারের পর অনেক চাঞ্জল্যকর তথ্য বেড়িয়ে আসছে বলে জানায়, পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট। ফয়সাল পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছে।

এ ঘটনায় ফয়সালকে প্রধান আসামি করে ৬ যুবকের নাম উল্লেখ করে সাভার মডেল থানায় মামলা করেছে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের ইন্টেলিজেন্স শাখার পরিদর্শক আব্দুল মান্নান। অন্য আসামিরা হচ্চে, আল ইমরান ওরফে ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হায়দার, রেজাউল করিম আবরার, আসিফ আদনান, জাকারিয়া মাসুদ ও সানাফ হাসান।

অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি)  নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। তাদের তথ্যমতে, নিহত চার বাংলাদেশির মধ্যে একজন জুবায়ের, তার বাসা সাভারের আড়াপাড়া এলাকায়। দ্বিতীয় জন চট্টগ্রামের পটিয়ার এক যুবক, তার নাম জানা যায়নি। তৃতীয় জন সাইফুল্লাহ্ গোরাবার মেয়ে এবং চতুর্থ জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার, যার বিস্তারিত পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

এক গোয়েন্দা  কর্মকর্তা জানান, গত ২৭ এপ্রিল পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে পাক-আফগান সীমান্তে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অভিযানে তেহরিক ই তালেবান পাকিস্তানের ৫৪ সদস্য নিহত হন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী এক তরুণ ছিলেন। তার নাম আহমেদ জুবায়ের। বাড়ি ঢাকার সাভারের আড়াপাড়ায়। এলাকার লোকজন ও বন্ধুবান্ধব তাকে যুবরাজ নামে জানেন। মূলত জুবায়ের ও গ্রেফতার ফয়সাল টিটিপির হয়ে বাংলাদেশে কাজ করতেন। ২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর জিহাদের উদ্দেশে জুবায়ের ও ফয়সাল একসঙ্গে ওমরা করার নামে সৌদি আরব যান।

সেখানে ৯ দিন অবস্থান করে ভিসা নিয়ে পাকিস্তানে গমন করেন। ওই আধিকারীক বলেন, পাকিস্তান থেকে ৬ নভেম্বর ভিসা নিয়ে আফগানিস্তান পৌঁছান। সেখানে তারা দুই জন অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হায়দারের সঙ্গে দেখা করেন এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন। সেখানে বাংলাদেশি সাইফুল্লাহ গোরাবা নামে এক যুবক সপরিবারে বসবাস করতেন। একটি অভিযানের সময় এয়ার স্ট্রাইকে সাইফুল্লাহর দুই পা ও মেরুদণ্ড অকেজো হয়েছে।

সাইফুল্লাহর স্ত্রী আহত হয়েছে এবং দুই বছর বয়সী মেয়ে মারা গেছে। ঘটনাটি শুনে ফয়সাল ভয় পান এবং বাংলাদেশে ফিরে আসেন। কিন্তু জুবায়ের খুব জেদি প্রকৃতির হওয়ায় সেখানে থেকে যায় এবং একটি অভিযানে মারা যান। গোয়েন্দা আধিকারীক বলেন, আমাদের কাছে পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে পৃথক সময় চার জন নিহতের খবর রয়েছে। তাদের প্রত্যেকে জিহাদের উদ্দেশে বাংলাদেশ ছেড়ে গিয়েছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পাকিস্তানে খিলাফত প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তৎপর গ্রেফতার-১

আপডেট সময় : ০৮:০৯:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

গোয়েন্দারা বলেছেন, এই গোষ্ঠীটির সঙ্গে উচ্চ শিক্ষিত যুবকরাও যুক্ত রয়েছে। একাধিক যুবক আফগানিস্তান গিয়ে যুদ্ধে অংশ নিয়ে মারা গিয়েছে। ঢাকার অদূরে সভার এলাকা থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান ফেরত ৩৩ বছরের ফয়সালকে গ্রেফতার করে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট। বাংলাদেশ থেকে ২৫ যুবকের একটি গ্রুপ দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো এমন তথ্যও গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে। এর মধ্যে ছয় জন রয়েছে সাভার এলাকার। তাদের ফেরাতে কাজ করছে গোয়েন্দারা।

ফয়সাকে গ্রেফতারের পর অনেক চাঞ্জল্যকর তথ্য বেড়িয়ে আসছে বলে জানায়, পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট। ফয়সাল পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছে।

এ ঘটনায় ফয়সালকে প্রধান আসামি করে ৬ যুবকের নাম উল্লেখ করে সাভার মডেল থানায় মামলা করেছে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের ইন্টেলিজেন্স শাখার পরিদর্শক আব্দুল মান্নান। অন্য আসামিরা হচ্চে, আল ইমরান ওরফে ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হায়দার, রেজাউল করিম আবরার, আসিফ আদনান, জাকারিয়া মাসুদ ও সানাফ হাসান।

অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি)  নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। তাদের তথ্যমতে, নিহত চার বাংলাদেশির মধ্যে একজন জুবায়ের, তার বাসা সাভারের আড়াপাড়া এলাকায়। দ্বিতীয় জন চট্টগ্রামের পটিয়ার এক যুবক, তার নাম জানা যায়নি। তৃতীয় জন সাইফুল্লাহ্ গোরাবার মেয়ে এবং চতুর্থ জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার, যার বিস্তারিত পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

এক গোয়েন্দা  কর্মকর্তা জানান, গত ২৭ এপ্রিল পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে পাক-আফগান সীমান্তে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অভিযানে তেহরিক ই তালেবান পাকিস্তানের ৫৪ সদস্য নিহত হন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী এক তরুণ ছিলেন। তার নাম আহমেদ জুবায়ের। বাড়ি ঢাকার সাভারের আড়াপাড়ায়। এলাকার লোকজন ও বন্ধুবান্ধব তাকে যুবরাজ নামে জানেন। মূলত জুবায়ের ও গ্রেফতার ফয়সাল টিটিপির হয়ে বাংলাদেশে কাজ করতেন। ২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর জিহাদের উদ্দেশে জুবায়ের ও ফয়সাল একসঙ্গে ওমরা করার নামে সৌদি আরব যান।

সেখানে ৯ দিন অবস্থান করে ভিসা নিয়ে পাকিস্তানে গমন করেন। ওই আধিকারীক বলেন, পাকিস্তান থেকে ৬ নভেম্বর ভিসা নিয়ে আফগানিস্তান পৌঁছান। সেখানে তারা দুই জন অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হায়দারের সঙ্গে দেখা করেন এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন। সেখানে বাংলাদেশি সাইফুল্লাহ গোরাবা নামে এক যুবক সপরিবারে বসবাস করতেন। একটি অভিযানের সময় এয়ার স্ট্রাইকে সাইফুল্লাহর দুই পা ও মেরুদণ্ড অকেজো হয়েছে।

সাইফুল্লাহর স্ত্রী আহত হয়েছে এবং দুই বছর বয়সী মেয়ে মারা গেছে। ঘটনাটি শুনে ফয়সাল ভয় পান এবং বাংলাদেশে ফিরে আসেন। কিন্তু জুবায়ের খুব জেদি প্রকৃতির হওয়ায় সেখানে থেকে যায় এবং একটি অভিযানে মারা যান। গোয়েন্দা আধিকারীক বলেন, আমাদের কাছে পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে পৃথক সময় চার জন নিহতের খবর রয়েছে। তাদের প্রত্যেকে জিহাদের উদ্দেশে বাংলাদেশ ছেড়ে গিয়েছিলেন।