ঢাকা ০৯:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিশেষ কিছু এলাকায় অস্বাভাবিক হারে নতুন ভোটার: বিএনপি নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বহীনতায় ফাঁস ১৪ হাজার সাংবাদিকের ব্যক্তিগত তথ্য নারীর সম্মান, স্বাধীনতা ও সমঅধিকার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করবে না বিএনপি নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়ার আশাবাদ তৌহিদ হোসেন নির্বাচনী পরিবেশ ইতিবাচক, ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ জোরদারে গুরুত্ব: প্রধান উপদেষ্টা শিরীণ বেবীর কবিতা ‘জিজ্ঞাসা’ সুবর্ণগ্রাম: এক ছাদের নিচে প্রকৃতি, বিনোদন ও স্বস্তির ঠিকানা (১) বাংলাদেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমলো ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় ২২৪ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ, বিক্রি ৩৯৩ কোটি টাকা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী

নির্বাচনী পরিবেশ ইতিবাচক, ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ জোরদারে গুরুত্ব: প্রধান উপদেষ্টা

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৪:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচনী পরিবেশ ইতিবাচক, ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ জোরদারে গুরুত্ব: প্রধান উপদেষ্টা

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে নির্বাচনী প্রচারের সামগ্রিক পরিবেশ এখন পর্যন্ত ইতিবাচক রয়েছে। রোববার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্স (ইউরোচেম)-এর চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সহজ ও গতিশীল করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ জোরদারে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট এবং সেখানে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়েও মতবিনিময় হয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরুর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যেন বাংলাদেশের রপ্তানি-বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত-ইইউর বাজারে অব্যাহত প্রবেশাধিকার বজায় রাখতে পারে, সে জন্য আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ জরুরি।

অধ্যাপক ইউনূস উল্লেখ করেন, সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পন্ন হয়েছে, যার আওতায় বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩০০-এর বেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দেশের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তি এগিয়ে নিতে আগ্রহী সরকার।

তিনি বলেন, জাপানের সঙ্গে ইপিএ বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ হলে বাংলাদেশের বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে এবং রপ্তানি সক্ষমতা জোরদার হবে।

ইউরোচেমের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধা হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে এফটিএ আলোচনা শুরু করা সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়। তাঁর মতে, এ ধরনের চুক্তি ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং উন্নত পশ্চিমা বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান সুদৃঢ় করবে।

তিনি আরও বলেন, ভারত ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএর পথে অগ্রসর হচ্ছে এবং ভিয়েতনাম আগে থেকেই এ ধরনের সুবিধা পাচ্ছে, যা মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে ইউরোপের বাজারে তাদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে। ইউরোচেম এফটিএর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং ইউরোপে গিয়ে বেসরকারি খাতকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।

ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশ–ইইউ বাণিজ্য সম্পর্কের কাঠামো পরিবর্তিত হবে, তবে তা ২০২৯ সালের আগে কার্যকর হবে না। তিনি জানান, প্রায় ২০ কোটি মানুষের বাজার হিসেবে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরে ইইউ আগ্রহী। এ লক্ষ্যে ২০২৬ সালে একটি ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো যেন বাংলাদেশে সমান সুযোগ পায় এবং বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়, সে জন্য আগাম ও ইতিবাচক রাজনৈতিক বার্তা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষ শ্রমশক্তি ও তুলনামূলক কম উৎপাদন ব্যয় বাংলাদেশের অন্যতম শক্তি। তিনি জানান, সরকার একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তুলছে, যার লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত করা।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ইইউ পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি দেশের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, নির্বাচনী প্রচারের সামগ্রিক পরিবেশ এখন পর্যন্ত ইতিবাচক রয়েছে।

বৈঠকে সরকারের এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদও উপস্থিত ছিলেন। বাসস

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নির্বাচনী পরিবেশ ইতিবাচক, ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ জোরদারে গুরুত্ব: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০৪:৪৪:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে নির্বাচনী প্রচারের সামগ্রিক পরিবেশ এখন পর্যন্ত ইতিবাচক রয়েছে। রোববার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্স (ইউরোচেম)-এর চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সহজ ও গতিশীল করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ জোরদারে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট এবং সেখানে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়েও মতবিনিময় হয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরুর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যেন বাংলাদেশের রপ্তানি-বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত-ইইউর বাজারে অব্যাহত প্রবেশাধিকার বজায় রাখতে পারে, সে জন্য আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ জরুরি।

অধ্যাপক ইউনূস উল্লেখ করেন, সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পন্ন হয়েছে, যার আওতায় বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩০০-এর বেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দেশের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তি এগিয়ে নিতে আগ্রহী সরকার।

তিনি বলেন, জাপানের সঙ্গে ইপিএ বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ হলে বাংলাদেশের বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে এবং রপ্তানি সক্ষমতা জোরদার হবে।

ইউরোচেমের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধা হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে এফটিএ আলোচনা শুরু করা সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়। তাঁর মতে, এ ধরনের চুক্তি ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং উন্নত পশ্চিমা বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান সুদৃঢ় করবে।

তিনি আরও বলেন, ভারত ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএর পথে অগ্রসর হচ্ছে এবং ভিয়েতনাম আগে থেকেই এ ধরনের সুবিধা পাচ্ছে, যা মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে ইউরোপের বাজারে তাদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে। ইউরোচেম এফটিএর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং ইউরোপে গিয়ে বেসরকারি খাতকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।

ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশ–ইইউ বাণিজ্য সম্পর্কের কাঠামো পরিবর্তিত হবে, তবে তা ২০২৯ সালের আগে কার্যকর হবে না। তিনি জানান, প্রায় ২০ কোটি মানুষের বাজার হিসেবে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরে ইইউ আগ্রহী। এ লক্ষ্যে ২০২৬ সালে একটি ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো যেন বাংলাদেশে সমান সুযোগ পায় এবং বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়, সে জন্য আগাম ও ইতিবাচক রাজনৈতিক বার্তা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষ শ্রমশক্তি ও তুলনামূলক কম উৎপাদন ব্যয় বাংলাদেশের অন্যতম শক্তি। তিনি জানান, সরকার একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তুলছে, যার লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত করা।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ইইউ পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি দেশের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, নির্বাচনী প্রচারের সামগ্রিক পরিবেশ এখন পর্যন্ত ইতিবাচক রয়েছে।

বৈঠকে সরকারের এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদও উপস্থিত ছিলেন। বাসস